২ জুন দুর্বল সূচনায় খোলায় নিফটি ৫০ ও সেনসেক্স পতনে আইটি ও মেটাল শেয়ারে ক্রয় আগ্রহ

২ জুন ভারতীয় শেয়ারবাজার দুর্বল সূচনার মধ্য দিয়ে খোলে, যেখানে নিফটি ৫০ এবং বিএসই সেনসেক্স পতনের সঙ্গে লেনদেন শুরু করে। বাজারে বিস্তৃত বিক্রির চাপের মধ্যে আইটি ও মেটাল খাতে ক্রয় আগ্রহ দেখা যায়, অন্যদিকে NHPC-র শেয়ারে সরকারের OFS পরিকল্পনার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

২ জুন ভারতীয় শেয়ারবাজার দুর্বল সূচনার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু করে এবং উভয় প্রধান সূচক পতনের সঙ্গে খোলে। নিফটি ৫০ ১৫৩ পয়েন্ট পতনের পর ২৩,২২৯ স্তরে লেনদেন শুরু করে, অন্যদিকে বিএসই সেনসেক্স ৩২২ পয়েন্ট কমে ৭৩,৯৪৫ স্তরে পৌঁছায়। প্রাথমিক লেনদেনে বাজারে বিক্রির চাপ স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

সপ্তাহের শুরুর ট্রেডিং সেশনে বৈশ্বিক বাজার থেকে মিশ্র সংকেত এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের মধ্যে প্রধান বেঞ্চমার্ক সূচক নিফটি ৫০ এবং বিএসই সেনসেক্স উভয়ই পতনের সঙ্গে খোলে। তবে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) এবং মেটাল খাতের শেয়ারে ক্রয় আগ্রহ বাজারে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়।

প্রাথমিক লেনদেনে বিস্তৃত বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেলেও নির্বাচিত কয়েকটি খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বজায় ছিল। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং দেশীয় কর্পোরেট ঘটনাপ্রবাহের কারণে বিনিয়োগকারীরা আপাতত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছেন।

নিফটি ৫০ এবং সেনসেক্সে প্রাথমিক পতন

লেনদেনের শুরুতে নিফটি ৫০ ১৫০ পয়েন্টের বেশি পতনের সঙ্গে খোলে, অন্যদিকে সেনসেক্সে ৩০০ পয়েন্টের বেশি দুর্বলতা দেখা যায়। প্রাথমিক সেশনে অধিকাংশ শেয়ারে চাপ লক্ষ্য করা যায় এবং বাজারের সামগ্রিক প্রবণতা নেতিবাচক থাকে। নিফটি ৫০-এর অধিকাংশ উপাদান শেয়ার নিম্নমুখী অবস্থায় লেনদেন করতে দেখা যায়, যদিও সীমিত সংখ্যক শেয়ার বৃদ্ধি নথিভুক্ত করে। এতে ইঙ্গিত মিলেছে যে বিনিয়োগকারীরা আপাতত ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন।

আইটি খাতে ক্রয় আগ্রহ

বাজারের সামগ্রিক দুর্বলতার মধ্যেও আইটি খাত তুলনামূলকভাবে ভালো পারফরম্যান্স দেখায়। প্রধান প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে ক্রয় কার্যকলাপ দেখা যায়, যার ফলে আইটি সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নথিভুক্ত হয়। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বিশেষভাবে ভারতের শীর্ষ আইটি পরিষেবা সংস্থাগুলির দিকে লক্ষ্য করা যায়। শক্তিশালী বৈশ্বিক চাহিদা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-সংক্রান্ত সম্ভাবনা এবং প্রযুক্তি পরিষেবার বাড়তি প্রয়োজনীয়তাকে এই খাতে ইতিবাচক মনোভাবের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় বাজারে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির উন্নত পারফরম্যান্সের প্রভাব ভারতীয় আইটি শেয়ারেও প্রতিফলিত হচ্ছে। এর ফলে বাজারে সামগ্রিক পতনের মধ্যেও প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ার তুলনামূলক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।

মেটাল খাতে ক্রয় অব্যাহত

আইটির পাশাপাশি মেটাল খাতও বাজারে কিছুটা সহায়তা প্রদান করে। ধাতু ও খনন সংস্থাগুলির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের ক্রয় কার্যকলাপ দেখা যায়, ফলে খাতটি ইতিবাচক অঞ্চলে অবস্থান করে। বিশেষ করে লৌহ আকরিক এবং খনিজ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির শেয়ার তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স করে। সাম্প্রতিক উৎপাদন তথ্য এবং পণ্যবাজারে স্থিতিশীলতার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা এই খাতে বজায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীন এবং অন্যান্য প্রধান শিল্প অর্থনীতিতে সম্ভাব্য চাহিদা বৃদ্ধির প্রত্যাশাও মেটাল সংস্থাগুলির শেয়ারকে সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে আর্থিক পরিষেবা, বীমা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের একাধিক প্রধান শেয়ারে বিক্রি লক্ষ্য করা যায়। এই খাতগুলিতে মুনাফা বুকিং এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার কারণে শেয়ারের ওপর চাপ বজায় থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে এই খাতগুলিতে উল্লেখযোগ্য র্যালির পর কিছু বিনিয়োগকারী মুনাফা বুকিং কৌশল গ্রহণ করছেন, যার ফলে প্রাথমিক লেনদেনে সংশ্লিষ্ট শেয়ারে দুর্বলতা দেখা যায়।

এনএইচপিসি-তে সরকারের অংশীদারিত্ব বিক্রির প্রভাব

সরকারি খাতের জলবিদ্যুৎ সংস্থা NHPC-এর শেয়ারেও পতন নথিভুক্ত হয়। এর প্রধান কারণ কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে অফার ফর সেল (OFS)-এর মাধ্যমে সংস্থায় নিজেদের অংশীদারিত্বের একটি অংশ বিক্রির পরিকল্পনা। সরকারের এই ঘোষণার পর বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেন, যার ফলে শেয়ারের ওপর চাপ দেখা যায়। তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে সংস্থার মৌলিক অবস্থানের ওপর এর প্রভাব সীমিত থাকতে পারে।

বাজার অংশগ্রহণকারীদের নজর এখন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে কেন্দ্রীভূত রয়েছে। তেলের দামের ওঠানামা, বৈশ্বিক সুদের হারের গতিপথ এবং প্রধান অর্থনীতিগুলির অর্থনৈতিক তথ্য আগামী দিনে বাজারের দিকনির্দেশ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

 

Leave a comment