রথযাত্রার আনন্দ এখনও শেষ হয়নি। বরং উল্টো রথের আগে আরও জমজমাট হয়ে উঠেছে মায়াপুর ইসকন। মাসীর বাড়িতে অবস্থানরত জগন্নাথ দেব, বলদেব ও সুভদ্রা দেবীর উদ্দেশে বিশেষ ভোগের আয়োজন করা হয়েছে। প্রচলিত ৫৬ ভোগের পরিবর্তে এবার প্রভুর সামনে সাজানো হয়েছে শতাধিক পদ। দেশ-বিদেশের ভক্তদের তৈরি নানা ধরনের খাবারে ভরে উঠেছে ভোগের থালা। এই বিশেষ আয়োজন ঘিরে ভক্তদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ।
মাসীর বাড়িতে জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা
মায়াপুর ইসকন চন্দ্রোদয় মন্দিরে রথযাত্রা উপলক্ষে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী মাসীর বাড়ি। গত ১৭ জুলাই থেকে জগন্নাথ দেব, বলদেব ও সুভদ্রা দেবী সেখানে অবস্থান করছেন।২৩ জুলাই পর্যন্ত এই মাসীর বাড়িতে বিশেষ পূজা ও নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান চলেছে। ভক্তদের উপস্থিতিতে গোটা মন্দির চত্বর হয়ে উঠেছে উৎসবমুখর।
২৪ জুলাই উল্টো রথে নিজ মন্দিরে ফিরবেন জগন্নাথ
রথযাত্রার পর এবার দেবতাদের নিজ গৃহে ফেরার পালা। ২৪ জুলাই অর্থাৎ আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে উল্টো রথযাত্রা বা রিটার্ন রথ।এই রথযাত্রার মাধ্যমে জগন্নাথ দেব, বলদেব ও সুভদ্রা দেবী মায়াপুরের অস্থায়ী মাসীর বাড়ি থেকে পুনরায় রাজাপুর জগন্নাথ মন্দিরে ফিরে যাবেন।উল্টো রথের ঠিক আগের দিনই তাই বিশেষ ভোগের মাধ্যমে প্রভুর প্রতি ভক্তি নিবেদনের আয়োজন করা হয়েছে।
৫৬ ভোগের বদলে এবার শতাধিক পদ
জগন্নাথ দেবের উদ্দেশে ৫৬ ভোগ নিবেদনের রীতি অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু মায়াপুরের এই বিশেষ আয়োজনে সেই প্রচলিত সংখ্যাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে ভোগের আয়োজন।এবার জগন্নাথ দেব, বলদেব ও সুভদ্রা দেবীর সামনে নিবেদন করা হয়েছে শতাধিক পদ ও ব্যঞ্জন।ভক্তদের বিশ্বাস, জগন্নাথ দেব সকলের প্রভু। তাই তাঁর উদ্দেশে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী নানা পদ রান্না করে নিবেদন করাই ভক্তির অন্যতম প্রকাশ।
দেশ-বিদেশের খাবারে সাজল ভোগের থালা
এই মহাভোগের অন্যতম বিশেষত্ব হল এর আন্তর্জাতিক বৈচিত্র্য। শুধু বাংলার বা ভারতের প্রচলিত খাবার নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তদের তৈরি নানা ধরনের পদও এই ভোগে স্থান পেয়েছে।ইসকন মায়াপুরের জনসংযোগ আধিকারিক রসিক গৌরাঙ্গ দাস জানিয়েছেন, পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে প্রচলিত বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভক্তদের ভালোবাসা ও ভক্তির মাধ্যমে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ধরনের খাবারও প্রভুর উদ্দেশে নিবেদন করা হয়েছে।
নিজের হাতে রান্না করে ভোগ নিয়ে এলেন ভক্তরা
দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও বহু ভক্ত এই বিশেষ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন। অনেকেই নিজেদের বাড়িতে ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে বিভিন্ন পদ রান্না করে নিয়ে এসেছেন।প্রভুর আশীর্বাদ ও কৃপা লাভের আকাঙ্ক্ষায় ভক্তরা দীর্ঘ সময় ধরে এই রান্না ও ভোগ প্রস্তুতির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাঁদের বিশ্বাস, নিজেদের হাতে তৈরি খাবার ভগবানের চরণে নিবেদন করা ভক্তিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
উল্টো রথ ঘিরে মায়াপুরে উৎসবের আবহ
শতাধিক পদে মহাভোগ নিবেদনের পাশাপাশি উল্টো রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে মায়াপুরে এখন উৎসবের আবহ। ভক্তদের উপস্থিতিতে মন্দির চত্বর জুড়ে চলছে নানা ধর্মীয় আয়োজন।ইসকনের পক্ষ থেকেও ভক্ত এবং সাধারণ মানুষকে উল্টো রথযাত্রায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভক্তদের বিশ্বাস, এই পবিত্র উৎসবের অংশ হয়ে জগন্নাথ দেবের আশীর্বাদ লাভ করা অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়।
উল্টো রথের প্রাক্কালে মায়াপুর ইসকন চন্দ্রোদয় মন্দিরে জগন্নাথ দেব, বলদেব ও সুভদ্রা দেবীর উদ্দেশে আয়োজিত হল বর্ণাঢ্য মহাভোগ। এবার শুধু ৫৬ ভোগেই থেমে থাকেনি আয়োজন। দেশ-বিদেশের ভক্তদের ভালোবাসা ও ভক্তিতে তৈরি শতাধিক রকমের পদ নিবেদন করা হয়েছে দেবতাদের পায়ে। আন্তর্জাতিক ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মায়াপুর ইসকন চত্বরে তৈরি হয়েছে এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক ও উৎসবমুখর পরিবেশ।










