নরেন্দ্র মোদি ভারতের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনকারী নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হলেন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১০ জুন ২০২৬-এ টানা ৪,৩৯৯ দিনের নির্বাচিত মেয়াদ পূর্ণ করে জওহরলাল নেহরুর ৪,৩৯৮ দিনের রেকর্ড অতিক্রম করেছেন। একই দিনে কেন্দ্রে মোদি সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে এনডিএর বৈঠকও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে নতুন একটি রেকর্ড গড়ে টানা সর্বাধিক সময় দায়িত্ব পালনকারী নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১০ জুন ২০২৬-এ তিনি টানা ৪,৩৯৯ দিনের নির্বাচিত মেয়াদ পূর্ণ করে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ৪,৩৯৮ দিনের রেকর্ড অতিক্রম করেন।

এই রেকর্ডটি টানা নির্বাচিত মেয়াদের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রে মোদি সরকারের ১২ বছরও পূর্ণ হয়েছে।

স্বাধীনতার পর জওহরলাল নেহরু ১৯৪৭ সাল থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর মেয়াদের গণনা ১৯৫১-৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর ১৯৫২ সালের মে মাস থেকে শুরু হয়। তিনি ২৭ মে ১৯৬৪ পর্যন্ত টানা ৪,৩৯৮ দিন এই পদে ছিলেন।

নরেন্দ্র মোদি প্রথমবার ২০১৪ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে বিজয়ী হয়ে তিনি তাঁর মেয়াদ অব্যাহত রাখেন। ১০ জুন ২০২৬-এ তিনি টানা ৪,৩৯৯ দিনের সীমা অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্জন ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনসমর্থনের ধারাবাহিকতাকে প্রতিফলিত করে।

এই উপলক্ষে নয়াদিল্লিতে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ভারতীয় জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং জোটের অন্যান্য শরিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল, উন্নয়নমূলক কর্মসূচি এবং জোটের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং তাঁদের সম্মানে একটি বিশেষ নৈশভোজেরও আয়োজন করা হবে।

নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক যাত্রা ভারতীয় রাজনীতির বহুল আলোচিত পথচলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর জন্ম গুজরাটের একটি সাধারণ পরিবারে এবং জীবনের প্রাথমিক সময় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়। সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রচারক হিসেবে কাজ করেন এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ভারতীয় জনতা পার্টির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে তোলেন।

২০০১ সালে মোদি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হন এবং প্রায় ১৩ বছর রাজ্যের নেতৃত্ব দেন। এরপর ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপির নেতৃত্বে জয়লাভ করে তিনি প্রথমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন।

প্রধানমন্ত্রী মোদি ২০১৪, ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে বিজয় অর্জন করেন। তাঁর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক নীতিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে অনুচ্ছেদ ৩৭০-এর বিধান অপসারণ, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, বৃহৎ পরিসরে অবকাঠামো উন্নয়ন, উৎপাদন ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করার উদ্যোগ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সরকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ডিজিটাল রূপান্তর, সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি এবং বৈশ্বিক মঞ্চে ভারতের ভূমিকা শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী দল এবং বিভিন্ন বিশ্লেষক সরকারের একাধিক নীতির বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতামত উপস্থাপন করেছেন, যার ফলে ভারতীয় গণতন্ত্রে বিস্তৃত রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

 

Leave a comment