শহরের কোলাহল থেকে দূরে কয়েকটা দিন প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটাতে চাইছেন? তাহলে বর্ষার এই সময়ে ঘুরে আসতে পারেন বাঁকুড়ার রানিবাঁধের সুতান গ্রাম ও জঙ্গলবাড়ি ইকো পার্কে। বৃষ্টিভেজা শাল-পলাশের জঙ্গল, লাল মাটির পথ আর নিস্তব্ধ পরিবেশ আপনাকে এনে দেবে এক অন্যরকম শান্তির অনুভূতি।

বর্ষায় নতুন রূপে সেজে ওঠে সুতান
বাঁকুড়ার রানিবাঁধ এলাকার সুতান প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। চারদিকে শাল, পলাশ ও মহুলের ঘন অরণ্য, লাল মাটির আঁকাবাঁকা পথ এবং নির্মল পরিবেশ এই জায়গাকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। বর্ষার বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়া বনপথ আর সবুজে মোড়া প্রকৃতি যেন এক জীবন্ত ক্যানভাস তৈরি করে।
জঙ্গলবাড়ি ইকো পার্কে প্রকৃতির কোলে নিরিবিলি অবকাশ
সুতানের অন্যতম আকর্ষণ জঙ্গলবাড়ি ইকো পার্ক। ঘন জঙ্গলের মাঝখানে গড়ে ওঠা এই ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য আদর্শ। এখানে রয়েছে ছোট ছোট কটেজ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং থাকার পাশাপাশি স্থানীয় খাবারের ব্যবস্থাও। সকালে পাখির কূজন আর সন্ধ্যার নীরবতা পর্যটকদের মন ছুঁয়ে যায়।
কী কী উপভোগ করবেন?
সুতানে গেলে শুধু জঙ্গলই নয়, আশপাশের ছোট ঝরনা, বনপথে হাঁটা, পাখি দেখা এবং গ্রামবাংলার সহজ-সরল জীবনযাত্রার স্বাদও উপভোগ করা যায়। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় লাল মাটির প্রান্তর আর সবুজ অরণ্যের অপূর্ব মেলবন্ধন ক্যামেরাবন্দি করার মতো এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

পর্যটকদের মন কেড়েছে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ
এখানে আসা পর্যটকদের মতে, প্রকৃতির মাঝে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করে দেয়। পাশাপাশি বন সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিতে ইকো পার্কে গাছ লাগানোর উৎসাহ এবং জঙ্গলে আগুন না জ্বালানোর বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে, যা এই পর্যটন কেন্দ্রের অন্যতম ইতিবাচক দিক।

বর্ষার উইকেন্ড ট্রিপের আদর্শ ঠিকানা
বর্ষার শুরুতেই সুতান ও জঙ্গলবাড়ি ইকো পার্কের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বৃষ্টিতে ধোয়া লাল মাটির রাস্তা, সতেজ সবুজ বনভূমি এবং শান্ত পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অনবদ্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে। সপ্তাহান্তের ছোট্ট সফরে পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য এটি হতে পারে দারুণ একটি অফবিট গন্তব্য।

বর্ষার আগমনে নতুন রূপে সেজে ওঠে বাঁকুড়ার রানিবাঁধের সুতান ও জঙ্গলবাড়ি ইকো পার্ক। শাল, পলাশ, মহুলের ঘন জঙ্গল, লাল মাটির পথ, নিরিবিলি পরিবেশ এবং প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য মিলিয়ে এটি এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দের অফবিট ভ্রমণ গন্তব্য।








