ক্রিকেটে সময় কখনও একইভাবে থাকে না। কয়েক বছর আগেও ঈশান কিষাণকে ঘিরে ভারতীয় ক্রিকেটে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। জাতীয় দলের হয়ে সুযোগ পেয়েও নিয়মিত একাদশে জায়গা না পাওয়ার হতাশা, বিশ্রামের আবেদন এবং শেষ পর্যন্ত দল থেকে সরে দাঁড়ানো—সব মিলিয়ে তাঁর কেরিয়ারে তৈরি হয়েছিল অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। এমনকী পরিবারের সঙ্গে থাকার কথা বলে ছুটি নেওয়ার পর দুবাইয়ে পার্টি করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছিল। কিন্তু সেই অধ্যায় এখন অনেকটাই অতীত। দলীপ ট্রফির ফাইনালে দুরন্ত ব্যাটিং করে পূর্বাঞ্চলকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন তিনিই।
প্রতিভা নিয়ে প্রশ্ন ছিল না ঈশানকে নিয়ে
ভারতীয় দলে ঈশানের সুযোগ পাওয়া নিয়ে কখনও তাঁর প্রতিভা নিয়ে বড় প্রশ্ন ওঠেনি। ওয়ানডেতে বাংলাদেশে দ্বিশতক করে তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে এশিয়া কাপেও মিডল অর্ডারে নেমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন।ওয়ানডে ক্রিকেটে তাঁর ব্যাটিং গড় ৪২-এর বেশি এবং স্ট্রাইক রেটও ১০০-র কাছাকাছি—আক্রমণাত্মক ব্যাটার হিসেবে তাঁর দক্ষতার পরিচয় মিলেছে বারবার। কিন্তু জাতীয় দলের প্রথম পছন্দের ওপেনার হিসেবে শুভমন গিলকে এগিয়ে রাখা হওয়ায় ঈশানের নিয়মিত জায়গা তৈরি হয়নি।
বারবার সুযোগের অপেক্ষায় বেঞ্চে বসতে হয়েছে
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে ভালো পারফরম্যান্স করার পরও অনেক সময় তাঁকে রিজার্ভ বেঞ্চে থাকতে হয়েছে। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকেই ঈশান নাকি টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের কাছে কিছুদিনের বিরতির কথা জানিয়েছিলেন।অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও তাঁকে স্কোয়াডে রাখা হয়েছিল। শেষের দিকে একাদশের বাইরে থাকলেও দলের সঙ্গে ছিলেন তিনি। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সীমিত ওভারের সিরিজ থেকেও বিরতি চেয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবার ও মানসিক ক্লান্তির প্রসঙ্গেই তৈরি হয়েছিল বিতর্ক
দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের মাঝপথে পারিবারিক জরুরি কারণ দেখিয়ে দেশে ফিরে এসেছিলেন ঈশান। পরবর্তীতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে তিনি উপলব্ধ থাকলেও দলে জায়গা পাননি। তাঁকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে বিসিসিআই কোনও আনুষ্ঠানিক কারণ জানায়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয় টেস্ট স্কোয়াডকে ঘিরে। মানসিক ক্লান্তি ও পারিবারিক দায়িত্বের কথা জানিয়ে তিনি সরে দাঁড়ান। দীর্ঘ সফর ও যাতায়াতের কারণে বিশ্রামের প্রয়োজনের কথা বলা হলেও, পরে দুবাইয়ে তাঁর পার্টি করার খবর প্রকাশ্যে আসে। সেই ঘটনাই তাঁকে ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
সেই বিতর্কের পর এবার ব্যাট হাতে জবাব
সময় বদলেছে। এবার দলীপ ট্রফির মঞ্চে ঈশান কিষাণ যেন নিজের ব্যাট দিয়েই সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।ফাইনালে পূর্বাঞ্চলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি ব্যাট হাতেও ছিলেন দুরন্ত। দুই ইনিংস মিলিয়ে তাঁর সংগ্রহ ৩৫০ রান। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সের জোরেই পূর্বাঞ্চল দলীপ ট্রফির চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।একসময় জাতীয় দলের বাইরে থাকা এবং বিতর্কে জড়িয়ে পড়া যে ক্রিকেটারকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, তিনিই এখন ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম আলোচিত নায়ক।
সামনে কি ফের জাতীয় দলের দরজা খুলবে?
দলীপ ট্রফিতে এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই ঈশান কিষাণকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ এলে এই পারফরম্যান্স তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।তবে ভারতীয় দলে প্রত্যাবর্তন শেষ পর্যন্ত নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ দলীয় পরিকল্পনার উপর নির্ভর করবে। আপাতত অবশ্য বিতর্ক নয়, ব্যাট হাতে ঈশানের ৩৫০ রানই সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।
একসময় ভারতীয় দলের বাইরে থাকা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ঈশান কিষাণ। পরিবারের সঙ্গে থাকার জন্য বিরতি চেয়ে পরে দুবাইয়ে পার্টি করার ঘটনায়ও তাঁকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ক্রিকেটারই এবার অধিনায়ক হিসেবে পূর্বাঞ্চলকে দলীপ ট্রফি জেতালেন। ফাইনালে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে দুই ইনিংসে ৩৫০ রান।




