১ জুন থেকে পেট্রোল ডিজেল ও ATF-এর রপ্তানি শুল্ক কমাল ভারত

কেন্দ্র সরকার ১ জুন থেকে পেট্রোল, ডিজেল এবং এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের উপর রপ্তানি শুল্ক কমানোর ঘোষণা করেছে। সরকার জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের কোনও প্রত্যক্ষ প্রভাব দেশীয় খুচরা জ্বালানির দাম বা বিদ্যমান আবগারি শুল্কের উপর পড়বে না।

কেন্দ্র সরকার পেট্রোল, ডিজেল এবং এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর উপর রপ্তানি শুল্ক কমিয়েছে। অর্থ মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নতুন হার ১ জুন থেকে কার্যকর হবে। সরকার স্পষ্ট করেছে যে এই পরিবর্তন শুধুমাত্র রপ্তানিকৃত জ্বালানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং দেশের অভ্যন্তরে বিক্রি হওয়া পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরা দামের উপর বা বিদ্যমান আবগারি শুল্কে এর কোনও প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে না।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অপরিশোধিত তেল এবং পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের দামে ধারাবাহিক ওঠানামার মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, আন্তর্জাতিক মূল্য, রিফাইনিং মার্জিন এবং দেশীয় সরবরাহের ভারসাম্য বিবেচনায় নিয়ে রপ্তানি শুল্কে সংশোধন আনা হয়েছে।

সংশোধিত হারে পেট্রোল রপ্তানির উপর শুল্ক প্রতি লিটারে ১.৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিজেল রপ্তানির উপর শুল্ক প্রতি লিটারে ১৩.৫ টাকা রাখা হয়েছে, আর এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের রপ্তানির উপর শুল্ক প্রতি লিটারে ৯.৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমান বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর কাঠামোকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখা, ভারতীয় রিফাইনারিগুলিকে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রাখা এবং দেশীয় জ্বালানি নিরাপত্তাকে অক্ষুণ্ণ রাখা এই সংশোধিত শুল্ক কাঠামোর উদ্দেশ্য বলে সরকার জানিয়েছে।

সরকার স্পষ্ট করেছে যে রপ্তানি শুল্ক কমানোর ফলে দেশীয় গ্রাহকদের জন্য জ্বালানির দামে কোনও তাৎক্ষণিক পরিবর্তন হবে না। দেশে বিক্রি হওয়া পেট্রোল ও ডিজেলের উপর প্রযোজ্য কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্কে বর্তমানে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি।

ফলে সাধারণ নাগরিক, পরিবহণ খাত, শিল্প এবং অন্যান্য গ্রাহকদের বিদ্যমান খুচরা মূল্যে জ্বালানি কিনতে হবে। রপ্তানি শুল্ক শুধুমাত্র সেই পণ্যের উপর প্রযোজ্য যা ভারতীয় সংস্থাগুলি বিদেশে বিক্রি করে।

কেন্দ্র সরকার নিয়মিতভাবে পেট্রোলিয়াম পণ্যের উপর প্রযোজ্য রপ্তানি শুল্ক পর্যালোচনা করে। সাধারণত প্রতি ১৫ দিন অন্তর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল, পেট্রোল, ডিজেল এবং ATF-এর গড় মূল্য বিশ্লেষণ করা হয় এবং সেই অনুযায়ী শুল্ক বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হল বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভারতের কর নীতিকে নমনীয় রাখা এবং দেশীয় সরবরাহ ও রপ্তানির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।

সরকারি ঘোষণার আগে ২৫ মে দেশের প্রধান তেল বিপণন সংস্থাগুলি পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরা মূল্য বৃদ্ধি করেছিল। সেই সময় পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ২.৬১ টাকা এবং ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ২.৭১ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

এই বৃদ্ধির পর জাতীয় রাজধানী নয়াদিল্লিতে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ১০২.১২ টাকা এবং ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ৯৫.২০ টাকায় পৌঁছেছিল। তবে বর্তমান রপ্তানি শুল্ক হ্রাসের সঙ্গে এই খুচরা মূল্যের কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই বলে সরকার জানিয়েছে।

এর আগে মার্চ মাসে কেন্দ্র সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ অতিরিক্ত আবগারি শুল্কে উল্লেখযোগ্য হ্রাস করেছিল।

সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পেট্রোলের উপর বিশেষ অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক প্রতি লিটারে ১৩ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ টাকা করা হয়েছিল। ডিজেলের ক্ষেত্রে এই শুল্ক প্রতি লিটারে ১০ টাকা থেকে কমিয়ে শূন্য করা হয়েছিল।

এই পদক্ষেপের ফলে পেট্রোল ও ডিজেলের উপর মোট কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্কের বোঝা কমেছিল। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেও দেশীয় বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখাই সরকারের উদ্দেশ্য ছিল।

রপ্তানি শুল্ক হল এমন একটি কর যা সরকার দেশের বাইরে রপ্তানিকৃত পণ্যের উপর আরোপ করে। এর মূল উদ্দেশ্য হল দেশীয় বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা।

জ্বালানি খাতে এই করের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে কারণ পেট্রোলিয়াম পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা ও মূল্য ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়। আন্তর্জাতিক মূল্য অত্যধিক বেড়ে গেলে সরকার দেশীয় বাজারে সরবরাহ বজায় রাখতে রপ্তানি শুল্ক বাড়াতে পারে। অন্যদিকে মূল্য কমে গেলে রপ্তানিকারক ও রিফাইনারিগুলিকে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিতে শুল্ক কমানো হতে পারে।

এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বিমান শিল্পে ব্যবহৃত প্রধান জ্বালানি। এটি কেরোসিন-ভিত্তিক বিশেষ ধরনের জ্বালানি যা বিমানের টারবাইন ইঞ্জিন চালানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়।

বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচল খাতের সম্প্রসারণের সঙ্গে ATF-এর চাহিদাও বাড়ছে। ফলে এই জ্বালানির উপর প্রযোজ্য কর এবং রপ্তানি নীতির প্রভাব বিমান সংস্থা, বিমান যাত্রার খরচ এবং জ্বালানি বাণিজ্যের উপর পড়ে।

শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, রপ্তানি শুল্ক কমানো ভারতীয় রিফাইনারিগুলিকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও সুযোগ করে দিতে পারে। এর ফলে রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে এবং জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে উৎসাহ মিলতে পারে।

সরকারের নিয়মিত পর্যালোচনা ব্যবস্থা দেশীয় বাজারের প্রয়োজন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যিক স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যেই কাজ করে। আগামী কয়েক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দামের গতিপ্রকৃতির উপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে শুল্ক হারে আরও পরিবর্তন আনা হবে কি না।

Leave a comment