Indian Railways: ২০২৫-এর রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস! শ্রাবণী মেলার প্রথম দুই সোমবারেই পূর্ব রেলের আয় প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা, যাত্রীও রেকর্ড সংখ্যায়

শ্রাবণী মেলা ২০২৬-এ পূর্ব রেলের বড় সাফল্য। তারকেশ্বর ও শেওড়াফুলি রুটে বেড়েছে যাত্রী সংখ্যা, প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার রাজস্ব আয়। বিশেষ ট্রেন, নিরাপত্তা ও উন্নত পরিষেবায় তৈরি হয়েছে নতুন রেকর্ড।

শ্রাবণ মাসে তারকেশ্বরমুখী ভক্তদের ভিড় সামাল দিতে এবার আগেভাগেই বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছিল পূর্ব রেল। সেই কৌশলই মিলিয়েছে সাফল্য। ২০২৬ সালের শ্রাবণী মেলার প্রথম দুই সোমবারে যাত্রী সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনই রেলের আয়ও ছুঁয়েছে নতুন উচ্চতা। গত বছরের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে রাজস্ব আদায়ে বড়সড় উত্থান ঘটেছে।

বিশেষ ট্রেন ও বাড়তি কোচেই মিলল সাফল্য

শ্রাবণী মেলায় বিপুল যাত্রীসমাগমের কথা মাথায় রেখে হাওড়া ডিভিশন তারকেশ্বর ও শেওড়াফুলি রুটে মোট ২৪৬টি বিশেষ ট্রেন ট্রিপ পরিচালনা করে। পাশাপাশি অতিরিক্ত কোচ সংযোজন এবং স্ট্যান্ডবাই রেক প্রস্তুত রাখার ফলে যাত্রী পরিষেবা ছিল অনেকটাই নির্বিঘ্ন।পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওষ্করের নেতৃত্বে নেওয়া এই পরিকল্পনাই এবারের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি বলে মনে করছে রেল।

২০২৫-এর তুলনায় কতটা বাড়ল যাত্রী ও আয়?

গত বছরের তুলনায় এবারের পরিসংখ্যান যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক।

তারকেশ্বর স্টেশন

২০২৫ সালের প্রথম দুই সোমবারে যাত্রী: ১,৮৫,৩১০

২০২৬ সালে বেড়ে হয়েছে: ১,৯৮,৪১৯

বৃদ্ধি: ৭.০৭%

রাজস্বের ক্ষেত্রেও বড় লাফ দেখা গেছে।

২০২৫ সালে আয়: ৩৩,০৮,৭২০ টাকা

২০২৬ সালে আয়: প্রায় ৩৯.৭৭ লক্ষ টাকা

বৃদ্ধি: ২০.২১%

অন্যদিকে শেওড়াফুলি জংশনেও ইতিবাচক চিত্র দেখা গিয়েছে।

যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে ১২.২৫%, মোট ৬৩,৯৪৮ জন

রাজস্ব বেড়েছে ১৭.৮৮%, আয় হয়েছে ৫,৩৫,২৯০ টাকা

যাত্রী নিরাপত্তায় ছিল বিশেষ নজর

শুধু ট্রেন বাড়ানো নয়, যাত্রী নিরাপত্তা ও সুবিধার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

রেল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ছিল—

পৃথক প্রবেশ ও প্রস্থান পথ

অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার

নিরবচ্ছিন্ন পানীয় জলের ব্যবস্থা

পরিষ্কার শৌচাগার

উন্নত স্টেশন আলোকসজ্জা

রিয়েল-টাইম ট্রেন ডিসপ্লে ও অডিও ঘোষণা

ফার্স্ট এইড ও মেডিক্যাল ক্যাম্প

ফুট ওভারব্রিজ ও এসকেলেটরের উন্নত পরিষেবা

হাওড়া ডিভিশনের আধিকারিকরাও মাঠপর্যায়ে থেকে পুরো ব্যবস্থাপনার তদারকি করেন।

কী বলছে পূর্ব রেল?

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, পরিকল্পিত ভিড় নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত ট্রেন পরিষেবা এবং উন্নত যাত্রী সুবিধার মাধ্যমে তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করাই ছিল মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও একইভাবে উন্নত পরিষেবা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পূর্ব রেল।

শ্রাবণী মেলাকে ঘিরে পূর্ব রেলের পরিকল্পিত পরিষেবা এবার এনে দিল নজিরবিহীন সাফল্য। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬-এ যাত্রী সংখ্যা ও রাজস্ব—দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। বিশেষ ট্রেন, অতিরিক্ত কোচ, কড়া নিরাপত্তা ও উন্নত যাত্রী পরিষেবার ফলেই এই সাফল্য বলে দাবি রেল কর্তৃপক্ষের।

Leave a comment