তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক উত্তেজনার জেরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দর ৯৫.১৭-তে নেমেছে।

ভারতীয় রুপি মার্কিন ডলারের বিপরীতে 95.17 স্তরে নেমে 2026 সালের সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে। অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার এবং বৈশ্বিক ডলারের শক্তিশালী অবস্থান মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

ভারতের মুদ্রাবাজারে সোমবার চাপের পরিস্থিতি দেখা যায়, যেখানে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি দুর্বল হয়ে 95.17 স্তরে পৌঁছায়। এটি 2026 সালের মধ্যে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন স্তর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির এই পতনকে বৈশ্বিক এবং দেশীয় উভয় অর্থনৈতিক কারণের সম্মিলিত প্রভাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা এবং শেয়ারবাজারে তীব্র বিক্রির চাপ মুদ্রার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলোতে রুপির দিক আরও দুর্বল হতে পারে। কিছু বিশ্লেষক 2026 সালের মধ্যে ডলারের বিপরীতে রুপির মান 100 পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন, যদিও এটিকে একটি অনুমানভিত্তিক পরিস্থিতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি রুপির ওপর চাপ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ভারত তার মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় 85 শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে, ফলে দেশটি তেলের আন্তর্জাতিক দামের ওঠানামার প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় 105 ডলারে পৌঁছেছে। এর সরাসরি প্রভাব ভারতের আমদানি ব্যয়ের ওপর পড়ছে, যার ফলে ডলারের চাহিদা বাড়ছে এবং রুপি দুর্বল হচ্ছে। উচ্চ তেলের দাম বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও চাপ তৈরি করছে।

তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক উত্তেজনার জেরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দর ৯৫.১৭-তে নেমেছে।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ডলারের মতো নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন, যার ফলে ডলার আরও শক্তিশালী হচ্ছে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বৈশ্বিক বাজারকে প্রভাবিত করেছে।

ভারতীয় শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিক পতন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি বাড়িয়েছে। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) পুঁজি প্রত্যাহার করলে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পায়, যার ফলে রুপির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। সেনসেক্স এবং নিফটিতে তীব্র পতনের সময় বাজার থেকে কয়েকশো কোটি রুপির পুঁজি প্রত্যাহারের ঘটনা দেখা গেছে, যা মুদ্রাকে আরও দুর্বল করেছে।

মার্কিন অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং সুদের হারের অবস্থানের কারণে বৈশ্বিক বাজারে ডলার শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ডলার সূচক শক্তিশালী হলে সাধারণত উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রাগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, রুপির ভবিষ্যৎ দিক মূলত বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, যদি অপরিশোধিত তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং বিদেশি বিনিয়োগে ধারাবাহিক হ্রাস দেখা যায়, তাহলে রুপির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

তবে একাধিক অর্থনীতিবিদের মতে, ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নীতিগত পদক্ষেপ রুপিকে বৃহৎ মাত্রায় স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করতে পারে। সেই কারণে ডলারের বিপরীতে 100 রুপির স্তরকে বর্তমানে সম্ভাব্য হলেও অনিশ্চিত অনুমান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

Leave a comment