Indian Railways: রেলের বড় প্রকল্পে সবুজ সংকেত! ৩৬৭ কিমি নতুন লাইন, বছরে সাশ্রয় হবে ৯৬৮ কোটি টাকা—বদলে যাবে ট্রেন চলাচলের ছবি

খড়গপুর-ঝাড়সুগুড়া চতুর্থ রেললাইন প্রকল্পে কেন্দ্রের অনুমোদন। ৬,৫২৮ কোটি টাকায় তৈরি হবে ৩৬৭ কিমি নতুন লাইন। জানুন রেলের এই প্রকল্পে কী কী সুবিধা মিলবে।

রেলের যাত্রী ও পণ্য পরিবহণে বড় পরিবর্তনের পথে পূর্ব ভারত। খড়গপুর থেকে ঝাড়সুগুড়া (বাগদেহী) পর্যন্ত চতুর্থ রেললাইন তৈরির প্রকল্পে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিলেছে। প্রায় ৬,৫২৮ কোটি টাকার এই প্রকল্পে ৩৬৭ কিলোমিটার নতুন রেললাইন তৈরি করা হবে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক রুটে ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা বাড়বে এবং পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে মিলবে বড় সুবিধা।

Indian Railways: রেলের বড় প্রকল্পে সবুজ সংকেত! ৩৬৭ কিমি নতুন লাইন, বছরে সাশ্রয় হবে ৯৬৮ কোটি টাকা—বদলে যাবে ট্রেন চলাচলের ছবি
৬,৫২৮ কোটি টাকার প্রকল্পে কেন্দ্রের অনুমোদন

পূর্ব ভারতের রেল পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে খড়গপুর-ঝাড়সুগুড়া চতুর্থ রেললাইন প্রকল্পে চূড়ান্ত ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় প্রায় ৬,৫২৮ কোটি টাকা। নতুন রেললাইনটি তৈরি হলে বর্তমানে ব্যস্ত এই রুটে অতিরিক্ত ট্রেন চালানোর সুযোগ তৈরি হবে।

৩৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে নতুন রেললাইন

খড়গপুর থেকে ঝাড়সুগুড়া (বাগদেহী) পর্যন্ত প্রায় ৩৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ চতুর্থ রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই রেলপথ পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড—এই তিন রাজ্যের মোট আটটি জেলার উপর দিয়ে যাবে।এই রুট পূর্ব ও মধ্য ভারতের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেল সংযোগ হিসেবে পরিচিত। নতুন লাইন যুক্ত হলে একই পথে ট্রেনের সংখ্যা ও পরিচালন ক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

Indian Railways: রেলের বড় প্রকল্পে সবুজ সংকেত! ৩৬৭ কিমি নতুন লাইন, বছরে সাশ্রয় হবে ৯৬৮ কোটি টাকা—বদলে যাবে ট্রেন চলাচলের ছবি
কমবে ট্রেনের চাপ, বাড়বে চলাচলের গতি

বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ রেল করিডরে যাত্রীবাহী এবং পণ্যবাহী—দুই ধরনের ট্রেনেরই চাপ রয়েছে। চতুর্থ লাইন চালু হলে রেলপথের capacity বাড়বে। ফলে ট্রেন চলাচল আরও মসৃণ করার সুযোগ মিলবে এবং ব্যস্ত রুটে congestion কমতে পারে।এর পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রেনের চলাচল আরও কার্যকর হলে শিল্পাঞ্চলগুলিতে কাঁচামাল ও তৈরি পণ্য পরিবহণেও গতি আসবে।

বছরে ৯৬৮ কোটি টাকা সাশ্রয়ের দাবি

এই প্রকল্পের অন্যতম বড় সুবিধা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন রেলপথ চালু হলে পরিবহণ ক্ষেত্রে প্রতি বছর প্রায় ৯৬৮ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে।বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বে কয়লা, লোহা, ইস্পাত এবং অন্যান্য শিল্পপণ্য পরিবহণ আরও দক্ষ হলে পরিবহণের সামগ্রিক খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

Indian Railways: রেলের বড় প্রকল্পে সবুজ সংকেত! ৩৬৭ কিমি নতুন লাইন, বছরে সাশ্রয় হবে ৯৬৮ কোটি টাকা—বদলে যাবে ট্রেন চলাচলের ছবি
হলদিয়া ও পারাদ্বীপ বন্দরের সঙ্গে বাড়বে সংযোগ

পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বন্দরগুলির জন্যও এই প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন রেললাইন চালু হলে হলদিয়া ও পারাদ্বীপের মতো বড় বন্দরের সঙ্গে কার্গো পরিবহণ আরও সহজ ও দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হবে।এর ফলে খনিজ ও শিল্পপণ্য দ্রুত বন্দরমুখী করা সম্ভব হলে পূর্ব ভারতের শিল্প করিডরে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হতে পারে।

কয়লা-লোহা-ইস্পাত পরিবহণে বিশেষ সুবিধা

এই রেল করিডরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হল শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল পরিবহণ। কয়লা, লোহা এবং ইস্পাতের মতো পণ্য দেশের বিভিন্ন শিল্প ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে রেলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।চতুর্থ লাইন তৈরি হলে এই ধরনের পণ্য পরিবহণের জন্য অতিরিক্ত রেল capacity তৈরি হবে। ফলে শিল্পাঞ্চল এবং বন্দরগুলির মধ্যে যোগাযোগ আরও কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Indian Railways: রেলের বড় প্রকল্পে সবুজ সংকেত! ৩৬৭ কিমি নতুন লাইন, বছরে সাশ্রয় হবে ৯৬৮ কোটি টাকা—বদলে যাবে ট্রেন চলাচলের ছবি
পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে খড়গপুর থেকে ঝাড়সুগুড়া পর্যন্ত চতুর্থ রেললাইন তৈরির প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রায় ৬,৫২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হবে প্রায় ৩৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেললাইন। পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের আটটি জেলার উপর দিয়ে যাবে প্রকল্পটি। নতুন লাইন চালু হলে ব্যস্ত এই রেলপথে ট্রেনের চাপ কমার পাশাপাশি পণ্য পরিবহণ আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a comment