ধনতেরাস ও দীপাবলির আগে সোনা ও রুপোর দামে ফের ওঠানামা শুরু হয়েছে। অক্টোবর মাসে বড় ধরনের দরপতনের পর নভেম্বরের শুরুতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে দুই মূল্যবান ধাতু। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ফের সোনার দামে চাপ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপোর দাম দুর্বল থাকলেও দেশের ফিউচার মার্কেটে প্রাথমিক লেনদেনে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। বর্তমানে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১.৩৯ লক্ষ টাকা।
ভারতীয় ফিউচার মার্কেট মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) মঙ্গলবার সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১.৪০ লক্ষ টাকার আশপাশে ছিল। সকালের লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর ডেলিভারির সোনা প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১,৪০,২৪২ টাকায় লেনদেন করতে দেখা যায়।
অন্যদিকে, ডিসেম্বর ফিউচার রুপোর দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ১,৮৩,৫৫৫ টাকা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে লেনদেন চলাকালীন দুই মূল্যবান ধাতুর দামেই ধারাবাহিক ওঠানামা লক্ষ্য করা গিয়েছে।
এর আগে অক্টোবর মাসে সোনা ও রুপোর দামে বড়সড় পতন হয়েছিল। MCX-এ গোটা মাসে সোনার দাম প্রায় ৭ শতাংশ কমেছিল। অন্যদিকে, রুপোর দাম প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছিল। নভেম্বরের শুরুতে দুই ধাতুর দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও বাজারে এখনও স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে না।
![]()
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, মুম্বইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১,৩৯,৩৮০ টাকা ছিল। অন্যদিকে, ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১,২৭,৭৭০ টাকা নথিভুক্ত হয়েছে।
তবে শহর এবং স্থানীয় গয়নার বাজার অনুযায়ী সোনার দামে পার্থক্য হতে পারে। দিল্লি, জয়পুর, লখনউ-সহ বিভিন্ন শহরে স্থানীয় কর, চাহিদা এবং বিক্রেতাদের নির্ধারিত প্রিমিয়ামের কারণে সোনার দামে কিছুটা হেরফের দেখা যায়।
গয়না কেনার ক্ষেত্রে বাজারে প্রকাশিত সোনার দর এবং চূড়ান্ত বিলের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। কারণ গয়নার দামের সঙ্গে মেকিং চার্জ এবং GST যুক্ত হয়।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপো, উভয় ধাতুর দামেই দুর্বলতা দেখা গিয়েছে। কমেক্সে (COMEX) সোনার দাম প্রতি আউন্সে প্রায় ৩,৯৫৪ ডলার এবং রুপোর দাম প্রতি আউন্সে প্রায় ৫০.১৮ ডলারের আশপাশে লেনদেন করতে দেখা যায়।
গত এক সপ্তাহে ডলারের হিসাবে সোনার দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। কোটাক মাহিন্দ্রা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ফান্ড ম্যানেজার সতীশ দোন্ডাপতির মতে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর অবস্থান সোনার দামের ক্ষেত্রে চাপের কারণ হয়ে উঠেছে।
আমেরিকায় দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার উচ্চস্তরে থাকার আশঙ্কা সোনার চাহিদাকে প্রভাবিত করতে পারে। সোনা থেকে কোনও সুদ পাওয়া যায় না। ফলে বন্ড এবং অন্যান্য বিনিয়োগের বিকল্পে বেশি রিটার্ন পাওয়া গেলে কিছু বিনিয়োগকারী সোনা থেকে অর্থ সরিয়ে অন্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে পছন্দ করেন।









