বাঁকা জেলায় কম সুদের লোনের নামে শতাধিক নারীর কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা প্রতারণার অভিযোগ

বাঁকা জেলায় কম সুদের হারে পার্সোনাল লোন দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে শতাধিক নারীর কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর ও লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

বাঁকা জেলায় কম সুদের হারে পার্সোনাল লোন দেওয়ার নামে শতাধিক নারীর কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা প্রতারণার একটি ঘটনা সামনে এসেছে। সহজ কিস্তি ও দ্রুত লোন অনুমোদনের আশ্বাস দিয়ে প্রতারকরা বিভিন্ন অজুহাতে নারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়ে লোন না পাওয়া এবং জমা দেওয়া অর্থ ফেরত না আসায় ভুক্তভোগীরা প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতারকরা নিজেদের একটি বেসরকারি ফাইন্যান্স সংস্থা বা মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়ে গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় যোগাযোগ করে। তারা জানায়, খুব কম সুদের হারে পার্সোনাল লোন দেওয়া হবে, যার জন্য প্রসেসিং ফি, ফাইল চার্জ এবং বীমা ফি বাবদ অর্থ জমা দিতে হবে। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে কিছু নথিপত্র দেখানো হয় এবং দ্রুত লোন পাশের দাবি করা হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতারকরা নারীদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ আদায় করে। শুরুতে কয়েকজনকে জানানো হয় যে তাঁদের লোন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পরে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রতারকদের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং যে ঠিকানা দেওয়া হয়েছিল তা ভুয়া বলে জানা যায়। এরপর পারস্পরিক আলোচনায় প্রতারণার বিস্তার প্রকাশ পায়।

প্রতারিত নারীরা জানান, গৃহস্থালির প্রয়োজন, চিকিৎসা ব্যয় এবং ছোট ব্যবসার জন্য লোনের আশায় তাঁরা সঞ্চয় ও ধার করা অর্থ পর্যন্ত দিয়েছিলেন। অনেকেই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত থাকায় প্রতারণার পর তাঁদের ওপর ঋণ পরিশোধের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে, যার ফলে পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।

ঘটনায় ক্ষুব্ধ শতাধিক নারী একত্রিত হয়ে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রতারকরা পরিকল্পিতভাবে গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে নারীদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে কম সুদের লোভ দেখিয়ে প্রতারণা চালায়।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার পাশাপাশি যেসব মোবাইল নম্বর ও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে, সেগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জেলায় আগেও ভুয়া লোন ও প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে, তবে সচেতনতার অভাবে মানুষ বারবার প্রতারিত হচ্ছে। তাঁদের দাবি, এই ধরনের ভুয়া ফাইন্যান্স এজেন্টদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হোক এবং গ্রামীণ এলাকায় সচেতনতা বাড়ানো হোক।

পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ভুক্তভোগী নারীরা ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।

Leave a comment