আকাশে মেঘের আনাগোনা বাড়তেই উত্তরবঙ্গে শুরু হয়েছে বর্ষা প্রস্তুতি। প্রতিবছর বর্ষাকালে নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি বহু মানুষের জীবনে দুর্ভোগ ডেকে আনে। সেই আশঙ্কা মাথায় রেখেই জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন ও সেচ দফতর এবার প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির উপর জোর দিয়েছে। চালু হয়েছে বিশেষ ফ্লাড কন্ট্রোল রুম, বসানো হচ্ছে আধুনিক ডিভাইস এবং খোলা হয়েছে জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা।
বর্ষার আগমনের আগে প্রশাসনের বড় প্রস্তুতি
জুন মাসের শুরুতেই উত্তরবঙ্গে বর্ষার আবহ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। তিস্তা, জলঢাকা, কালিঝরা-সহ একাধিক নদী ঘেরা এই অঞ্চলে বর্ষা মানেই বন্যার আশঙ্কা। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে প্রশাসন। জলপাইগুড়ি সেচ ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে বিশেষ ফ্লাড কন্ট্রোল রুম, যা আগামী কয়েক মাস বন্যা মোকাবিলার মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে থাকবে নদীগুলির জলস্তর
সেচ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারত-ভুটান সীমান্ত থেকে নেমে আসা নদীগুলির গতিবিধির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হবে এই কন্ট্রোল রুম থেকে। বর্ষাকালে হঠাৎ জলস্তর বৃদ্ধি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করে। নতুন ব্যবস্থার ফলে জলস্তর বৃদ্ধি সম্পর্কে আগাম তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সতর্কবার্তা জারি করা যাবে।
বসছে আধুনিক প্রযুক্তির বিশেষ ডিভাইস
প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী তিন মাসের মধ্যে তিস্তা ব্রিজ থেকে কালিঝরা ব্যারেজ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আধুনিক জলস্তর পরিমাপক ডিভাইস বসানো হবে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে ব্যারেজের উপর নির্ভর না করেও নদীর জলের সঠিক মাত্রা দ্রুত জানা যাবে। ফলে বন্যার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার আগেই প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে।
দ্রুত সতর্কবার্তায় কমবে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা
সেচ দফতরের আধিকারিকদের মতে, নতুন এই প্রযুক্তি শুধু তথ্য সংগ্রহেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নদীর জলস্তর বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছালে সংশ্লিষ্ট এলাকা ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক করা হবে। এর ফলে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ অনেক সহজ হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থাই বন্যা মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সাধারণ মানুষের জন্য চালু হেল্পলাইন
শুধু প্রশাসনিক নজরদারি নয়, সাধারণ মানুষের সুবিধার কথাও মাথায় রাখা হয়েছে। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি বা তথ্য জানার জন্য দুটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। নম্বর দুটি হল—০৩৫৬১-২২২৩৩১ এবং ০৩৫৬১-২২০১০১। ২৪ ঘণ্টা এই নম্বরগুলিতে যোগাযোগ করে নদীর পরিস্থিতি বা সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন বাসিন্দারা।
বর্ষার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে উত্তরবঙ্গে বন্যার আশঙ্কা বাড়তে শুরু করেছে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জলপাইগুড়ি সেচ দফতর চালু করেছে ২৪ ঘণ্টার বিশেষ ফ্লাড কন্ট্রোল রুম। আগামী তিন মাসের মধ্যে তিস্তা ও কালিঝরা-সহ একাধিক নদীতে আধুনিক জলস্তর নির্ণায়ক ডিভাইস বসানো হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য চালু করা হয়েছে জরুরি হেল্পলাইন নম্বর।












