একটা ক্যানভাস, রঙিন সুতো আর সূচ—এই তিন উপকরণেই তৈরি হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিকৃতি। হাওড়ার বিকিহাঁকোলা গ্রামের জড়িশিল্পী অমল পল্যে প্রায় এক মাস ধরে পরিশ্রম করে এই ছবি তৈরি করেছেন। তাঁর লক্ষ্য শুধু নিজের শিল্পকর্ম প্রদর্শন নয়, জড়িশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরা। শিল্পীর ইচ্ছা, তৈরি করা প্রতিকৃতিটি তিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেবেন।
সূচ-সুতোয় ফুটে উঠল মুখ্যমন্ত্রীর মুখ
সাধারণ রং-তুলি নয়, সূক্ষ্ম সূচের ফোঁড় আর রঙিন পলিয়েস্টার সুতো দিয়েই ক্যানভাসের উপর তৈরি হয়েছে প্রতিকৃতিটি। একাধিক রঙের সুতো ব্যবহার করে ধাপে ধাপে ছবির বিভিন্ন অংশ ফুটিয়ে তুলেছেন অমল।এই কাজের জন্য তাঁকে টানা প্রায় এক মাস সময় দিতে হয়েছে। সূচ-সুতোয় এমন প্রতিকৃতি তৈরি করতে প্রয়োজন হয় ধৈর্য, নিখুঁত হাতের কাজ এবং দীর্ঘ সময় ধরে একাগ্রতা।
জড়িশিল্পের সঙ্গে অমলের দীর্ঘ সম্পর্ক
হাওড়ার বিকিহাঁকোলা গ্রামের বাসিন্দা অমল পল্যে পেশায় জড়িশিল্পী। তবে প্রচলিত জড়ির কাজের পাশাপাশি নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি সুতো দিয়ে ক্যানভাসে নানা ধরনের ছবি তৈরি করেন।এর আগে তাঁর হাতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, মাদার টেরিজা, রামলালা এবং রামমন্দিরের মতো বিভিন্ন প্রতিকৃতিও ফুটে উঠেছে। একটি ছবি সম্পূর্ণ করতে কখনও ২৫-৩০ দিন, আবার কখনও দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগে বলে জানা গিয়েছে।
কেন এই উদ্যোগ?
অমলের বক্তব্য অনুযায়ী, হাওড়ার গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িশিল্পের সম্পর্ক রয়েছে। বাগনান, উলুবেড়িয়া, পাঁচলা, সাঁকরাইল-সহ একাধিক এলাকার বহু পরিবার এই কাজের উপর নির্ভর করত।গ্রামের বাড়ি কিংবা ছোট-বড় কারখানায় একসঙ্গে বহু কারিগর কাজ করতেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে জড়ির কাজের চাহিদা কমায় দক্ষ কারিগরদের একাংশ সমস্যায় পড়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে নিজের শিল্পকর্মের মাধ্যমে জড়িশিল্পের সমস্যার দিকে নজর আকর্ষণ করতে চান অমল।
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কী দাবি শিল্পীর?
শিল্পীর দাবি, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন মেলায় অংশ নেওয়া জড়িশিল্পীদের অনুদান বা সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিল্পীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করারও প্রয়োজন রয়েছে বলে তাঁর মত।এই দাবিগুলিই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে নিজের তৈরি প্রতিকৃতিটি সরাসরি তাঁর হাতে তুলে দিতে চান অমল।
এক একটি ছবিতে লাখ লাখ সেলাই
অমলের তৈরি প্রতিকৃতিগুলির বিশেষত্ব হল, এগুলিতে রং ব্যবহার না করে মূলত বিভিন্ন রঙের সুতো দিয়ে ছবির অবয়ব তৈরি করা হয়। ক্যানভাসের উপর অসংখ্য সূক্ষ্ম সেলাইয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ফুটে ওঠে মুখের বিভিন্ন রেখা ও বৈশিষ্ট্য।ফলে একটি ছবি তৈরি করতে দীর্ঘ সময় লাগে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে একাধিক মাস ধরে কাজ করতে হয় বলে জানা গিয়েছে।
জড়িশিল্পকে নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা
অমলের এই উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী জড়ির কাজের সঙ্গে শিল্পকর্মের একটি ভিন্ন ধারার মেলবন্ধন দেখা যাচ্ছে। প্রচলিত পোশাকের কাজের বাইরে ক্যানভাসে প্রতিকৃতি তৈরির মাধ্যমে জড়ির সূক্ষ্ম কাজকে অন্যভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরছেন তিনি।তাঁর তৈরি মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিকৃতিও সেই প্রচেষ্টারই একটি অংশ বলে শিল্পীর বক্তব্য।
হাওড়ার গ্রামীণ এলাকায় জড়িশিল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু কারিগর বর্তমানে কাজের সংকটের মুখে পড়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন বাগনানের বিকিহাঁকোলা গ্রামের জড়িশিল্পী অমল পল্যে। রঙিন পলিয়েস্টার সুতো ও সূচ ব্যবহার করে প্রায় এক মাস ধরে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি প্রতিকৃতি তৈরি করেছেন। শিল্পীর বক্তব্য, জড়িশিল্পীদের সমস্যা ও সরকারি মেলায় শিল্পীদের সহায়তা বাড়ানোর দাবির দিকে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তাঁর এই উদ্যোগ।










