বিশ্বের অন্যতম ধনী ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আইপিএল শুধু ক্রিকেটীয় উত্তেজনার জন্য নয়, বিপুল অর্থমূল্যের কারণেও আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। ২০২৬ মরশুমে সেই চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে। ফাইনালে গুজরাত টাইটান্সকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের জন্য শিরোপা জিতেছে আরসিবি। ট্রফির পাশাপাশি দলটির ঘরে ঢুকেছে ২০ কোটি টাকার বিশাল পুরস্কার।
১৮ বছরে প্রাইজমানির অভাবনীয় উত্থান
আইপিএলের প্রথম সংস্করণ ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সময় চ্যাম্পিয়ন দল Rajasthan Royals পেয়েছিল মাত্র ৪.৮ কোটি টাকা। ১৮ বছরের ব্যবধানে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ কোটিতে। অর্থাৎ, প্রথম মরশুমের তুলনায় প্রাইজমানি বেড়েছে ৩১৬ শতাংশেরও বেশি।আইপিএলের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা, সম্প্রচার স্বত্বের বিপুল মূল্য এবং স্পনসরশিপের বিস্তার এই আর্থিক বৃদ্ধির মূল কারণ বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
ইতিহাস গড়ে আরসিবির ডাবল সাফল্য
ফাইনালে Royal Challengers Bengaluru-র সামনে ছিল Gujarat Titans। রজত পাটিদারের নেতৃত্বে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে বেঙ্গালুরু ৫ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নেয়। ২০২৫ সালে প্রথমবার আইপিএল জয়ের পর ২০২৬ সালেও ট্রফি ধরে রেখে বিরল নজির গড়ে দলটি।চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে আরসিবির ঝুলিতে এসেছে ২০ কোটি টাকার পুরস্কার, যা আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম বড় আর্থিক প্রাপ্তি।
রানার্স গুজরাতও পেল মোটা অঙ্ক
ফাইনালে হারলেও আর্থিক দিক থেকে লাভবান হয়েছে গুজরাত টাইটান্স। শুভমন গিলের নেতৃত্বাধীন দলটি রানার্স-আপ হিসেবে পেয়েছে ১৩ কোটি টাকা।টুর্নামেন্ট জুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে এই অর্থ গুজরাত ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
প্লে-অফে উঠেই কোটিপতি দুই দল
শুধু ফাইনালিস্টরাই নয়, প্লে-অফে পৌঁছানো বাকি দুই দলও মোটা অঙ্কের পুরস্কার পেয়েছে।
Rajasthan Royals (কোয়ালিফায়ার-২ পরাজিত) — ৭ কোটি টাকা
Sunrisers Hyderabad (এলিমিনেটর পরাজিত) — ৬.৫ কোটি টাকা
ফলে শীর্ষ চারটি দলের মধ্যেই ভাগ হয়েছে বিসিসিআই ঘোষিত ৪৬.৫ কোটিরও বেশি প্রাইজ পুল।
কেকেআর-সহ বাকি দলগুলি কি কিছু পেল?
আইপিএলের অফিসিয়াল নিয়ম অনুযায়ী, পঞ্চম থেকে দশম স্থানে শেষ করা দলগুলিকে আলাদা কোনও প্রাইজমানি দেওয়া হয় না। ফলে Kolkata Knight Riders-সহ অন্যান্য দল সরকারি পুরস্কারমূল্যের অংশ পায়নি।তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি স্পনসরশিপ, সম্প্রচার রাজস্ব এবং বাণিজ্যিক আয়ের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অর্থ উপার্জন করে থাকে।
পুরস্কারের টাকা কারা পান?
আইপিএলে জেতা অর্থ সরাসরি কোনও একজন খেলোয়াড়ের হাতে যায় না। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, মোট পুরস্কারমূল্যের একটি বড় অংশ খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের মধ্যে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বণ্টন করা হয়। বাকি অংশ ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকপক্ষের কাছে যায়।ফলে ট্রফি জয়ের আনন্দের পাশাপাশি পুরো দলের আর্থিক লাভও নিশ্চিত হয়।
আইপিএল ২০২৬ মরশুমে পুরস্কারমূল্যের অঙ্ক পৌঁছেছে নতুন উচ্চতায়। চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) জিতেছে ২০ কোটি টাকা, আর রানার্স-আপ গুজরাত টাইটান্স পেয়েছে ১৩ কোটি টাকা। প্লে-অফে পৌঁছানো বাকি দুই দলও কোটি কোটি টাকার পুরস্কার পেয়েছে। মোট ৪৬.৫ কোটিরও বেশি প্রাইজ পুল ঘোষণা করেছিল বিসিসিআই।









