একটা রাত বদলে দিয়েছিল সইফ আলি খানের জীবনের অনেক কিছু। নিজের বাড়িতেই আততায়ীর ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল অভিনেতাকে। প্রাণে বেঁচে গেলেও সেই ঘটনার মানসিক অভিঘাত যে এখনও পুরোপুরি কাটেনি, সম্প্রতি তা স্পষ্ট করেছেন সইফ। তাঁর কথায়, আজও সামনে ছুরি দেখলে ভয় পেয়ে যান তিনি। সেই রাতের কথা মনে করলে অভিনেতার মনে হয়, কতটা অল্পের জন্য মৃত্যুর হাত থেকে ফিরেছিলেন তিনি।
বাড়িতে ঢুকেই ভয়ঙ্কর হামলা, বদলে যায় সবকিছু
গত বছরের জানুয়ারিতে সইফ আলি খানের বাড়িতে ঢুকে পড়ে এক আততায়ী। এরপর অভিনেতার উপর ছুরি নিয়ে হামলা চালানো হয়। একাধিক আঘাতে গুরুতর জখম হন সইফ। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন অভিনেতা।শারীরিক ক্ষত ধীরে ধীরে সেরে উঠলেও সেই রাতের স্মৃতি যে মনে গভীর ছাপ ফেলেছে, তা সইফের সাম্প্রতিক কথাতেই স্পষ্ট।
করিনার উপরও পড়েছিল গভীর প্রভাব
এক সাক্ষাৎকারে সইফকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এত বড় ঘটনার পর তিনি এবং তাঁর পরিবার কীভাবে পরিস্থিতি সামলেছিলেন। অভিনেতা জানান, পরিবারের সকলে যথেষ্ট সাহস ও বোঝাপড়ার সঙ্গে কঠিন সময় পার করেছেন।তবে তাঁর মতে, স্ত্রী করিনা কাপুরের উপর এই ঘটনার প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। পরিস্থিতি সামলে উঠলেও পুরো ঘটনাটিকে তিনি এখনও একটা দুঃস্বপ্নের সঙ্গে তুলনা করেন।
ছুরি দেখলেই এখনও ভয় পান সইফ
হামলার পর সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তনটি নিজের মধ্যে অনুভব করেন সইফ, তা হল ছুরি নিয়ে তৈরি হওয়া আতঙ্ক। অভিনেতার কথায়, ঘটনার পর অনেকটা সময় কেটে গেলেও তিনি এখনও সম্পূর্ণভাবে সেই ভয় কাটিয়ে উঠতে পারেননি।সাধারণভাবে কোনও ছুরি চোখে পড়লেই তাঁর মনে সেই রাতের স্মৃতি ফিরে আসে। অর্থাৎ শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠলেও ভয়ঙ্কর হামলার মানসিক অভিঘাত এখনও তাঁর জীবনে রয়ে গিয়েছে।
ভেঙে যাওয়া ছুরিটাই নাকি বাঁচিয়ে দিয়েছিল প্রাণ!
সেই রাতের কথা মনে করলে সইফের মনে হয়, তিনি কতটা ভাগ্যবান ছিলেন। অভিনেতার বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারীর হাতে থাকা ছুরিটি ভেঙে যাওয়াও তাঁর বেঁচে যাওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছিল।একাধিকবার আক্রমণের ফলে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গভীর ক্ষত হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে যান তিনি। সইফের উপলব্ধি, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হলে পরিণতি কী হতে পারত, তা ভাবলেও শিউরে উঠতে হয়।এমনকী সময়ের সঙ্গে তিনি হামলাকারীকে ক্ষমা করতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন অভিনেতা।
মনে হয়েছিল, হয়তো জীবনের শেষ মুহূর্ত এসে গিয়েছে
হামলার সময় সইফের মনে হয়েছিল, সম্ভবত তাঁর জীবনের শেষ সময় এসে পড়েছে। সেই মুহূর্তের অনুভূতি তাঁকে জীবন সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।হাসপাতালে থাকার সময়ও তাঁর মনে হচ্ছিল, যদি সুস্থ হয়ে ফেরেন, তাহলে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আরও বেশি করে উপভোগ করবেন। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো থেকে শুরু করে নিজের পছন্দের কাজ—জীবনকে আর পিছিয়ে না রেখে বাঁচার ইচ্ছা তৈরি হয়েছিল তাঁর মধ্যে।
মৃত্যুর মুখেও কোনও আফসোস ছিল না
সইফ জানিয়েছেন, সেই রাতে যদি তাঁর মৃত্যু হয়েও যেত, তাহলেও হয়তো তাঁর মনে বিশেষ আফসোস থাকত না। কারণ তাঁর মনে হয়েছিল, জীবনে তিনি অনেক কিছু পেয়েছেন এবং তাঁর যাত্রা যথেষ্ট সুন্দর ছিল।রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থেকেও তাঁর মনে জীবনের নানা স্মৃতি ও অর্জনের কথাই ভেসে উঠছিল। সেই সময় শুধু একজন আপন মানুষের হাত ধরে শান্ত থাকার ইচ্ছা হয়েছিল তাঁর।
পাঁচ দিন হাসপাতালে ছিলেন অভিনেতা
ভয়াবহ হামলার পর সইফ আলি খানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার জন্য সেখানে পাঁচ দিন থাকতে হয়েছিল তাঁকে। এরপর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন অভিনেতা।তবে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, শরীরের ক্ষত শুকিয়ে গেলেও এমন ভয়াবহ ঘটনার মানসিক প্রভাব মুছে যেতে সময় লাগে। আজও ছুরি দেখলে তাঁর ভয় পাওয়ার অভিজ্ঞতাই তার প্রমাণ।
বাড়িতে ঢুকে সইফ আলি খানের উপর ভয়াবহ ছুরি হামলার ঘটনা এখনও পুরোপুরি ভুলতে পারেননি অভিনেতা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই রাতের অভিজ্ঞতা, মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এবং হামলার পর তাঁর মনে তৈরি হওয়া ভয় নিয়ে মুখ খুলেছেন সইফ। জানিয়েছেন, আজও ছুরি দেখলে তাঁর মনে সেই ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতি ফিরে আসে।








