প্রথাগত বড় কারখানার ধাঁচ ভেঙে এবার বাড়িতেই তৈরি হবে চা পাতা। সরকারি উদ্যোগে Jalpaiguri জেলায় শুরু হয়েছে ‘হ্যান্ডমেড টি’ তৈরির বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। ক্ষুদ্র চা চাষি ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের লক্ষ্য করেই এই প্রকল্প, যার মাধ্যমে কম পুঁজিতে অধিক লাভের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
স্বনির্ভরতার পথে নতুন উদ্যোগ
উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে চা একটি প্রধান স্তম্ভ। সেই ঐতিহ্যকে আধুনিক চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে ক্ষুদ্র চাষিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে নতুন পথ। প্রশাসনের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণে বাড়িতেই ছোট পরিসরে চা প্রক্রিয়াকরণ শেখানো হচ্ছে। লক্ষ্য—চা পাতা কাঁচামাল হিসেবে বিক্রি না করে নিজেরাই ব্র্যান্ড তৈরি করা।
মেশিন নয়, হাতে তৈরি চায়ের বাড়তি দাম
হ্যান্ডমেড চায়ের বিশেষত্ব হল সম্পূর্ণ হাতে প্রক্রিয়াকরণ। এতে স্বাদ, সুগন্ধ ও গুণগত মানে আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এই ধরনের চায়ের দাম সাধারণ চায়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে ইউরোপ ও আমেরিকায় স্পেশালিটি টি হিসেবে এর চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী।
মহিলাদের অগ্রাধিকার, গড়ে উঠছে স্বনির্ভর গোষ্ঠী
এই প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মহিলাদের। ইতিমধ্যেই ৪০ জন মহিলা প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। পাঁচ দিনের কর্মশালায় বাগান থেকে পাতা তোলা, উইদারিং, রোলিং, ফারমেন্টেশন ও ড্রায়িং—পুরো প্রক্রিয়া হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থাও থাকবে।
প্রশাসনের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সদর বিডিও মিহির কর্মকার জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গে চায়ের ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে যুবক-যুবতী ও মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলাই মূল লক্ষ্য। হাতে তৈরি চায়ের বাড়তি বাজারমূল্যকে মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ। বর্তমানে জেলায় চারটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই উৎপাদনে যুক্ত। ভবিষ্যতে রপ্তানির ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ছে চাহিদা
জলপাইগুড়ি ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির দাবি, বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে ‘আর্টিজান টি’-র আলাদা কদর তৈরি হয়েছে। গুণমান বজায় রেখে উৎপাদন বাড়াতে পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি রপ্তানির সুযোগও বাড়বে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা কমবে এবং চাষিরা সরাসরি বেশি লাভ পাবেন।
উত্তরবঙ্গের চা শিল্পে নতুন অধ্যায়। Jalpaiguri জেলায় ক্ষুদ্র চা চাষিদের জন্য শুরু হয়েছে ঘরে বসে হাতে তৈরি চা উৎপাদনের সরকারি প্রশিক্ষণ। ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে এই বিশেষ চায়ের বিপুল চাহিদা থাকায় স্বনির্ভরতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।













