জামাইষষ্ঠীর ভুরিভোজে গ্যাস-অম্বল এড়াতে কী করবেন? ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে মানুন এই সহজ নিয়ম

জামাইষষ্ঠীর ভুরিভোজের পর গ্যাস, অম্বল ও বদহজম এড়াতে কী করবেন? ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য রইল বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের টিপস।

জামাইষষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ভুরিভোজে সুস্বাদু খাবারের হাতছানি এড়ানো কঠিন। কিন্তু একসঙ্গে অতিরিক্ত খাওয়া শরীরের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে, বিশেষ করে যাঁরা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন। তাই উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও প্রয়োজন কিছু সচেতনতা।

জামাইষষ্ঠীর ভোজে কেন সতর্ক থাকা জরুরি?

উৎসবের দিনে সাধারণের তুলনায় অনেক বেশি খাবার খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার, মিষ্টি এবং কোমল পানীয় একসঙ্গে গ্রহণ করলে বদহজম, গ্যাস, অম্বল, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শুরু থেকেই খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকবেন না

বিশেষজ্ঞদের মতে, সারাদিন না খেয়ে থেকে দুপুর বা রাতে একসঙ্গে অনেকটা খাবার খাওয়া উচিত নয়। সকালে বা দুপুরের আগে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খেলে পরিপাকতন্ত্রের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না এবং অতিভোজনের প্রবণতাও কমে।

অল্প অল্প করে খান, পর্যাপ্ত জল পান করুন

একসঙ্গে বেশি খাবারের পরিবর্তে অল্প অল্প করে বিভিন্ন পদ খাওয়াই ভালো। খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত জল, সালাদ এবং মৌসুমি ফল রাখলে হজমে সুবিধা হয়। অতিরিক্ত মিষ্টি ও চিনিযুক্ত পানীয় যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

খাওয়ার পর হাঁটাহাঁটি করুন

চিকিৎসকদের মতে, ভুরিভোজের পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়া উচিত নয়। অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট ধীরে হাঁটাহাঁটি করলে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে এবং গ্যাস-অম্বলের সম্ভাবনাও কমে।

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ

যাঁদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্‌রোগ রয়েছে, তাঁদের খাবারের পরিমাণ ও মিষ্টি গ্রহণে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। অতিরিক্ত লবণ, তেল ও চিনি এড়িয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ।

জামাইষষ্ঠী মানেই মাছ, মাংস, মিষ্টি আর নানা পদের জমজমাট ভোজ। তবে অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে গ্যাস, অম্বল, বদহজম কিংবা রক্তে শর্করা ও রক্তচাপের ওঠানামার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সহজ খাদ্যাভ্যাস মেনে চললেই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করা যাবে সুস্থ থেকেও।

Leave a comment