বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ভারতীয় শেয়ারবাজারে লেনদেনের শুরুতেই উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যায়। সেনসেক্স ও নিফটি, উভয় সূচকেই বড় অঙ্কের বৃদ্ধি হয়। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে পতন ভারতীয় শেয়ারবাজারকে ঊর্ধ্বমুখী হতে সহায়তা করেছে। প্রাথমিক লেনদেনে সেনসেক্স প্রায় ১,৪০০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। অন্যদিকে, নিফটি ২৪,৩০০ পয়েন্টের গণ্ডি অতিক্রম করে।
বৃহস্পতিবার সকালে বাজার খোলার পর থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক কেনাকাটা দেখা যায়। সকাল প্রায় ৯টা ১৮ মিনিটে বিএসই সেনসেক্স ১.৮৩ শতাংশ বেড়ে ৭৮,৭১৯.৭২ পয়েন্টে লেনদেন করছিল। অন্যদিকে, এনএসই নিফটি ১.৬৬ শতাংশ বেড়ে পৌঁছয় ২৪,৩৫৭.৩০ পয়েন্টে।
এর আগের দিন, বুধবারও ভারতীয় শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গিয়েছিল। সেনসেক্স ৩৮৩.৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ৭৭,৩০১.৪০ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছিল। নিফটিও ১৪৯.৭৫ পয়েন্ট বেড়ে ২৩,৯৬০.৬০ পয়েন্টে লেনদেন শেষ করে। বৃহস্পতিবারের উত্থানের ফলে বাজার প্রায় তিন মাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছয়।
বাজার খোলার আগেই লেনদেনের ইতিবাচক সূচক পাওয়া গিয়েছিল। এনএসই ইন্টারন্যাশনাল এক্সচেঞ্জে GIFT Nifty প্রায় ৩৭৭ পয়েন্ট বা ১.৫৭ শতাংশ বেড়ে ২৪,৩২৭ পয়েন্টে লেনদেন করছিল। এর ফলে দেশীয় শেয়ারবাজারে কেনাকাটার প্রবণতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
৩ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি জয়লাভ করেছে। দলটি মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেট এবং নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভস, উভয় ক্ষেত্রেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এই ফলাফলকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনের ফলাফল শুধু মার্কিন বাজারেই নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের শেয়ারবাজারেও প্রভাব ফেলেছে। বিনিয়োগকারীদের একাংশের প্রত্যাশা, মার্কিন রাজনীতিতে এই পরিবর্তনের ফলে ইরানের সঙ্গে চলা সংঘাতের অবসানে আলোচনার পথ আরও এগোতে পারে। তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সংঘাতের উত্তেজনা কমার প্রত্যাশাও বাজারের ঊর্ধ্বগতির অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
![]()
ভারতীয় শেয়ারবাজারের উত্থানের পিছনে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমাও অন্যতম কারণ। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৮.৭ শতাংশ কমেছিল। বৃহস্পতিবার সকালে দাম আরও কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৩.৫০ ডলারে পৌঁছয়। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় দুই মাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসে।
ভারত নিজের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে দেশের আমদানি ব্যয় হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ কমতে পারে এবং বিভিন্ন সংস্থার উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয়েও প্রভাব পড়তে পারে।
তেলের দামের এই পতন বিমান পরিবহণ, রং, রাসায়নিক এবং অন্যান্য তেলনির্ভর শিল্পের সংস্থাগুলির জন্যও সুবিধাজনক হতে পারে।
মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর ওয়াল স্ট্রিটেও উল্লেখযোগ্য কেনাকাটা দেখা যায়। বুধবার S&P 500 সূচক প্রায় ১.৬ শতাংশ বেড়েছিল। গত তিন মাসের মধ্যে এটি ছিল সূচকটির সর্বোচ্চ একদিনের উত্থান। প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ার নিয়ে গঠিত Nasdaq 100 সূচক প্রায় ০.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, Dow Jones সূচকেও ৩ শতাংশের বেশি উত্থান রেকর্ড করা হয়।
বৃহস্পতিবার এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলিতে মিশ্র প্রবণতা দেখা যায়। প্রাথমিক লেনদেনে জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার বাজারে বৃদ্ধি হলেও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে চাপ ছিল। MSCI Asia Pacific সূচক প্রাথমিক লেনদেনে প্রায় ০.৩ শতাংশ বেড়েছিল।
শেয়ারবাজারের পাশাপাশি ভারতীয় মুদ্রার মূল্যেও উন্নতি দেখা যায়। বৃহস্পতিবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকা ২৯ পয়সা শক্তিশালী হয়ে ৯৪.৩৫ স্তরে খোলে। বুধবার লেনদেন শেষে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময়মূল্য ছিল ৯৪.৬৪।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাজারে ফিরে আসাও ভারতীয় শেয়ারবাজারের উত্থানে সহায়তা করেছে। বুধবার বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ারবাজারে প্রায় ৭,২৮৪ কোটি টাকার নিট বিনিয়োগ করেন। টানা চতুর্থ লেনদেনের দিনেও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিট ক্রেতা ছিলেন।
বাজারের এই ঊর্ধ্বগতি শুধুমাত্র বড় সংস্থার শেয়ারে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রাথমিক লেনদেনে ১৬টি প্রধান ক্ষেত্রের মধ্যে ১৪টিতে বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়। মিডক্যাপ এবং স্মলক্যাপ শেয়ারগুলির সূচকও ১ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।












