বাংলাদেশে টানা হিংসা, সংখ্যালঘুদের উপর নৃশংস হামলা এবং সংবাদমাধ্যমে ভাঙচুর—এই সব ঘটনার পেছনে কি শুধু অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ, নাকি রয়েছে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত? গোয়েন্দা সূত্র ও আন্তর্জাতিক রিপোর্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, অশান্ত পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ISI।

ফের অস্থির বাংলাদেশ
ছাত্রনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিক্ষোভের আড়ালে একাধিক জায়গায় হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। সংখ্যালঘু যুবক দিপু দাসকে নির্মমভাবে হত্যা, সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে ভাঙচুর—পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
গভীর রাত পর্যন্ত আতঙ্ক
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, একাধিক এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত উত্তেজনা বজায় ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করতে হয় প্রশাসনকে। এই অস্থিরতার মাঝেই ধীরে ধীরে নিজেদের প্রভাব বাড়াচ্ছে ISI।

নেপথ্যের নীলনকশা
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ISI প্রকাশ্যে আন্দোলনের মুখ হতে চাইছে না। বরং Jamaat-e-Islami এবং তাদের ছাত্র সংগঠনগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—আন্দোলনের নেতৃত্ব স্থানীয় মুখদের হাতে থাকুক, আর পিছন থেকে উস্কানি দেওয়া হোক। এতে আন্তর্জাতিক চাপও কম পড়ে, আবার পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
অর্থ ও প্রচারের জাল
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হল, কিছু বাংলাদেশি অনলাইন ও সংবাদমাধ্যম নাকি পাকিস্তান থেকে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে। এই প্ল্যাটফর্মগুলিতে নিয়মিত ভারতবিদ্বেষী ও সংখ্যালঘু-বিরোধী কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে, যা সমাজে বিভাজন আরও বাড়িয়ে তুলছে।
কৌশলগত গুরুত্ব কেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ISI-এর কাছে বাংলাদেশ শুধু একটি প্রতিবেশী দেশ নয়, বরং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এখানে অস্থিরতা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের পূর্বাঞ্চলেও। তাই স্থানীয় গোষ্ঠীকে সামনে রেখে মৌলবাদ ও অনলাইন চরমপন্থা ছড়ানোই তাদের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কৌশল।
বাংলাদেশে ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে উঠে আসছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর নাম। সরাসরি নেতৃত্ব নয়, বরং স্থানীয় সংগঠনকে সামনে রেখে পিছন থেকে উস্কানি—এটাই তাদের পুরনো কৌশল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।








