ফিলিপাইনের মিন্দানাওয়ে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ৩৭ নিহত, ৪৮৭ আহত; শত শত আফটারশক অব্যাহত

ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পের পর শত শত আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩৭ জন নিহত ও ৪৮৭ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ভবন ধস, সড়ক ক্ষতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার মধ্যে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

মিন্দানাও দ্বীপে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে পরিস্থিতি সংকটপূর্ণ রয়ে গেছে। মূল ভূমিকম্পের পর শত শত আফটারশক অনুভূত হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে ৩৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ৪৮৭ জনের বেশি আহত হয়েছেন। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলমান থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রধান ভূমিকম্পের পর মিন্দানাও জুড়ে ধারাবাহিকভাবে ছোট-বড় কম্পন অনুভূত হচ্ছে। আফটারশকগুলোর কারণে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়েছে, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে ভূমিধসের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও টেলিফোন সেবা সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া এবং জাপানের কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। এর ফলে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

পরে ঝুঁকি কিছুটা কমলেও সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় ফিলিপাইন সরকার প্রশাসনের সব স্তরকে সক্রিয় করেছে। প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুততর করার নির্দেশ দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবহন বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা মিন্দানাওয়ে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২,০০০টি বাড়ি এবং ৬,০০০টির বেশি স্কুল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থাপনা সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে, আর বহু ভবন কাঠামোগতভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

গ্রামীণ ও শহুরে উভয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, যার ফলে হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কম্পন এতটাই প্রবল ছিল যে ভবনগুলো কাঁপতে শুরু করে এবং অনেক মানুষ দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। কয়েকটি স্কুলে ঘটনার সময় শিক্ষার্থীরা ভবনের বাইরে থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

একজন শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল এবং তাদের সামলানো কঠিন হয়ে উঠেছিল।

ফিলিপাইন প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ নিয়মিত ঘটে থাকে। এ কারণে দেশটি প্রায়ই ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোটাবাটো ট্রেঞ্চ এলাকায় প্লেটের নড়াচড়ার কারণে এই ভূমিকম্প হয়েছে। এই অঞ্চল অতীতেও বড় ভূমিকম্পের উৎস ছিল।

একই অঞ্চলে ১৯৭৬ সালে ৭.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় ৫,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমান ভূমিকম্প সেই ঘটনার স্মৃতি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

ভূমিধস এবং ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর কারণে অনেক এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েকটি শহরে ত্রাণসামগ্রী কেবল আকাশপথে পাঠানো হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসনের মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দূরবর্তী গ্রামগুলোতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।

প্রেসিডেন্ট মার্কোস জুনিয়রের নির্দেশে জরুরি সেবাদানকারী দলগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসক ও ত্রাণকর্মীরা আহতদের চিকিৎসা দিচ্ছেন, আর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষের সন্ধান করছেন।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আফটারশক অব্যাহত থাকলেও ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চলবে।

 

Leave a comment