ভারতের আবহাওয়ায় ফের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে, বঙ্গোপসাগর থেকে মধ্য প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত প্রায় ৭,০০০ থেকে ১০,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেঘের বিস্তৃত বলয় তৈরি হয়েছে। এই মেঘমালার মধ্যে একাধিক ট্রপিক্যাল সিস্টেম সক্রিয় থাকায় আগামী দিনগুলিতে বর্ষা নতুন করে জোর পেতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। বিশেষ করে উত্তর ভারতের পাহাড়ি এলাকা এবং উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল বিশাল মেঘের বলয়
সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণে উত্তর পাকিস্তান, জম্মু-কাশ্মীর এবং উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে উল্লেখযোগ্য বায়ুমণ্ডলীয় অস্থিরতা ধরা পড়েছে। একই সঙ্গে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প প্রবেশ করছে, যা বর্ষাকে আরও সক্রিয় করে তুলতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি একটি শক্তিশালী পশ্চিমী ঝঞ্ঝার আগমনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কোন কোন রাজ্যে বাড়তে পারে বৃষ্টির দাপট?
পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সক্রিয় হলে উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্যে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সম্ভাব্য প্রভাব পড়তে পারে—
জম্মু ও কাশ্মীর
হিমাচল প্রদেশ
উত্তরাখণ্ড
পঞ্জাব
হরিয়ানা
দিল্লি
পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ
কিছু এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রপাত, ধুলোঝড় এবং বিচ্ছিন্ন শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা
আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ নজরে রয়েছে—
দার্জিলিং
কালিম্পং
জলপাইগুড়ি
আলিপুরদুয়ার
কোচবিহার
এই জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
দক্ষিণবঙ্গ ও কলকাতার আবহাওয়া কেমন থাকবে?
দক্ষিণবঙ্গে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সরাসরি প্রভাব তুলনামূলক কম থাকলেও বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্পের প্রবাহ বাড়ার ফলে আগামী কয়েক দিনে বজ্রবিদ্যুৎসহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মূলত বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে একাধিক দফায় বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও স্বল্প সময়ের জন্য ভারী বর্ষণও হতে পারে।
তাপমাত্রাও কমতে পারে
বৃষ্টির প্রভাবে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। একই সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতার অস্বস্তিও কিছুটা কমবে। গত কয়েক দিনের গুমোট আবহাওয়া থেকে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
বর্ষা আরও সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়তে থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। সেই পরিস্থিতি তৈরি হলে দক্ষিণবঙ্গেও বর্ষার বৃষ্টি আরও জোরদার হতে পারে।
বঙ্গোপসাগর থেকে মধ্য প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল মেঘমালার জেরে বায়ুমণ্ডলে নতুন করে সক্রিয়তা বাড়ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও জলীয় বাষ্পের মিলিত প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে দেশের একাধিক রাজ্যে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গেও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি বাড়তে পারে।












