শুক্রবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে লেনদেনের শুরু সতর্কতার সঙ্গে হতে পারে। বৈশ্বিক শেয়ারবাজার থেকে ইতিবাচক সংকেত এবং অপরিশোধিত তেলের দামে পতন সত্ত্বেও মার্কিন বাণিজ্যনীতি, মুদ্রাস্ফীতির তথ্য এবং আন্তর্জাতিক বাজারের গতিবিধি দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। গিফট নিফটির প্রাথমিক প্রবণতাও ইঙ্গিত দিচ্ছে, Sensex এবং Nifty 50 সীমিত ওঠানামার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু করতে পারে।
গিফট নিফটি প্রায় 24,440-এর আশপাশে লেনদেন করতে দেখা গেছে, যা Nifty Futures-এর আগের বন্ধ স্তরের তুলনায় প্রায় 25 পয়েন্ট নিচে। এর ফলে প্রাথমিক লেনদেনে ভারতীয় বাজারে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
আগের লেনদেনের দিনে দেশীয় বাজারে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল। BSE Sensex 113.61 পয়েন্ট বা 0.15% বেড়ে 78,079.96-এ বন্ধ হয়। NSE Nifty 50 40.10 পয়েন্ট বা 0.16% বেড়ে 24,395.85-এ পৌঁছায়। বাজারের পরবর্তী গতিপথ দেশীয় সূচকের পাশাপাশি বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহের ওপরও নির্ভর করবে।
ওয়াল স্ট্রিটের বৃদ্ধির পর শুক্রবার এশিয়ার অধিকাংশ বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। জাপানের Nikkei 225 প্রায় 1.87% বেড়েছে, আর Topix সূচক প্রায় 0.98% বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার Kospi 2.36% পর্যন্ত বেড়েছে, যদিও Kosdaq-এ দুর্বলতা দেখা গেছে। প্রযুক্তি ও অন্যান্য প্রধান শেয়ারে কেনাকাটা এশিয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।

তবে হংকংয়ের Hang Seng Index Futures দুর্বল শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছে। এশিয়ার বাজারগুলোর এই মিশ্র প্রবণতা ভারতীয় শেয়ারবাজারের সূচনা এবং প্রাথমিক লেনদেনে প্রভাব ফেলতে পারে।
বৃহস্পতিবার মার্কিন শেয়ারবাজারে ইতিবাচক লেনদেন হয়েছে। উৎপাদক মূল্য মুদ্রাস্ফীতির তুলনামূলকভাবে নরম তথ্য প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে কেনাকাটা বাড়িয়েছেন। সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশার পরিবর্তনও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
Dow Jones Industrial Average 0.13% বেড়ে 53,839.99-এ বন্ধ হয়েছে। S&P 500 0.65% বেড়ে 7,798.99-এর রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে। প্রযুক্তি শেয়ারের বৃদ্ধির ফলে Nasdaq Composite 0.81% বেড়ে 26,803.03-এ বন্ধ হয়েছে।
জুলাইয়ে মার্কিন Producer Price Index বা PPI মাসিক ভিত্তিতে অপরিবর্তিত ছিল। জুনে সংশোধিত তথ্য অনুযায়ী এই সূচকে 0.1% পতন হয়েছিল। বার্ষিক ভিত্তিতে জুলাইয়ে PPI 4.7% বেড়েছে, যেখানে জুনে বৃদ্ধির হার ছিল 5.5%। বিনিয়োগকারীরা এই মুদ্রাস্ফীতির তথ্যকে মার্কিন Federal Reserve-এর ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির সম্ভাব্য সংকেত হিসেবে দেখছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মানবরহিত ড্রোন এবং এর যন্ত্রাংশ আমদানিতে 100% পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের মতে, এই শুল্ক 21 দিনের মধ্যে কার্যকর হতে পারে।
এছাড়া মার্কিন বাণিজ্যনীতি সম্পর্কিত আরও একটি ঘটনাপ্রবাহও বিনিয়োগকারীদের নজরে থাকবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বিভিন্ন দেশের কোম্পানির ব্যবসায় প্রভাব ফেলতে পারে। বাড়তি শুল্ক বৈশ্বিক বাণিজ্য, উৎপাদন এবং রপ্তানিনির্ভর কোম্পানিগুলোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বৈশ্বিক চাহিদা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা এবং মার্কিন অপরিশোধিত তেলের মজুত বৃদ্ধির কারণে তেলের দামে চাপ রয়েছে। আগের সেশনে 2%-এর বেশি পতনের পর Brent Crude প্রায় 0.08% কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় 87 ডলারে ছিল। WTI Crude-ও প্রায় 0.06% কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় 81.20 ডলারে পৌঁছেছে।









