হাতে ৫০ লাখ টাকা? সঠিক পরিকল্পনায় অবসরের পর গড়ে তুলতে পারেন ১ কোটির ফান্ড, মিলবে নিয়মিত আয়ও

৫০ লক্ষ টাকার অবসরকালীন কর্পাস কীভাবে SCSS, FD, মিউচুয়াল ফান্ড ও জরুরি তহবিলে ভাগ করলে নিয়মিত আয় এবং ভবিষ্যতে ১ কোটি টাকার ফান্ড তৈরি করা সম্ভব হতে পারে, জেনে নিন বিস্তারিত।

অবসরের পর সবচেয়ে বড় চিন্তা হয় মাসিক আয় এবং সঞ্চয় কতদিন চলবে তা নিয়ে। মূল্যবৃদ্ধির যুগে শুধুমাত্র ফিক্সড ডিপোজিটের উপর নির্ভর করলে ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৫০ লক্ষ টাকার অবসরকালীন তহবিলকে বিভিন্ন বিনিয়োগ মাধ্যমে ভাগ করে রাখলে যেমন ঝুঁকি কমে, তেমনই দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হয়।

অবসরের অর্থ এক জায়গায় নয়, ভাগ করে বিনিয়োগ করুন

আর্থিক পরিকল্পনাবিদদের মতে, অবসরের অর্থ পুরোটা একটি প্রকল্পে বিনিয়োগ করা উচিত নয়। বরং নিরাপত্তা, আয় এবং সম্পদ বৃদ্ধির ভারসাম্য বজায় রাখতে বিভিন্ন সম্পদে বিনিয়োগ করা বুদ্ধিমানের কাজ।

উদাহরণস্বরূপ, ৫০ লক্ষ টাকার একটি কর্পাসকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে—

নিরাপদ আয়ের জন্য SCSS ও FD

দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির জন্য মিউচুয়াল ফান্ড

জরুরি প্রয়োজনে লিকুইড ফান্ড

SCSS হতে পারে নিয়মিত আয়ের অন্যতম ভরসা

সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম (SCSS) অবসরপ্রাপ্তদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। এতে সরকারি নিরাপত্তার পাশাপাশি নির্দিষ্ট হারে সুদ পাওয়া যায়।

যদি কর্পাসের একটি বড় অংশ SCSS-এ রাখা হয়, তাহলে প্রতি তিন মাস অন্তর সুদের অর্থ পাওয়া সম্ভব। ফলে মাসিক খরচের চাপ অনেকটাই কমে যায়।

FD ও পোস্ট অফিস স্কিমে মূলধন থাকবে সুরক্ষিত

ফিক্সড ডিপোজিট (FD), পোস্ট অফিস মাসিক আয় প্রকল্প (MIS) কিংবা সরকারি বন্ড তুলনামূলক কম ঝুঁকির বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত।

এসব প্রকল্পে—

মূলধনের নিরাপত্তা বেশি

নির্দিষ্ট আয় পাওয়া যায়

বাজারের ওঠানামার প্রভাব কম পড়ে

তবে শুধুমাত্র FD-র উপর নির্ভর করলে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন হতে পারে।

৫০ লাখ থেকে ১ কোটি—মিউচুয়াল ফান্ডই হতে পারে গেমচেঞ্জার

অর্থ বিশেষজ্ঞদের মতে, অবসরের পরও কর্পাসের একটি অংশ গ্রোথ অ্যাসেটে রাখা জরুরি।

ধরা যাক, ২০ লক্ষ টাকা দীর্ঘমেয়াদে হাইব্রিড বা ইকুইটি-ওরিয়েন্টেড মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা হল। যদি গড়ে ১০-১২ শতাংশ বার্ষিক রিটার্ন পাওয়া যায়, তাহলে ৬-৮ বছরের মধ্যে এই অংশের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

চক্রবৃদ্ধি সুদের শক্তিতে পুরো কর্পাস ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটির কাছাকাছি পৌঁছনোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, যদিও রিটার্ন কখনও নিশ্চিত নয়।

ব্যালান্সড অ্যাডভান্টেজ ফান্ড কেন জনপ্রিয়?

যাঁরা শেয়ারবাজারের ঝুঁকি পুরোপুরি নিতে চান না, তাঁদের জন্য ব্যালান্সড অ্যাডভান্টেজ বা হাইব্রিড ফান্ড উপযুক্ত হতে পারে।

এই ধরনের ফান্ডে—

ইকুইটি ও ঋণপত্রের মিশ্রণ থাকে

ঝুঁকি তুলনামূলক কম হয়

দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ বৃদ্ধির সুযোগ থাকে

জরুরি তহবিল না রাখলে বড় বিপদ

অবসর পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল এমার্জেন্সি ফান্ড।

বিশেষজ্ঞরা সাধারণত পরামর্শ দেন—

৬ থেকে ১২ মাসের খরচ আলাদা রাখতে

লিকুইড ফান্ড বা সেভিংস অ্যাকাউন্টে অর্থ রাখতে

জরুরি চিকিৎসা বা পারিবারিক প্রয়োজনে এই তহবিল ব্যবহার করতে

স্বাস্থ্যবিমা অবহেলা করলে বাড়তে পারে আর্থিক চাপ

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয়ও দ্রুত বাড়ে। তাই পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিমা না থাকলে অবসরকালীন সঞ্চয়ের বড় অংশ চিকিৎসার পেছনে খরচ হয়ে যেতে পারে।

এই কারণে আর্থিক পরিকল্পনায় স্বাস্থ্যবিমাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

অবসরের সময় ৫০ লক্ষ টাকার কর্পাস থাকলে তা শুধু ব্যাঙ্কে ফেলে রাখলেই হবে না। সঠিক সম্পদ বণ্টন, নিরাপদ বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি গ্রোথ প্ল্যানের মাধ্যমে এই অর্থ ভবিষ্যতে ১ কোটি টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। একই সঙ্গে নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থাও করা সম্ভব।

Leave a comment