রবিবার ভোররাতে আতঙ্কের মুহূর্ত তৈরি হয় হাওড়ার লিলুয়ার দাসপাড়া এলাকায়। ঘুমন্ত অবস্থায় হঠাৎ বিকট শব্দে চমকে ওঠেন বাসিন্দারা। চোখ খুলতেই দেখা যায় দাউদাউ করে জ্বলছে গোটা বাড়ি। মুহূর্তের মধ্যে আগুন গ্রাস করে চার ভাইয়ের চারটি ঘর ও একটি মুদির দোকান। প্রাণে বাঁচলেও সর্বস্ব হারিয়ে কার্যত পথে বসেছে পরিবারটি।
গভীর রাতে আচমকা আগুন, আতঙ্কে ছুটলেন বাসিন্দারা
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লিলুয়া দাসপাড়ার অটোস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি টালির চালের বাড়িতে হঠাৎ আগুন লাগে। রাতের অন্ধকারে প্রথমে কেউ বিষয়টি বুঝে উঠতে পারেননি। যখন আগুন নজরে আসে, তখন তা ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। আগুনের তাপ ও ধোঁয়ায় গোটা এলাকা আতঙ্কে ভরে ওঠে।
চোখের সামনে ভস্মীভূত চার ভাইয়ের সংসার
অগ্নিকাণ্ডে বাড়ির ভিতরে থাকা আসবাবপত্র, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি সবই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। শুধু বসতবাড়িই নয়, বাড়ির সঙ্গে লাগোয়া একটি মুদির দোকানও আগুনে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু বছরের সঞ্চয় মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
ধোঁয়ার মধ্যেই প্রাণ বাঁচানোর লড়াই
পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রথমে ঘরের ভিতরে অস্বাভাবিক ধোঁয়া ঢুকতে শুরু করে। ধোঁয়ার গন্ধ পেয়ে ঘুম ভাঙতেই তারা আগুনের বিষয়টি বুঝতে পারেন। কোনওরকমে বাইরে বেরিয়ে এসে নিজেদের প্রাণ বাঁচান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বাড়ির ভিতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারও দ্রুত বাইরে সরিয়ে ফেলা হয়, ফলে আরও বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয়দের চেষ্টা ব্যর্থ, দমকলের দীর্ঘ লড়াই
আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। প্রাথমিকভাবে নিজেরাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে আগুন অনেকটাই ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে খবর পেয়ে দমকলের দুটি ইঞ্জিন এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা, শুরু তদন্ত
পরিবারের সদস্য প্রশান্ত দাস জানান, কীভাবে আগুন লাগল তা এখনও তাঁদের জানা নেই। আগুন লাগার সময় সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। দমকল ও পুলিশ সূত্রেও এখনও অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। শর্ট সার্কিট, বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হাওড়ার লিলুয়ায় ভোররাতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেল চার ভাইয়ের বসতবাড়ি ও সংলগ্ন মুদির দোকান। গভীর রাতে বিকট শব্দ ও ধোঁয়ার মধ্যে ঘুম ভাঙতেই প্রাণ বাঁচাতে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা। দমকলের দুই ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিপুল। কী কারণে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।












