IPAC Case: ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা’—মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজে সুপ্রিম কোর্টে জোর সওয়াল কপিল সিব্বালের, কোন পথে যাচ্ছে মামলা?

IPAC Case: ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা’—মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজে সুপ্রিম কোর্টে জোর সওয়াল কপিল সিব্বালের, কোন পথে যাচ্ছে মামলা?

নয়াদিল্লিতে সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে বৃহস্পতিবার ফের উত্তপ্ত I-PAC মামলা। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সেই অভিযোগ খারিজ করে মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী কপিল সিব্বাল সাফ জানালেন—“এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা।” মামলার ভবিষ্যৎ এখন আদালতের পর্যবেক্ষণের দিকেই তাকিয়ে।

ইডি-র অভিযোগ: তদন্তে বাধা ও নথি ছিনিয়ে নেওয়া

ইডি আদালতে জানায়, I-PAC সংক্রান্ত তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্তারা হস্তক্ষেপ করেছেন। কেবল মুখ্যমন্ত্রী নন, কলকাতার পুলিশ কমিশনার ও ডিজি-র বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ তোলা হয়। ইডি-র দাবি, তদন্ত চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তুষার মেহেতার আক্রমণাত্মক সওয়াল

সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা প্রশ্ন তোলেন—উর্দি পরে কীভাবে এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তল্লাশির জায়গায় ঢুকলেন? ইডি যখন নথি খতিয়ে দেখছিল, তখন কীভাবে সেগুলি সরানো হল? তাঁর দাবি, তদন্ত সম্পূর্ণ আইন মেনেই হয়েছে, কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না।

বেঞ্চের প্রশ্ন: অথোরাইজেশন ছিল তো?

বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ইডি-কে প্রশ্ন করেন—তল্লাশিতে যাঁরা গিয়েছিলেন, তাঁদের কাছে কি যথাযথ অথোরাইজেশন লেটার ছিল? উত্তরে এসজি জানান, থানায় ও সংশ্লিষ্ট ভবনে ঢোকার সময় সব নথি দেখানো হয়েছিল। তাঁর কটাক্ষ—তাহলে মুখ্যমন্ত্রী এত আতঙ্কিত হলেন কেন?

 আদালতের পর্যবেক্ষণ: ‘অত্যন্ত সিরিয়াস বিষয়’

বিচারপতি মিশ্র মন্তব্য করেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। আদালত এই মামলার শুনানি করবে এবং নোটিস জারি করা হচ্ছে। এখানেই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

কপিল সিব্বালের পাল্টা সওয়াল

মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে সওয়াল করে কপিল সিব্বাল বলেন, এই মামলা হাইকোর্টেই শোনা হোক। তাঁর অভিযোগ—ইডি সমান্তরাল প্রক্রিয়া চালাতে চাইছে। নির্বাচনের মুখে দলীয় নথি যেখানে থাকে, সেখানে হঠাৎ তল্লাশি কেন? দু’বছর অপেক্ষা করে ঠিক এই সময়েই কেন অভিযান?

‘নির্বাচনী প্রক্রিয়া বিঘ্নিত করার চেষ্টা’

সিব্বালের যুক্তি, I-PAC অফিসে মূলত নির্বাচনী কৌশল ও দলীয় তথ্য থাকে। সব নথি কম্পিউটারে সংরক্ষিত। সেগুলি নিয়ে গেলে দল নির্বাচন করবে কীভাবে? মুখ্যমন্ত্রী চেয়ারপার্সন হিসেবে দলীয় নথি রক্ষা করতেই সেখানে গিয়েছিলেন—এটাই তাঁর অধিকার।

‘সব নথি নিয়ে গিয়েছেন’—দাব নস্যাৎ

সিব্বাল স্পষ্ট করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সব নথি নিয়ে গিয়েছেন—এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইডি নিজেই তাদের পঞ্চনামায় পরস্পরবিরোধী কথা বলছে। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত যদি কিছুই সিজ না হয়, তাহলে অভিযোগের ভিত্তি কোথায়?

I-PAC কাণ্ডে ইডি-র মামলায় সুপ্রিম কোর্টে তুমুল সওয়াল-জবাব। তদন্তে বাধা ও নথি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে ইডি। পাল্টা মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে দাঁড়িয়ে কপিল সিব্বালের স্পষ্ট বক্তব্য—সব অভিযোগই ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

Leave a comment