গরমের দিনে এক বাটি ঠান্ডা দই খেতে ভালোবাসেন না, এমন মানুষ খুব কমই আছেন। কিন্তু বাড়িতে দই পাতার পর অনেকেরই অভিযোগ—দই ঠিকমতো জমে না, আবার জমলেও জল ছেড়ে দেয়। আসলে এই সমস্যার মূল কারণ লুকিয়ে থাকে দুধ নির্বাচন থেকে শুরু করে দই পাতার পদ্ধতিতে। কয়েকটি সহজ কৌশল জানলেই মিলবে দোকানের মতো নিখুঁত দই।

ফুল-ক্রিম দুধ ব্যবহার করুন
ভালো দই তৈরির প্রথম শর্ত হলো সঠিক দুধ নির্বাচন। ফুল-ক্রিম বা বেশি ফ্যাটযুক্ত দুধে দই বেশি ঘন, মসৃণ ও ক্রিমি হয়। কম ফ্যাটযুক্ত বা টোনড দুধে সাধারণত দই পাতলা হয় এবং সহজেই জল ছেড়ে দেয়।
দুধের সঠিক তাপমাত্রা খুবই গুরুত্বপূর্ণ
দুধ ভালোভাবে ফুটিয়ে নেওয়ার পর সেটিকে হালকা গরম অবস্থায় ঠান্ডা করতে হবে। দুধ অতিরিক্ত গরম থাকলে দই টক হয়ে যেতে পারে, আবার বেশি ঠান্ডা হলে ঠিকমতো জমবে না। এমন তাপমাত্রা হওয়া উচিত যাতে আঙুল ডোবালে গরম অনুভূত হয়, কিন্তু অস্বস্তি না লাগে।
মাটির পাত্রে পাতলে দই হবে আরও ঘন
সম্ভব হলে মাটির পাত্রে দই পাতুন। এই ধরনের পাত্র অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষণ করে নেয়, ফলে দই আরও শক্ত ও ঘন হয়। পাশাপাশি মাটির পাত্র দইয়ের স্বাদও আরও প্রাকৃতিক করে তোলে।

দুধের গুঁড়ো মিশিয়ে বাড়ান ঘনত্ব
ফুল-ক্রিম দুধ না পেলে সাধারণ দুধে ১ থেকে ২ চা-চামচ দুধের গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে দুধের সলিড অংশ বেড়ে যায় এবং দই আরও টাইট ও ক্রিমি হয়। তবে দুধের গুঁড়ো যেন সম্পূর্ণভাবে গলে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
দই বসানোর সময় এই ভুল করবেন না
হালকা গরম দুধে এক চামচ টাটকা দই ভালোভাবে মিশিয়ে পাত্র ঢেকে দিন। এরপর মোটা কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে পাত্র জড়িয়ে রাখুন, যাতে ভেতরের তাপমাত্রা বজায় থাকে। ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত দই একেবারেই নাড়াচাড়া করবেন না। এতে দই সুন্দরভাবে জমে যাবে।

জমে গেলে ফ্রিজে রাখুন
দই জমার পর সঙ্গে সঙ্গে খাওয়ার পরিবর্তে ১ থেকে ২ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন। ঠান্ডা পরিবেশে দই আরও ভালোভাবে সেট হয় এবং জল ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও অনেকটাই কমে যায়।

বাড়িতে দই পাতলেও অনেক সময় তা ঠিকমতো জমে না বা কিছুক্ষণ পরেই জল ছেড়ে দেয়। তবে সঠিক দুধ, উপযুক্ত তাপমাত্রা এবং কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে ঘরেই তৈরি করা সম্ভব দোকানের মতো ঘন, টাইট ও ক্রিমি দই।








