ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া নজরদারির মধ্যে এবার গুরুত্ব পাচ্ছে পরিচয় যাচাই। উত্তর ২৪ পরগনার বিথারী-হাকিমপুর সীমান্ত চেকপোস্টে বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন বহু অনুপ্রবেশকারী। প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাই সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কাউকেই সীমান্ত পেরিয়ে পাঠানো হবে না।
সীমান্তে দীর্ঘ অপেক্ষা, দেশে ফিরতে ব্যাকুল বহু মানুষ
উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী এলাকায় এখন দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র। বাংলাদেশে ফেরার আশায় বহু মানুষ হোল্ডিং সেন্টার এবং নির্ধারিত পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস ও কাজ করছিলেন। তবে পরিচয় সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য যাচাই না হওয়ায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
দালাল চক্রের মাধ্যমে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগ
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক হওয়া ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন সময়ে দালালদের সাহায্যে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁরা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে শ্রমিকসহ নানা পেশায় যুক্ত হন। সাম্প্রতিক অভিযান ও যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের শনাক্ত করা হয়েছে।বর্তমানে বাদুড়িয়া, স্বরূপনগর-সহ তিনটি হোল্ডিং সেন্টারে মোট ২৭৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে রাখা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের পরেই মিলবে ছাড়পত্র
প্রত্যেক ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ যাচাই অভিযান চলছে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, বায়োমেট্রিক তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে। তথ্যগুলিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করে দেখা হচ্ছে, যাতে কোনও ভুল পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে ফেরত পাঠানো না হয়।প্রশাসনের মতে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে সামান্য ভুলও বড় কূটনৈতিক ও আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই প্রতিটি তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে।
দুই দেশের সমন্বয়ে সম্পন্ন হবে প্রত্যাবাসন
সীমান্তরক্ষী বাহিনী সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ভারত ও বাংলাদেশের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তাঁদের ফেরত পাঠানো হবে। সমস্ত তথ্য যাচাই সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসনের অনুমতি দেওয়া হবে না।ফলে অনেকের অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হলেও প্রশাসন নিরাপদ ও আইনসম্মত পদ্ধতিতেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাইছে।
হোল্ডিং সেন্টারে খাবার, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা
হোল্ডিং সেন্টারগুলিতে থাকা মহিলা, পুরুষ এবং শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। নিয়মিত খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।প্রশাসনের দাবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেই এই সমস্ত ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিটি থানা এলাকায় হোল্ডিং সেন্টারের পরিকল্পনা
সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ রোধ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী ভবিষ্যতে প্রতিটি থানা এলাকায় একটি করে হোল্ডিং সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।একই সঙ্গে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো, প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা এবং দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কাজও জোরদার করা হচ্ছে।
ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশের পর বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করা বহু বাংলাদেশি নাগরিক এখন নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায়। তবে পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কাউকেই ফেরত পাঠানো হচ্ছে না। উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক হোল্ডিং সেন্টারে বর্তমানে শতাধিক ব্যক্তিকে রাখা হয়েছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট, বায়োমেট্রিক তথ্য এবং নথিপত্র যাচাইয়ের পরেই শুরু হবে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া।











