চোট কাটিয়ে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম টি-২০-তে বল হাতে নিজের ছন্দও দেখিয়েছিলেন। কিন্তু প্রত্যাবর্তনের আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হল না। ফের চোট পেয়ে পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে গেলেন বরুণ চক্রবর্তী। ঠিক কী ধরনের চোট, তা এখনও স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। তবে গত কয়েক মাসের চোটের ইতিহাস সামনে আসতেই বিসিসিআইয়ের ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’-এর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং, তারপরই চোটের খবর
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারতীয় দলের হয়ে বল হাতে বেশ কার্যকর ছিলেন বরুণ। চোট কাটিয়ে জাতীয় দলে ফিরে এমন পারফরম্যান্সের পর তাঁর ফিটনেস নিয়ে স্বস্তি ফিরেছিল ভারতীয় শিবিরে।কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই সামনে আসে খারাপ খবর। নতুন করে চোট পেয়েছেন বরুণ এবং এর জেরে সিরিজের বাকি ম্যাচগুলিতে তাঁকে পাওয়া যাবে না। যদিও আঘাতের প্রকৃতি বা চোট কতটা গুরুতর, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আইপিএল থেকেই শুরু হয়েছিল চোটের সমস্যা
বরুণের চোটের সমস্যা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ২০২৬ সালের আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলার সময় পায়ে চোট পেয়েছিলেন তিনি।চোট থাকা সত্ত্বেও খেলা চালিয়ে যাওয়ার পর টুর্নামেন্ট শেষে তাঁকে বেঙ্গালুরুর বিসিসিআই ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’-এ রিহ্যাবে যেতে হয়। সেই কারণেই আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে খেলতে পারেননি ভারতীয় স্পিনার।
ইংল্যান্ড সিরিজেও পুরোটা খেলতে পারেননি
এরপর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজে জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন করেন বরুণ। কিন্তু সেখানেও চোট তাঁকে দীর্ঘ সময় খেলতে দেয়নি।হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যার কারণে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচের পরই আবার মাঠের বাইরে চলে যেতে হয় তাঁকে। অর্থাৎ প্রত্যাবর্তনের পরও বারবার চোটের ধাক্কা সামলাতে হয়েছে এই স্পিনারকে।
তামিলনাড়ু প্রিমিয়ার লিগে নিজেকে প্রমাণ করে ফেরেন
আগস্টে তামিলনাড়ু প্রিমিয়ার লিগে একটি ম্যাচ খেলেছিলেন বরুণ। সেই ম্যাচের মাধ্যমে নিজের ফিটনেসের প্রমাণ দেওয়ার পর আফগানিস্তান সিরিজের দলে জায়গা পান তিনি।প্রথম ম্যাচেই একটি উইকেট নিয়ে ভালো পারফরম্যান্স করায় মনে হয়েছিল, এবার হয়তো চোটের পর্ব পেরিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছেন বরুণ। কিন্তু তার পরেই ফের চোটের খবর ভারতীয় দলের পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা হয়ে এল।
ম্যাচের পর সাংবাদিকদের সামনে ছিলেন বরুণ, বোঝা যায়নি চোটের আভাস
আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, প্রথম ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনে নিজেই উপস্থিত ছিলেন বরুণ। সেখানে তাঁর কথাবার্তায় নতুন চোটের কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।বরবার চোট পাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বরুণের বক্তব্য ছিল যথেষ্ট ইতিবাচক। তাঁর মতে, একজন অ্যাথলিট নিজের সর্বোচ্চ সীমায় গিয়ে পারফর্ম করতে চাইলে চোটও সেই কঠোর পরিশ্রমের একটি অংশ হতে পারে। চোট থেকে ফিরে আরও শক্তভাবে মাঠে নামাই একজন খেলোয়াড়ের দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।
নতুন চোটে ফের প্রশ্নের মুখে ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’
বরুণের ফের চোট পাওয়ার ঘটনাকে ঘিরেই এবার বিসিসিআইয়ের সেন্টার অফ এক্সিলেন্সের চোট ব্যবস্থাপনা ও ফিটনেস মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।বিশেষ করে চোট থেকে ফিরে আসার পর কোনও খেলোয়াড় দ্রুত ফের মাঠের বাইরে চলে গেলে তাঁর রিহ্যাব ও ফিটনেস মূল্যায়নের পদ্ধতি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা তৈরি হয়। বরুণের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন সামনে এসেছে।
স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা
সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর থেকে স্পোর্টস সায়েন্স প্রধানের পদ ফাঁকা থাকায় ভারতীয় ক্রিকেটে চোট ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষের আলোচনা রয়েছে।চোট থেকে ফেরার পর দ্রুত কোনও ক্রিকেটারকে খেলার জন্য প্রস্তুত ঘোষণা করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। প্রত্যাবর্তনের পরপরই আবার চোট পাওয়া ক্রিকেটারদের তালিকায় বরুণের নাম যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে।
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজের মাঝেই বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে। চোটের কারণে পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে গেলেন মিস্ট্রি স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী। প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করার পরই তাঁর চোটের খবর সামনে আসে। গত কয়েক মাসে বারবার চোটে মাঠের বাইরে যেতে হওয়ায় এবার বিসিসিআইয়ের চোট ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।








