মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খোলার দাবি জানাল ভারত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ভারত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। বহুপাক্ষিক বৈঠকে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা, বৈশ্বিক তেলের দাম বৃদ্ধি এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভারত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক জলপথে স্বাধীন নৌচলাচল নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে। বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি বহুপাক্ষিক বৈঠকে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন।

ব্রিটেনের উদ্যোগে আয়োজিত ভার্চুয়াল বৈঠকে ৬০টিরও বেশি দেশ অংশ নেয়। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ ও অবাধ নৌপরিবহন নিশ্চিত করা। বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিয়ম অনুযায়ী স্বাধীন নৌচলাচলের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনায় বৈশ্বিক তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা প্রভাবিত হচ্ছে, কারণ দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক।

বিদেশ সচিব বৈঠকে জানান, হরমুজ অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র ভারতই তার নাবিকদের হারিয়েছে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং-এর তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে কর্মরত অন্তত তিনজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন এবং একজন আহত হয়েছেন। কয়েকটি জাহাজ এখনও হরমুজ প্রণালীতে আটকে রয়েছে। তিনি বলেন, অঞ্চলের বাড়তে থাকা অস্থিরতা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।

বিদেশ সচিব বলেন, এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র উপায় কূটনীতি ও সংলাপ। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানান। ভারত পুনরায় জানিয়েছে যে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা অগ্রহণযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি। এই অবস্থান ভারত বহুপাক্ষিক মঞ্চে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিক বসবাস করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সকল ভারতীয় নাগরিক নিরাপদ রয়েছেন এবং ভারতীয় দূতাবাস তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত আটজন ভারতীয় নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পদক্ষেপ নিয়েছে।

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ, যা উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য অংশের মধ্যে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রধান কেন্দ্র। এই পথ বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে এবং জ্বালানি সংকট তীব্র হতে পারে, যা ভারতের মতো বড় আমদানিকারক দেশের ওপর সরাসরি অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলে।

বিদেশ সচিব বৈঠকে বলেন, অঞ্চলের অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় পড়ছে। দেশটি তার জ্বালানি চাহিদার জন্য পশ্চিম এশিয়ার ওপর নির্ভরশীল এবং সেখানে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলি ভারতীয় অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক সংলাপের মাধ্যমেই এই সংকট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

 

Leave a comment