Weekend Tourist Spot: শহরের কোলাহল ছেড়ে একদিনের জন্য হারিয়ে যান প্রকৃতির মাঝে, নদিয়ার বনবিবিতলা হতে পারে আপনার পরের গন্তব্য

শহরের কোলাহল থেকে দূরে একদিনের ডে-ট্রিপে ঘুরে আসুন নদিয়ার বনবিবিতলা। বিশাল প্রাচীন বটগাছ, পলদা বিল, যাওয়ার পথ ও সেরা সময় জানুন।

প্রতিদিনের ব্যস্ততা, যানজট আর শহরের কোলাহল থেকে মাঝেমধ্যে একটু দূরে সরে যেতে কার না ভালো লাগে! কিন্তু দূরে কোথাও যাওয়ার জন্য সবসময় বড় বাজেট বা একাধিক দিনের ছুটির প্রয়োজন হয় না। নদিয়ার বনবিবিতলা এমনই একটি নিরিবিলি জায়গা, যেখানে প্রকৃতির সান্নিধ্যে একটি দিন কাটিয়েই মনকে অনেকটা সতেজ করে নেওয়া যায়। এখানকার বিশালাকার প্রাচীন বটবৃক্ষই এই এলাকার প্রধান আকর্ষণ।

নদিয়ার ‘গ্রেট বেনিয়ান ট্রি’ বনবিবিতলা

নদিয়ার এই এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল বটগাছটি সাধারণ কোনও গাছ নয়। অসংখ্য ঝুরি ও শিকড় মাটিতে নেমে একাধিক প্রাকৃতিক স্তম্ভের মতো গড়ে তুলেছে বিস্তীর্ণ সবুজ পরিসর। স্থানীয়দের কাছে গাছটি ‘বনবিবি’ নামেই পরিচিত।প্রায় ১০ বিঘারও বেশি জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই বটবৃক্ষকে ঘিরে রয়েছে একাধিক লোকবিশ্বাস। গাছটির সঠিক বয়সের নির্ভরযোগ্য তথ্য না থাকলেও স্থানীয়দের ধারণা, এটি কয়েকশো বছরের পুরনো।

ধর্মীয় আবহের সঙ্গে প্রকৃতির অপূর্ব মেলবন্ধন

বটগাছের নীচেই রয়েছে বনবিবিতলার ছোট মন্দির। পাশাপাশি বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তিও রয়েছে। ফলে জায়গাটির সঙ্গে স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় আবেগ ও বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে রয়েছে।তবে পর্যটকদের কাছে বনবিবিতলার আকর্ষণ শুধুমাত্র ধর্মীয় কারণে নয়। বিশাল গাছের ছায়া, ঝুরি-শিকড় এবং চারপাশের শান্ত পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আলাদাঅভিজ্ঞতা তৈরি করে।

পলদা বিল আর গ্রামীণ পরিবেশ বাড়ায় সৌন্দর্য

বনবিবিতলার আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশও কম আকর্ষণীয় নয়। বিশাল বটগাছের সঙ্গে পাশের পলদা বিল এবং চারপাশের গ্রামীণ দৃশ্য মিলে তৈরি হয়েছে মনোরম পরিবেশ।শীতকালে কুয়াশায় ঢাকা সকাল কিংবা বিকেলের নরম আলোয় এই জায়গার সৌন্দর্য আরও ফুটে ওঠে। ছবি তুলতে ভালোবাসেন এমন পর্যটক কিংবা শহরের ব্যস্ততা থেকেকয়েক ঘণ্টার জন্য মুক্তি চান, তাঁদের জন্য জায়গাটি বেশ উপযোগী।

কীভাবে যাবেন বনবিবিতলা?

নদিয়ার বনবিবিতলায় পৌঁছনোর জন্য প্রথমে কৃষ্ণনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে মাজদিয়া রুটের বাসে উঠতে হবে। শাকদহ মোড়ে নেমে সেখান থেকে অটো নিয়ে বাগবেড়িয়া পঞ্চায়েত অফিসের কাছে পৌঁছনো যায়।পঞ্চায়েত অফিস থেকে বনবিবিতলার দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। চাইলে এই পথ হেঁটেও যেতে পারেন। ব্যক্তিগত গাড়ি বা বাইক থাকলে সরাসরি গন্তব্যের কাছাকাছিপৌঁছনোর সুযোগ রয়েছে।

কোন সময় গেলে সবচেয়ে ভালো?

দুর্গাপুজোর পর থেকে শীতের শেষ পর্যন্ত বনবিবিতলা ঘোরার আদর্শ সময় বলে মনে করা হয়। শীতের মিঠে রোদ, কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল এবং বিকেলের সোনালি আলোয় বিশাল বটগাছের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।তবে বর্ষাকাল বা অন্য সময়েও প্রকৃতির নিজস্ব রূপ দেখতে এখানে যাওয়া সম্ভব। আবহাওয়া এবং রাস্তার পরিস্থিতি দেখে পরিকল্পনা করাই ভালো।

যাওয়ার আগে মাথায় রাখুন এই বিষয়গুলি

বনবিবিতলা এখনও বড় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। তাই আশপাশে বড় বাজার বা পর্যাপ্ত খাবারের দোকান নাও পাওয়া যেতে পারে। ফলে যাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানীয় জল, খাবার এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী সঙ্গে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।এছাড়া জায়গাটির প্রাকৃতিক পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকেও পর্যটকদের দায়িত্বশীল হতে হবে। প্লাস্টিক, খাবারের প্যাকেট বা অন্যান্য আবর্জনা যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা জরুরি।

উইকএন্ডে কম খরচে একটু নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে নদিয়ার বনবিবিতলা হতে পারে দারুণ একটি ডে-ট্রিপ গন্তব্য। বিশাল প্রাচীন বটগাছ, অসংখ্য ঝুরি-শিকড়, পলদা বিল এবং গ্রামীণ পরিবেশ মিলিয়ে জায়গাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন কেড়ে নেয়। কীভাবে যাবেন, কখন গেলে ভালো এবং কী কী বিষয় মাথায় রাখবেন, রইল বিস্তারিত।

Leave a comment