মঙ্গলবার ১০ মার্চ ভারতীয় শেয়ারবাজারে লেনদেনের সূচনা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে হয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে ইতিবাচক সংকেত এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে, যার প্রভাব দেশীয় বাজারেও দেখা গেছে। প্রাথমিক লেনদেনে সেনসেক্স ও নিফটি উভয় প্রধান সূচকই ঊর্ধ্বগতিতে লেনদেন করতে দেখা যায়।
লেনদেনের শুরুতে বিএসই সেনসেক্স 78,375 পয়েন্টে শক্ত অবস্থানে খুলেছিল। এর আগে সোমবার সূচকটি 77,566 পয়েন্টে বন্ধ হয়েছিল। বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই সকাল প্রায় 9:21 নাগাদ সেনসেক্স 411.89 পয়েন্ট বা প্রায় 0.53 শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে প্রায় 77,978.05 পয়েন্টে লেনদেন করতে দেখা যায়।
এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ হিসেবে বৈশ্বিক সংকেত এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমার সম্ভাবনাকে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি এভিয়েশন এবং ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস খাতের শেয়ারে ক্রয়চাপও বাজারকে সমর্থন দিয়েছে।
নিফটি 50 সূচকের সূচনা শক্তিশালী
ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক নিফটি-50 মঙ্গলবার শক্তিশালী সূচনায় 24,280 পয়েন্টে খোলে এবং প্রাথমিক লেনদেনেই 24,300 পয়েন্ট অতিক্রম করে।
সকাল প্রায় 9:24 নাগাদ নিফটি প্রায় 125 পয়েন্ট বা প্রায় 0.52 শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে 24,200 পয়েন্টের কাছাকাছি লেনদেন করছিল। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে বৈশ্বিক সংকেত এবং দেশীয় বিনিয়োগকারীদের ক্রয় কার্যকলাপ সূচককে সমর্থন দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে যে ওঠানামা দেখা যাচ্ছিল তার পর এই সূচনা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এভিয়েশন এবং ফাইন্যান্সিয়াল শেয়ারে ক্রয়চাপ
মঙ্গলবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে কিছু খাতে উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। বিশেষ করে এভিয়েশন এবং ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে।
এভিয়েশন কোম্পানির শেয়ারে ঊর্ধ্বগতির একটি কারণ হিসেবে কাঁচা তেলের দামের পতনকে ধরা হচ্ছে। ক্রুড অয়েলের দাম কমলে এয়ারলাইন সংস্থাগুলোর ব্যয় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে পারে।
ফাইন্যান্সিয়াল খাতের শেয়ারে ক্রয় কার্যকলাপও বাজারকে ভিত্তি দিয়েছে। ব্যাংকিং এবং আর্থিক পরিষেবা সংস্থার পারফরম্যান্স প্রায়শই বাজারের দিকনির্দেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বৈশ্বিক বাজারের ইতিবাচক সংকেত
মঙ্গলবার এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। একাধিক প্রধান এশীয় সূচকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়েছে, যা বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক প্রায় 6 শতাংশের বেশি বৃদ্ধি নিয়ে অঞ্চলের সর্বাধিক ঊর্ধ্বমুখী বাজার ছিল। এছাড়া জাপানের নিক্কেই 225 সূচকও প্রায় 5 শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এশীয় বাজারে এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব ভারতীয় বাজারেও পড়েছে। বৈশ্বিক বাজারে উন্নতি হলে তার প্রভাব প্রায়শই দেশীয় বাজারেও প্রতিফলিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা নিয়ে ট্রাম্পের ইঙ্গিত
বৈশ্বিক বাজারে উন্নতির একটি কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা সম্পর্কিত নতুন খবরও উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টা করে তবে তাদের বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতে পারে। এই মন্তব্যের পর বৈশ্বিক বাজারে কিছুটা স্বস্তির প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমার প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে এবং বাজারে ক্রয়চাপ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন বাজার এবং ফিউচার্সের অবস্থা
তবে মার্কিন শেয়ারবাজারের ফিউচার্সে সামান্য দুর্বলতা দেখা গেছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ এবং এসঅ্যান্ডপি 500 ফিউচার্স যথাক্রমে প্রায় 0.22 শতাংশ এবং 0.25 শতাংশ পতনের সঙ্গে লেনদেন করছিল।
এর বিপরীতে সোমবার মার্কিন শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে বন্ধ হয়েছিল। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ প্রায় 0.5 শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে বন্ধ হয়, আর এসঅ্যান্ডপি 500 সূচক প্রায় 0.83 শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে দিন শেষ করে।
মার্কিন বাজারের এই ঊর্ধ্বগতি বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিবেশকে সহায়তা করেছে।
কাঁচা তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা তেলের দামে বড় পতন নথিভুক্ত হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় 11 শতাংশ কমে প্রায় 88.05 ডলার প্রতি ব্যারেলে নেমে আসে।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী সকাল প্রায় 7:20 নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় 88.70 ডলার প্রতি ব্যারেলে লেনদেন করছিল, যা প্রায় 10.37 শতাংশ পতন নির্দেশ করে।
কাঁচা তেলের দামের পতনের প্রভাব একাধিক খাতে পড়তে পারে। বিশেষ করে এভিয়েশন, পরিবহন এবং কিছু উৎপাদনকারী সংস্থার জন্য এটি ব্যয় কমার সম্ভাবনার কারণে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
সোনা ও রূপার ফিউচার্সে বৃদ্ধি
কমোডিটি বাজারে সোনা এবং রূপার ফিউচার্সে বৃদ্ধি দেখা গেছে। ডলার সূচকে পতন এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমার প্রত্যাশার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা মূল্যবান ধাতুর দিকে ঝুঁকেছেন।
এই সময় সোনার ফিউচার্স প্রায় 1.55 শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে লেনদেন করছিল। একই সময়ে রূপার ফিউচার্সে প্রায় 6.06 শতাংশ বৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়।
আইপিও বাজারে কার্যকলাপ
প্রাইমারি মার্কেটেও কার্যকলাপ লক্ষ্য করা গেছে। ইনোভিজন-এর আইপিও মঙ্গলবার বিনিয়োগের জন্য খুলেছে। এটি প্রায় 322.84 কোটি টাকার বুক বিল্ডিং ইস্যু, যেখানে ফ্রেশ ইস্যু এবং অফার ফর সেল উভয়ই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া রাজপুতানা স্টেইনলেস-এর আইপিও দ্বিতীয় দিনে সাবস্ক্রিপশনের জন্য খোলা ছিল। প্রথম দিনে এই আইপিও 0.30 গুণ সাবস্ক্রিপশন পেয়েছিল। অন্যদিকে শ্রীনিবাস প্রধান কনস্ট্রাকশন-এর আইপিওতে আবেদন করার শেষ দিন ছিল মঙ্গলবার। দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত এই আইপিও প্রায় 1.01 গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছে।









