দীর্ঘ দূরত্বের ট্রেনযাত্রায় গর্ভবতী যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক আসন পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উপরের বার্থে ওঠা বা মাঝের বার্থে ওঠানামা করা তাঁদের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে। এই কথা মাথায় রেখেই রেলের বার্থ বরাদ্দে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য লোয়ার বার্থে অগ্রাধিকারের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু অনলাইনে টিকিট কাটার সময় পছন্দের নিচের আসন না পেলেই যে আর কোনও উপায় নেই, তা নয়।
অনলাইনে লোয়ার বার্থ না পেলেও রয়েছে উপায়
IRCTC-এর মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট বুক করার সময় সব ক্ষেত্রে গর্ভবতী যাত্রীর জন্য লোয়ার বার্থ নিশ্চিত করা সম্ভব নাও হতে পারে। কারণ নির্দিষ্ট কোটা এবং আসনের প্রাপ্যতার উপর বার্থ বরাদ্দ নির্ভর করে।তবে অনলাইনে নিচের বার্থ না পাওয়ার অর্থ এই নয় যে গর্ভবতী যাত্রী কোনও অগ্রাধিকার পাবেন না। রেলের নির্ধারিত নিয়ম মেনে বিকল্প উপায়ে লোয়ার বার্থের জন্য আবেদন করা যেতে পারে।
মেডিকেল সার্টিফিকেট নিয়ে রিজার্ভেশন কাউন্টারে যান
অনলাইনে বুকিংয়ের পরিবর্তে রেলওয়ে রিজার্ভেশন কাউন্টারে গিয়ে লোয়ার বার্থের প্রয়োজনের কথা জানানো যেতে পারে। গর্ভাবস্থার বিষয়টি প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় মেডিকেল সার্টিফিকেট সঙ্গে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রক্রিয়াটি মোটামুটি এমন—
চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় মেডিকেল সার্টিফিকেট নিন।
রেলওয়ে রিজার্ভেশন কাউন্টারে গিয়ে টিকিট বুকিংয়ের সময় বিষয়টি জানান।
গর্ভাবস্থার কারণে লোয়ার বার্থ প্রয়োজন বলে অনুরোধ করুন।
রেলের নিয়ম ও আসনের প্রাপ্যতা অনুযায়ী লোয়ার বার্থ বরাদ্দের সুযোগ থাকলে তা বিবেচনা করা হতে পারে।
তবে নির্দিষ্ট সংখ্যক লোয়ার বার্থ থাকায় প্রত্যেক ক্ষেত্রেই আসন নিশ্চিত হবে, এমন নয়।
কারা লোয়ার বার্থে অগ্রাধিকার পান?
রেলের বার্থ বরাদ্দ ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু যাত্রীর জন্য লোয়ার বার্থের ব্যবস্থা রাখা হয়। এর মধ্যে প্রবীণ নাগরিক, ৪৫ বছরের বেশি বয়সি মহিলা এবং গর্ভবতী মহিলা রয়েছেন।যোগ্য যাত্রীদের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় বরাদ্দ ব্যবস্থার মাধ্যমেও অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে। তবে কোন ট্রেনে কতগুলি বার্থ পাওয়া যাবে, তা কোচ ও আসনের প্রাপ্যতার উপর নির্ভর করে।
স্লিপার থেকে ২এসি—কতগুলি লোয়ার বার্থ থাকে?
প্রতিবেদনে উল্লেখিত রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শ্রেণির কোচে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক লোয়ার বার্থ রাখা হয়।
স্লিপার ক্লাস: প্রতি কোচে প্রায় ৬–৭টি
৩এসি: প্রতি কোচে প্রায় ৪–৫টি
২এসি: প্রতি কোচে প্রায় ৩–৪টি
এই বার্থগুলি একাধিক যোগ্য শ্রেণির যাত্রীর মধ্যে বরাদ্দ করা হয়। তাই কোনও নির্দিষ্ট যাত্রী সবসময় লোয়ার বার্থ পাবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই।
ট্রেনে ওঠার পরেও TTE-কে জানাতে পারেন
টিকিট বুকিংয়ের সময় নিচের বার্থ না পেলেও ট্রেনে ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে TTE-এর সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে।কোনও যাত্রী টিকিট বাতিল করলে বা কোনও কারণে লোয়ার বার্থ খালি হয়ে গেলে, রেলের নিয়ম অনুযায়ী সেই আসন যোগ্য যাত্রীকে বরাদ্দ করার সুযোগ থাকতে পারে। তাই ট্রেনে উঠে নিজের প্রয়োজনের কথা TTE-কে জানিয়ে খালি লোয়ার বার্থ রয়েছে কি না জানতে পারেন।
তবে লোয়ার বার্থ পাওয়া নিশ্চিত নয়
গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অগ্রাধিকারের ব্যবস্থা থাকলেও প্রতিটি যাত্রায় লোয়ার বার্থ নিশ্চিতভাবে পাওয়া যাবে না। আসনের সংখ্যা, নির্দিষ্ট কোটা, ট্রেনে বার্থের প্রাপ্যতা এবং অন্যান্য যাত্রীদের বরাদ্দ—সবকিছুর উপর বিষয়টি নির্ভর করে।তাই আগে থেকে লোয়ার বার্থের প্রয়োজন থাকলে রিজার্ভেশন কাউন্টারে বিষয়টি জানানো এবং যাত্রার সময় প্রয়োজন হলে TTE-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
ট্রেনে সফরের সময় গর্ভবতী মহিলাদের উপরের বা মাঝের বার্থে ওঠানামা করা বেশ অসুবিধাজনক হতে পারে। তাই ভারতীয় রেলের বার্থ বরাদ্দ ব্যবস্থায় তাঁদের জন্য লোয়ার বার্থে অগ্রাধিকারের ব্যবস্থা রয়েছে। অনলাইনে টিকিট কাটার সময় নিচের বার্থ না মিললেও রিজার্ভেশন কাউন্টার কিংবা ট্রেনে ওঠার পর TTE-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে খালি লোয়ার বার্থের জন্য অনুরোধ করা যেতে পারে।








