এমজিএনরেগার নাম পরিবর্তনের কেন্দ্রীয় প্রস্তাবের বিরুদ্ধে প্রস্তাব গ্রহণ তামিলনাড়ু বিধানসভায়

তামিলনাড়ু বিধানসভা মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আর কেন্দ্রীয় প্রস্তাবের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। প্রস্তাবে প্রকল্পের কাজের অধিকার, তহবিল বরাদ্দ, রাজ্যগুলির আর্থিক দায়িত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিষয়গুলি উত্থাপন করা হয়েছে।

তামিলনাড়ু বিধানসভা মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (MGNREGA)-এর নাম পরিবর্তনের কেন্দ্রীয় প্রস্তাবের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্টালিন বিধানসভায় বলেন, এই প্রকল্পটি গ্রামীণ কর্মসংস্থান, নারীদের অংশগ্রহণ এবং কাজের অধিকারের মৌলিক চেতনার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত।

বিধানসভায় গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এমজিএনরেগা কেবল একটি সরকারি প্রকল্প নয়, বরং দেশের কোটি কোটি গ্রামীণ পরিবারের জীবিকার নিশ্চয়তা। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই আইনের নাম থেকে মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ দেওয়া হলে তা কেবল প্রতীকী পরিবর্তন হবে না, বরং প্রকল্পটির মূল চেতনায় আঘাত করবে।

প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে মহাত্মা গান্ধীর নাম এই আইন থেকে বিচ্ছিন্ন করার চিন্তা অবিলম্বে পরিত্যাগ করা হয়। তামিলনাড়ু সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এই আইনের সঙ্গে মহাত্মা গান্ধীর নাম যুক্ত থাকা সংবিধান, সামাজিক ন্যায় এবং গ্রামীণ উন্নয়নের মূল্যবোধের প্রতীক।

মুখ্যমন্ত্রী স্টালিন বলেন, এমজিএনরেগা দেশের সবচেয়ে দুর্বল শ্রেণির মানুষকে মর্যাদার সঙ্গে কাজ পাওয়ার অধিকার দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই আইনের নাম থেকে গান্ধীর নাম সরানো হলে তা ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার এবং সামাজিক বার্তাকে ক্ষুণ্ন করবে।

প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল বরাদ্দ নীতির বিষয়টিও উত্থাপন করা হয়েছে। তামিলনাড়ু সরকার অভিযোগ করেছে যে বর্তমানে কেন্দ্র সরকার অনুমানভিত্তিক হিসাবের মাধ্যমে রাজ্যগুলিকে তহবিল বরাদ্দ করছে। রাজ্য সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী ব্যবস্থায় গ্রামীণ এলাকা থেকে আসা প্রকৃত কর্মসংস্থানের চাহিদার ভিত্তিতে তহবিল দেওয়া হতো, যার ফলে শ্রমিকরা সময়মতো কাজ ও মজুরি পেতেন। বর্তমান ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ফলে রাজ্যগুলির সমস্যা বাড়ছে এবং শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে বিলম্ব হচ্ছে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিধানসভা কেন্দ্রের কাছে দাবি জানিয়েছে যাতে প্রকৃত কর্মসংস্থানের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া পূর্ববর্তী তহবিল বরাদ্দ ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া হয়।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, এমজিএনরেগা নারীদের, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তফসিলি জাতি এবং তফসিলি জনজাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। তামিলনাড়ু সরকারের মতে, এই প্রকল্পে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা তাঁদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। মুখ্যমন্ত্রী স্টালিন বলেন, গ্রামীণ এলাকায় বাড়ির কাছাকাছি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ায় নারীদের আয় ও সামাজিক অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে।

কেন্দ্রের প্রস্তাবিত বিকশিত ভারত রোজগার ও আজীবিকা মিশন গ্রামীণ (VB-G-RAM-G Act 2025)-এর অধীনে রাজ্যগুলির অবদান ৪০ শতাংশে বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধেও বিধানসভা আপত্তি জানিয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাজ্যগুলির উপর আর্থিক বোঝা বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব গ্রামীণ জীবিকা প্রকল্পগুলির উপর পড়বে। তামিলনাড়ু সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, কল্যাণমূলক প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্ব ইতিমধ্যেই রাজ্যগুলির উপর রয়েছে এবং কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপানো যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী।

প্রস্তাবে গ্রামীণ নাগরিকদের কাজের অধিকারকে সাংবিধানিক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্টালিন বলেন, এমজিএনরেগা দুর্বল গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রকল্প দুর্বল হলে গ্রামীণ এলাকায় বেকারত্ব, অভিবাসন এবং সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি পেতে পারে। তিনি বলেন, যেকোনো পরিবর্তনের আগে রাজ্যগুলির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা উচিত।

এই প্রস্তাব এমন সময়ে গৃহীত হয়েছে, যখন তামিলনাড়ু বিধানসভায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত। সম্প্রতি রাজ্যপাল আর.এন. রবি বিধানসভায় ডিএমকে সরকারের প্রস্তুত ভাষণ পাঠ করতে অস্বীকার করার ঘটনাও আলোচনায় আসে। মুখ্যমন্ত্রী স্টালিন এই ঘটনাকে সাংবিধানিক রীতির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।

স্টালিন বলেন, রাজ্যপাল এবং কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে ডিএমকে সমমনস্ক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করে সংসদে সাংবিধানিক সংশোধনের বিষয়টি বিবেচনা করবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যগুলির অধিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

Leave a comment