রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। চার জেলার মোট ৪০টি বিধানসভা আসনের মধ্যে বিজেপির দখলে রয়েছে ৩৮টি। সেই রাজনৈতিক সাফল্যের প্রতিফলন দেখা গেল মন্ত্রিসভা গঠনেও। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া— এই চার জেলা থেকে মোট ৬ জন বিধায়ক মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পেলেন।

জঙ্গলমহলের ৪ জেলায় ৬ মন্ত্রী, বাড়ল রাজনৈতিক গুরুত্ব
জঙ্গলমহলের চার জেলার মধ্যে তিনটিতে বিরোধী শিবির কার্যত শূন্য। নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় এই অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো হয়েছে। মোট ৬ জন মন্ত্রীর মধ্যে রয়েছেন ২ জন পূর্ণমন্ত্রী, ১ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং ৩ জন প্রতিমন্ত্রী। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী দিনে জঙ্গলমহলের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক গুরুত্ব আরও বাড়তে চলেছে।
পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে দিলীপ ঘোষের মন্ত্রিত্ব
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর সদর কেন্দ্রের বিধায়ক Dilip Ghosh মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁকে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, কৃষি বিপণন এবং প্রাণিসম্পদ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে তাঁর উপর বড় প্রত্যাশা রয়েছে দলের।
বাঁকুড়া থেকে দুই মন্ত্রী
বাঁকুড়া জেলার রানিবাঁধের বিধায়ক Khudiram Tudu পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন। এর পাশাপাশি সোনামুখীর বিধায়ক Dibakar Gharami প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ফলে বাঁকুড়া থেকে দু’জন প্রতিনিধি মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন।

পুরুলিয়া পেল নাদিয়ার চাঁদ বাউরিকে
পুরুলিয়া জেলার প্রতিনিধিত্ব করছেন Nadiar Chand Bauri। মন্ত্রী হিসেবে তাঁর অন্তর্ভুক্তিকে জেলার উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে পরিকাঠামো, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের দাবিতে সরব ছিল জেলার মানুষ।
ঝাড়গ্রামের ঝুলিতে দুই মন্ত্রী
সবচেয়ে বেশি চর্চায় রয়েছে ঝাড়গ্রাম জেলা। এখান থেকে দু’জন বিধায়ক মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। নয়াগ্রামের বিধায়ক Amiya Kisku প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত অমিয় কিস্কুর মন্ত্রিত্বে উচ্ছ্বসিত নয়াগ্রামের মানুষ।অন্যদিকে গোপীবল্লভপুরের বিধায়ক Rajesh Mahato স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। কুড়মি আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে রাজেশ মাহাতোর রাজনৈতিক যাত্রা জঙ্গলমহলের রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

শিক্ষক থেকে মন্ত্রী, রাজেশ মাহাতোর উত্থান
মানিকপাড়ার এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা রাজেশ মাহাতো পেশায় ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন। কুড়মি সমাজের বিভিন্ন দাবি আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়েই তিনি জনপরিচিতি অর্জন করেন। পরে মূলধারার রাজনীতিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেন। এবার মন্ত্রিসভায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে মনে করছেন অনেকেই।

নতুন রাজ্য মন্ত্রিসভায় জঙ্গলমহলের চার জেলা থেকে মোট ৬ জন বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে জায়গা পেয়েছেন। ঝাড়গ্রাম জেলা থেকে দু’জন, বাঁকুড়া থেকে দু’জন, পশ্চিম মেদিনীপুর ও পুরুলিয়া থেকে একজন করে মন্ত্রী হয়েছেন। ফলে জঙ্গলমহল জুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।










