ঝুনঝুনু জেলার ভারতীয় সেনার গ্রেনেডিয়ার্স রেজিমেন্টের জওয়ান সুনীল কুমারের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে। ১৭ দিন আগে তাঁর বাড়িতে পুত্রসন্তানের জন্ম হয়েছিল এবং পরিবার নবজাতকের নামকরণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিল। ছুটিতে বাড়িতে আসা অবস্থায় দুর্ঘটনার পর তাঁর মৃত্যু হলে পরিবার ও গ্রামে শোক নেমে আসে।
২৯ বছর বয়সী সুনীল কুমার ভারতীয় সেনার গ্রেনেডিয়ার্স রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর তিনি প্রায় নয় বছর দেশের বিভিন্ন সামরিক ইউনিট ও অগ্রবর্তী এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সেনার একটি সক্রিয় ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। শৃঙ্খলা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন।
২০১৯ সালে তাঁর বিয়ে হয়। পরিবারে স্ত্রী, তিন বছরের এক পুত্র এবং সম্প্রতি জন্ম নেওয়া নবজাতক পুত্র রয়েছে। পরিবারটি সাধারণ গ্রামীণ জীবনযাপন করত এবং তাঁর সেনার চাকরি পরিবারের কাছে গর্বের বিষয় ছিল।
পরিজনদের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে সুনীল কুমার ছুটি নিয়ে গ্রামে ফিরেছিলেন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নবজাতক সন্তানের জন্ম উপলক্ষে আনন্দ ভাগ করে নেওয়াই ছিল তাঁর ছুটির মূল উদ্দেশ্য। মাত্র ১৭ দিন আগে তাঁদের দ্বিতীয় পুত্রের জন্ম হয়েছিল এবং পরিবারে নামকরণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল।
তথ্য অনুযায়ী, ২৯ মে সন্ধ্যায় সুনীল কুমার একটি জরুরি কাজে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন। পথে তাঁর মোটরসাইকেল হঠাৎ পিছলে গেলে তিনি সড়কে পড়ে যান। দুর্ঘটনায় তাঁর মাথা ও শরীরের অন্যান্য অংশে গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয়রা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর অবস্থার কারণে উচ্চতর চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

পরে তাঁকে জয়পুরের সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসকেরা তাঁর চিকিৎসার চেষ্টা করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়।
সোমবার তাঁর মরদেহ সামরিক মর্যাদায় গ্রামে আনা হয়। গ্রামে পৌঁছানোর আগে একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি যাত্রা বের করা হয়, যাতে স্থানীয় মানুষ, যুবক, প্রাক্তন সেনাসদস্য এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পথে মানুষ ফুল অর্পণ করে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান এবং দেশপ্রেমমূলক স্লোগানের মধ্যে শেষ বিদায় জানান।
তাঁর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর পরিবারে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়রা শেষবারের মতো তাঁকে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁর স্ত্রী ১৭ দিনের নবজাতক সন্তানকে কোলে নিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
শেষকৃত্যে তাঁর তিন বছরের পুত্র পিতার মুখাগ্নি করে। সেনা কর্মকর্তারা শিশুটির হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং বলেন, দেশ সুনীল কুমারের সেবা ও অবদান স্মরণে রাখবে।
ভারতীয় সেনার সদস্যরা সামরিক মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন। গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং জাতীয় পতাকার মর্যাদার সঙ্গে তাঁকে শেষ বিদায় জানানো হয়। সেনা কর্মকর্তারা জানান, সুনীল কুমার তাঁর কর্মজীবনে নিষ্ঠা ও দায়িত্বের সঙ্গে দেশের সেবা করেছেন।
সুনীল কুমারের মৃত্যুর পর গোটা গ্রামে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রশাসনের কাছে পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও প্রাক্তন সেনাসদস্যরাও পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।









