ভারতীয় শেয়ারবাজারে টানা চার দিনের ঊর্ধ্বগতি থামল, সেনসেক্স 210 পয়েন্ট ও নিফটি 159 পয়েন্ট পতনে বন্ধ

টি নিম্নমুখী অবস্থায় বন্ধ হয়েছে। RBI-এর মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠক, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের মধ্যে বাজারে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। রুপি প্রায় স্থিতিশীল ছিল, আর মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ সূচকের পারফরম্যান্স ছিল মিশ্র।

ভারতীয় শেয়ারবাজারে টানা চারটি ট্রেডিং সেশনের ঊর্ধ্বগতির ধারায় মঙ্গলবার বিরতি পড়ে। বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (RBI) মুদ্রানীতি কমিটির (MPC) বৈঠক এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের চলমান শান্তি আলোচনা ঘিরে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করায় বাজারে চাপ দেখা যায়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকেতের মধ্যেও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক মনোভাব বাজারের গতিপ্রকৃতিতে প্রভাব ফেলে। লেনদেন শেষে বিএসই সেনসেক্স এবং এনএসই নিফটি ৫০ উভয় প্রধান সূচকই নিম্নমুখী অবস্থায় বন্ধ হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, RBI-এর মুদ্রানীতি কমিটির (MPC) বৈঠক, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নেওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এর প্রভাব বাজারের সামগ্রিক মনোভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

সেনসেক্স ও নিফটির পতন

সারাদিনের ওঠানামাপূর্ণ লেনদেন শেষে বিএসই সেনসেক্স 210.08 পয়েন্ট বা 0.27 শতাংশ কমে 78,428.95 পয়েন্টে বন্ধ হয়। দিনের এক পর্যায়ে সূচকটি 78,211.87 পয়েন্ট পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) নিফটি ৫০ সূচক 159.40 পয়েন্ট বা 0.64 শতাংশ কমে 24,614.90 পয়েন্টে বন্ধ হয়। আগের চারটি সেশনে বাজারে শক্তিশালী ক্রয় প্রবণতা দেখা গেলেও মঙ্গলবার বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নেন।

RBI-এর মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকের দিকে বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে। সুদের হার, মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্পর্কিত সম্ভাব্য সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে বাজার। পাশাপাশি, বৈশ্বিক কূটনৈতিক তৎপরতা এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও বাজারে সতর্কতা বাড়িয়েছে। বড় কোনও সিদ্ধান্তের আগে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমানোর কৌশল গ্রহণ করেছেন।

রুপির সীমিত ওঠানামা

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ভারতীয় রুপি প্রায় স্থিতিশীল ছিল। মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপি 95.3775 স্তরে বন্ধ হয়, যেখানে আগের ট্রেডিং সেশনে তা 95.3375 স্তরে বন্ধ হয়েছিল। মুদ্রাবাজারে এই সীমিত ওঠানামা ইঙ্গিত দেয় যে, বিনিয়োগকারীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত ঘোষণা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছেন।

সেনসেক্সভুক্ত ৩০টি কোম্পানির মধ্যে ১৪টির শেয়ার নিম্নমুখী অবস্থায় বন্ধ হয়েছে। দিনের লেনদেনে ভোক্তা ও ব্যাংকিং খাতের শেয়ারে সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা যায়। হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের শেয়ার প্রায় 1.7 শতাংশ কমে যায়। এছাড়া NTPC, HDFC Bank, Reliance Industries, IndiGo, Tech Mahindra, Power Grid, HCL Tech এবং Infosys-এর শেয়ারও দুর্বল ছিল।

অন্যদিকে, কয়েকটি নির্বাচিত শেয়ারে ক্রয় প্রবণতা দেখা যায়। Trent, Bajaj Finance, Bharat Electronics (BEL), Tata Steel, Mahindra & Mahindra, Bajaj Finserv, Titan এবং Sun Pharma-এর শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় বন্ধ হয়েছে।

নিফটির শীর্ষ দরপতনকারী শেয়ার

নিফটি ৫০ সূচকে সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে Grasim Industries, HDFC Life Insurance এবং Hindustan Unilever-এর শেয়ারে। এসব শেয়ারে বিক্রির চাপ নিফটির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং বাজারের সামগ্রিক দিক নেতিবাচক রাখে। বৃহৎ মূলধনী শেয়ারের তুলনায় বিস্তৃত বাজারের (Broader Market) পারফরম্যান্স ছিল মিশ্র।

নিফটি মিডক্যাপ সূচক 0.29 শতাংশ কমে বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে, নিফটি স্মলক্যাপ সূচক 0.23 শতাংশ বেড়ে বন্ধ হয়েছে। এটি ইঙ্গিত করে যে, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ নির্বাচিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি মূলধনী কোম্পানির শেয়ারে বজায় ছিল, যদিও বৃহৎ মূলধনী শেয়ারে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।

 

Leave a comment