বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী পরিবার কাপুর পরিবার। এই পরিবারের একাধিক সদস্য অভিনয়, পরিচালনা ও প্রযোজনার ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সেই পরিবারের সন্তান হয়েও রাজীব কাপুরের ফিল্মি সফর ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। বাবা রাজ কাপুরের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করে পরে নায়ক হন তিনি। বাবার পরিচালিত একটি ব্লকবাস্টার ছবি তাঁকে বিপুল জনপ্রিয়তা এনে দিলেও, এরপর আর সেই উচ্চতায় পৌঁছতে পারেননি।
বাবার সহকারী হিসেবেই শুরু হয়েছিল পথচলা
রাজীব কাপুর সরাসরি নায়ক হিসেবে বলিউডে আসেননি। তাঁর বাবা রাজ কাপুরকেই তিনি নিজের গুরু হিসেবে দেখতেন। চলচ্চিত্র নির্মাণের খুঁটিনাটি শেখার উদ্দেশ্যে বাবার সঙ্গে কাজ শুরু করেন।১৯৮২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘প্রেম রোগ’ ছবিতে রাজীব কাপুর সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন। শুধু নামমাত্র সহকারী হয়ে সেটে উপস্থিত থাকা নয়, ছবির শুটিং চলাকালীন বিভিন্ন কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকতেন তিনি। অভিনেতা রাজা মুরাদও পরবর্তীতে তাঁর সেই সময়কার পরিশ্রম ও শেখার আগ্রহের কথা স্মরণ করেছিলেন।
তারপর বাবাই বানালেন নায়ক
পরিচালনার কাজ শিখতে শিখতেই রাজীবের জীবনে আসে বড় সুযোগ। বাবা রাজ কাপুর তাঁকে নিজের ছবিতে নায়ক হিসেবে কাস্ট করেন।১৯৮৫ সালে মুক্তি পায় ‘রাম তেরি গঙ্গা মৈলি’। এই ছবিতে মন্দাকিনীর বিপরীতে নরেন্দ্র চরিত্রে অভিনয় করেন রাজীব কাপুর। ছবিটি বক্স অফিসে বিপুল সাফল্য পায় এবং রাজীব রাতারাতি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।বাবার পরিচালিত ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে কতটা বড় ব্যাপার ছিল, তা পরবর্তীতে নিজেই জানিয়েছিলেন রাজীব। এই ছবির সাফল্য দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, কাপুর পরিবারের আরও এক তারকার জন্ম হল।
একটি বড় হিটের পর আর সেভাবে জমল না কেরিয়ার
‘রাম তেরি গঙ্গা মৈলি’-র সাফল্যের পর রাজীব কাপুর একাধিক ছবিতে অভিনয় করেন। ‘আসমান’, ‘লাভার বয়’, ‘জবরদস্ত’, ‘লাভা’, ‘মেরা সাথী’, ‘হাম তো চলে পরদেশ’ এবং ‘জিম্মেদার’-এর মতো ছবিতে দেখা যায় তাঁকে।কিন্তু প্রথম ছবির মতো আর কোনও বড় সাফল্য তাঁর কেরিয়ারে আসেনি। বাবা রাজ কাপুর এবং ভাই ঋষি কাপুর, রণধীর কাপুরের মতো জনপ্রিয়তার জায়গাতেও পৌঁছতে পারেননি তিনি। ফলে নায়ক হিসেবে তাঁর কেরিয়ার ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ে।
অভিনয় ছেড়ে প্রযোজনায় পা
অভিনয়ে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ার পর রাজীব কাপুর নিজের কাজের ক্ষেত্র বদলানোর সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯১ সালে তাঁর বড় ভাই রণধীর কাপুর পরিচালিত ‘হেনা’ ছবির প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত হন।এরপর তাঁর আগ্রহ আরও বাড়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের দিকে। ক্যামেরার সামনে অভিনয়ের পরিবর্তে ক্যামেরার পিছনে কাজ করার দিকেই মন দেন তিনি।
পরিচালক হিসেবেও এল না সাফল্য
১৯৯৬ সালে ‘প্রেম গ্রন্থ’ ছবির মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন রাজীব কাপুর। ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তাঁর ভাই ঋষি কাপুর এবং তৎকালীন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত।বড় তারকা ও বড় ব্যানারের সঙ্গে কাজ করেও ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া ফেলতে পারেনি। ‘প্রেম গ্রন্থ’-এর ব্যর্থতার পর পরিচালক হিসেবে রাজীব কাপুরের কেরিয়ারও আর দীর্ঘ হয়নি।
কাপুর পরিবারের নাম বলিউডে সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে। রাজ কাপুরের ছেলে রাজীব কাপুরও বাবার হাত ধরে সিনেমায় প্রবেশ করেছিলেন। ‘রাম তেরি গঙ্গা মৈলি’ তাঁকে রাতারাতি পরিচিতি দিলেও পরবর্তী সময়ে সেই সাফল্য ধরে রাখতে পারেননি তিনি। অভিনয়ের পর প্রযোজনা ও পরিচালনাতেও পা রাখেন, কিন্তু সেখানেও সাফল্য আসেনি।




