ভারতে আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে আবারও পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (IMD) আগামী ২৩ ঘণ্টার মধ্যে দেশের ১৭টি রাজ্যে ভারী বৃষ্টি, বজ্রঝড় ও দমকা হাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে। একাধিক এলাকায় ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বজ্রপাতের ঝুঁকির কথাও জানানো হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর ভারত, পূর্ব ভারত এবং দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথক আবহাওয়াগত ব্যবস্থার সক্রিয়তার ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কৃষক এবং পার্বত্য অঞ্চলে ভ্রমণকারীদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
IMD-এর তথ্য অনুযায়ী, উত্তর প্রদেশ, বিহার, দিল্লি, হরিয়ানা, রাজস্থান, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মধ্য প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ছত্তীসগঢ়, অসম, অরুণাচল প্রদেশ, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্র প্রদেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব রাজ্যে প্রবল বাতাসের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়া, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছে। উত্তর ভারতের একাধিক অঞ্চলে তীব্র গরমের পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতাও জারি রয়েছে।

দিল্লিতে ঘণ্টায় ৬০–৬৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর প্রদেশে ঘণ্টায় ৭০–৭৫ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া এবং একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিহারে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বেগে বাতাস এবং বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগর ও সংলগ্ন এলাকায় ঝড়ো পরিস্থিতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গে আগামী ২–৩ দিন ধারাবাহিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। গঙ্গার সমভূমি অঞ্চলে একটি নিম্নচাপ বলয় সক্রিয় থাকায় আবহাওয়া আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। এসব এলাকায় প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত, কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা এবং গ্রামীণ অঞ্চলে বজ্রাঘাতের ঝুঁকি রয়েছে।
উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ এবং জম্মু ও কাশ্মীরে প্রতিকূল আবহাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। IMD ভ্রমণকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। হিমাচল প্রদেশে ঘণ্টায় ৬০–৬৫ কিলোমিটার এবং উত্তরাখণ্ডে ঘণ্টায় ৬৫–৭০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে। জম্মু ও কাশ্মীরের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব অঞ্চলে ভূমিধস এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে।
দক্ষিণ ভারতে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে এবং কেরল, তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
কেরলে জেলেদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তামিলনাড়ুতে ঘণ্টায় ৫০–৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে। অন্ধ্র প্রদেশের একাধিক জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
IMD বিশেষভাবে কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে, কারণ প্রবল বাতাসে দাঁড়ানো ফসলের ক্ষতি হতে পারে। বজ্রপাতের ঘটনাকে বিবেচনায় নিয়ে খোলা স্থানে না যাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।










