৩৫ ডিগ্রিতেই অনুভূত ৪৩! তীব্র গরমে হাঁসফাঁস উত্তরবঙ্গ, কবে স্বস্তি আনবে বর্ষা? জানাল IMD

জলপাইগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গে তীব্র গরমে নাজেহাল মানুষ। ৩৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছে ৪৩ ডিগ্রির মতো। কবে কেরালায় ঢুকছে বর্ষা এবং বাংলায় কবে মিলবে স্বস্তি, জানাল IMD।

দিনের শুরু থেকেই সূর্যের তেজ যেন আগুন ঝরাচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা ও অস্বস্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে যে, ঘরের বাইরে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়ছে। উত্তরবঙ্গের সমতল অঞ্চল থেকে ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ এলাকা— সর্বত্রই একই চিত্র। বৃষ্টির দেখা না মেলায় এবং বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত। শুধু মানুষই নয়, চরম গরমে নাজেহাল পশুপাখিরাও। তাই এখন সকলের একটাই প্রশ্ন— কবে স্বস্তি এনে দেবে বর্ষা? 

উত্তরবঙ্গে বাড়ছে অস্বস্তিকর গরম

জলপাইগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকলেও বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের কারণে অনুভূত তাপমাত্রা অনেক বেশি। ফলে বাইরে বেরোলেই শরীরে জ্বালা, ঘাম এবং অস্বস্তি বেড়ে যাচ্ছে।দুপুরের পর রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। জরুরি কাজ ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে চাইছেন না। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের আবহাওয়ায় হিট স্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন এবং তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

বাজারে বেড়েছে কুলিং ডিভাইসের চাহিদা

প্রচণ্ড গরমের প্রভাব পড়েছে বাজারেও। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স দোকানে ফ্যান, কুলার এবং পোর্টেবল হাই-স্পিড ফ্যানের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেকেই অতিরিক্ত গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে নতুন কুলিং ডিভাইস কিনছেন।ব্যবসায়ীদের দাবি, গত কয়েক দিনের তুলনায় ফ্যান ও কুলারের চাহিদা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ছোট আকারের বহনযোগ্য ফ্যানের বিক্রি বেশি হচ্ছে।

পাহাড়েও মিলছে না স্বস্তি

পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় সন্ধ্যার পর কিছুটা আরাম মিললেও দিনের বেলায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি থাকছে।

বর্ষা কবে ঢুকবে দেশে?

এই গরমের মধ্যেই কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু আগামী ৪ জুন কেরালায় প্রবেশ করতে পারে। এর মাধ্যমে দেশে বর্ষার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।কেরালায় বর্ষা প্রবেশের পর ধাপে ধাপে তা দক্ষিণ ভারতের অন্যান্য রাজ্য এবং পরবর্তীতে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে অগ্রসর হবে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার গতিবিধি অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পূর্বভারতের আবহাওয়াতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে পারে।

দক্ষিণ ভারতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

IMD জানিয়েছে, বর্ষা প্রবেশের পর কেরালার একাধিক জেলায় আগামী ৬ থেকে ৭ দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকের বিভিন্ন এলাকাতেও প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।আরব সাগর থেকে বিপুল পরিমাণ আর্দ্রতা বহন করে মৌসুমী বায়ু উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ায় দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বর্ষার প্রভাব দ্রুত বাড়বে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়, বিশেষ করে জলপাইগুড়িতে, তীব্র গরম ও আর্দ্রতার কারণে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকলেও অনুভূত তাপমাত্রা পৌঁছে যাচ্ছে ৪৩ ডিগ্রির কাছাকাছি। এদিকে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, আগামী ৪ জুন কেরালায় প্রবেশ করতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু, যা বর্ষার আনুষ্ঠানিক সূচনা করবে।

Leave a comment