যুদ্ধবিরতি ও অপরিশোধিত তেলের দাম কমায় সেনসেক্স ২৭০০ পয়েন্টের উপরে উঠেছে, নিফটি ২৪০০০-এর কাছাকাছি।

Indian equity markets advanced sharply after reports of a ceasefire in West Asia and a significant drop in crude oil prices, with Sensex rising over 2700 points and Nifty approaching 24000 during early trade.

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষবিরতির খবর এবং অপরিশোধিত তেলের দামে তীব্র পতনের প্রভাব এশীয় বাজারগুলির পাশাপাশি ভারতীয় শেয়ার বাজারেও প্রতিফলিত হয়েছে। ইতিবাচক বৈশ্বিক সংকেতের প্রেক্ষিতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে বাজারে উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষবিরতির খবর বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে, যার সরাসরি প্রভাব ভারতীয় শেয়ার বাজারে প্রতিফলিত হয়েছে। প্রাথমিক লেনদেনে BSE Sensex ২৭০০ পয়েন্টের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং Nifty 50 সূচক ২৪,০০০-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে।

সকালের লেনদেনে সেনসেক্স প্রায় ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৭,০০০-এর উপরে লেনদেন করতে দেখা গেছে, এবং নিফটি সূচকেও ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে। এই ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রতিফলন।

কাঁচা তেলের দামে পতন বাজারের প্রধান চালিকা শক্তি

এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ অপরিশোধিত তেলের দামে তীব্র পতন। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দামে ১৩ শতাংশের বেশি হ্রাস রেকর্ড হয়েছে, যা প্রায় ৯৫ ডলার প্রতি ব্যারেল স্তরে নেমে এসেছে। তেল আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে ভারতের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক, কারণ এর ফলে মুদ্রাস্ফীতির ওপর চাপ কমে এবং চলতি হিসাব ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে, কোম্পানিগুলির ব্যয় হ্রাস পাওয়ায় মুনাফার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

দিনের লেনদেনে অধিকাংশ সেক্টরে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সেনসেক্সের ৩০টির মধ্যে ২৯টি শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় লেনদেন শুরু করেছে, যা বাজারের বিস্তৃত অংশগ্রহণ নির্দেশ করে। এভিয়েশন সেক্টরে InterGlobe Aviation (IndiGo)-এর শেয়ার প্রায় ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দামে পতনের ফলে এয়ারলাইন্স সংস্থাগুলি সরাসরি উপকৃত হয়, কারণ তাদের জ্বালানি ব্যয় হ্রাস পায়।

এছাড়া অবকাঠামো, ব্যাংকিং এবং আর্থিক পরিষেবা খাতে শেয়ারগুলিতে ক্রয় বৃদ্ধি দেখা গেছে। ICICI Bank, HDFC Bank, Larsen & Toubro এবং Adani Ports-এর শেয়ারে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে। তবে তথ্যপ্রযুক্তি খাত তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল এবং Tech Mahindra-এর শেয়ারে সামান্য পতন লক্ষ্য করা গেছে।

ব্রডার মার্কেট এবং সেক্টরভিত্তিক কার্যক্রম

বৃহৎ মূলধনী শেয়ারের পাশাপাশি মিডক্যাপ এবং স্মলক্যাপ শেয়ারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। Nifty Midcap সূচকে ৩ শতাংশের বেশি এবং স্মলক্যাপ সূচকেও প্রায় একই মাত্রার বৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে। সেক্টরভিত্তিক কার্যক্রমে রিয়েল এস্টেট, অটো এবং ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস খাত অগ্রণী ছিল। বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের ফলে এই খাতগুলিতে বিস্তৃত সমর্থন লক্ষ্য করা গেছে।

 

Leave a comment