মঙ্গলবার দুপুরে রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা সঞ্জয় মার্কেটের একটি চারতলা ভবনের টায়ার গুদামে আগুন লাগে, যার ফলে এলাকাজুড়ে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং উদ্ধারকাজ শুরু হয়।
জয়পুরের সঞ্জয় মার্কেটের মিশ্রা জি কি গলিতে অবস্থিত একটি চারতলা ভবনের নিচতলায় পরিচালিত টায়ার গুদামে মঙ্গলবার দুপুর প্রায় ১২:৪৫ নাগাদ আগুন লাগে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকল বাহিনীর একাধিক গাড়ি আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে এবং স্থানীয় পুলিশ এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে, পাশাপাশি লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
সংকীর্ণ গলিতে উদ্ধারকাজে চ্যালেঞ্জ
গুদামটি অত্যন্ত সংকীর্ণ গলির মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় দমকলের গাড়ি ও সরঞ্জাম ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রাথমিকভাবে সমস্যার সম্মুখীন হয়। মিশ্রা জি কি গলির সরু পথ উদ্ধারকাজকে জটিল করে তোলে।
নিচতলায় বিপুল সংখ্যক টায়ার মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘন ধোঁয়া উপরের তলাগুলিতেও পৌঁছে যায়। দমকলকর্মীরা আগুন নেভানোর পাশাপাশি তা যাতে ভবনের উপরের তলা ও আশপাশের দোকানে না ছড়ায়, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালান।
টায়ারের আগুনে ঘন ও বিষাক্ত ধোঁয়া
টায়ারে আগুন লাগলে উৎপন্ন ধোঁয়া অত্যন্ত ঘন ও বিষাক্ত হওয়ায় এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে যায় এবং শ্বাস নিতে সমস্যা দেখা দেয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশপাশের দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, আগুন লাগার কয়েক মিনিটের মধ্যেই গোটা বাজার ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং অনেকেই নিজেদের দোকান থেকে পণ্য সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনী পানি ছাড়াও ফোম ব্যবহার শুরু করে, কারণ টায়ারের আগুন দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে থাকে।
চারতলা ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনাস্থলের ভবনটি চারতলা, যেখানে নিচতলায় গুদাম এবং উপরের তলাগুলি অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ভবনে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় টায়ার, কেমিক্যাল, কাপড় ও প্লাস্টিকের মতো দাহ্য পদার্থের বড় আকারে মজুত দীর্ঘদিন ধরেই নগর নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতা
আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে এবং জনসাধারণকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার নির্দেশ দেয়। লালকোঠি থানার পুলিশ ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে দমকল বাহিনীকে সহায়তা করে।
এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানির কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে গুদামে থাকা পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যাবে।
বাজারে আতঙ্ক ও অস্থিরতা
আগুন লাগার পর সঞ্জয় মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় অস্থিরতা দেখা দেয়। বহু দোকানদার দোকান বন্ধ করে দেন এবং মানুষ ধোঁয়া এড়াতে এলাকা ছাড়তে শুরু করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সংকীর্ণ গলিতে এ ধরনের গুদাম পরিচালনা সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের মতে, এ ধরনের স্থানে নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা প্রয়োজন।
শহুরে অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন
জয়পুরের মতো দ্রুত বর্ধনশীল শহরে পুরনো বাজার ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা অগ্নিনিরাপত্তার দিক থেকে সংবেদনশীল। সংকীর্ণ গলি, অবৈধ মজুত, দুর্বল নির্গমন পথ এবং সীমিত দমকল প্রবেশাধিকারের কারণে উদ্ধারকাজ প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজার এলাকায় নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষা এবং দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, জরুরি নির্গমন পরিকল্পনা এবং কর্মীদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা উচিত।
আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রচেষ্টা অব্যাহত
দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রধান লক্ষ্য হল আগুনকে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়া থেকে রোধ করা। আগুন লাগার কারণ এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত হয়নি এবং শর্ট সার্কিট, অতিরিক্ত তাপ বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত কারণ খতিয়ে দেখা হবে।
প্রশাসন সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিতে এবং উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছে।











