ইরানে ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে চলমান সহিংস বিক্ষোভে প্রায় ২,০০০ নিহত, যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল তেহরান

ইরানে ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে চলমান সহিংস বিক্ষোভে প্রায় ২,০০০ নিহত, যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল তেহরান

ইরানে ডিসেম্বর ২০২৫-এর শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী বিক্ষোভ ক্রমশ সহিংস রূপ নিয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম ও সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ২,০০০ জন নিহত হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ এসব মৃত্যুর জন্য তথাকথিত “সন্ত্রাসী উপাদান”-কে দায়ী করেছে। বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমেছে।

সরকারি নীতি ও ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির অভিযোগকে কেন্দ্র করে জনঅসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালে “স্বৈরাচার নিপাত যাক”, “খামেনেই অপসারণ করো” এবং নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভির প্রত্যাবর্তনের দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যার ফলে সহিংসতা ও উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন যে, ইরান যেকোনো সম্ভাব্য পদক্ষেপের জবাব দিতে প্রস্তুত। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অতীতে ব্যবহৃত সামরিক বিকল্প আবার প্রয়োগ করতে চায়, তাহলে ইরান তার প্রতিক্রিয়া জানাবে। আরাঘচি বলেন, ইরানের সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং দেশের প্রতি যেকোনো হুমকার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতা রাখে।

ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে, দেশটি তার শত্রুদের সম্পর্কে অবগত এবং তাদের সনাক্ত করতে সক্ষম। ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসও এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, সরকারপন্থী বিক্ষোভ বিদেশি শত্রুদের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে। দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত বার্তায় উল্লেখ করেছে যে, ইরানি জাতি তার পরিচয়, সংকল্প ও অবস্থান শত্রুদের সামনে স্পষ্ট করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকদের বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শহরের রাস্তায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে এবং কিছু এলাকায় ইন্টারনেট ও যোগাযোগ পরিষেবা সীমিত করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা প্রধান শহরগুলোর সরকারি ভবনের সামনে সমাবেশ করেছে এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ইতোমধ্যেই উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে একাধিকবার সতর্ক করেছে এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ইরানের বক্তব্য ও সামরিক প্রস্তুতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। জবাবে ইরান জানিয়েছে, যেকোনো বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে দেশটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

 

Leave a comment