জামাইষষ্ঠীর ভোজে ইলিশ না থাকলে বাঙালির মন খারাপ হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু এ বছর ছবিটা একেবারেই আলাদা। বাজারে ইলিশের অপ্রতুল জোগান এবং আকাশছোঁয়া দামের কারণে অনেকেই ঝুঁকেছেন গলদা ও বাগদা চিংড়ির দিকে। বসিরহাট মহকুমার বিভিন্ন মাছের বাজারে তাই এখন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে এই দুই প্রজাতির চিংড়ি। ক্রেতা-বিক্রেতা—উভয়ের মুখেই সন্তুষ্টির হাসি।
ইলিশের বদলে চিংড়িতেই জমছে জামাই আপ্যায়ন
প্রতি বছর জামাইষষ্ঠীর আগে ইলিশের বাজারে ভিড় থাকলেও এবার পরিস্থিতি বদলেছে। পর্যাপ্ত ইলিশ না পাওয়া এবং দাম বেশি হওয়ায় বহু পরিবার বিকল্প হিসেবে গলদা ও বাগদা চিংড়িকেই বেছে নিচ্ছেন। বিশেষ করে চিংড়ি দিয়ে মালাইকারি, ভাপা কিংবা অন্যান্য পদ সহজেই তৈরি করা যায় বলে উৎসবের মেনুতেও এর কদর বেড়েছে।
বসিরহাটের ঘেরের চিংড়িতেই ভরসা ক্রেতাদের
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমা দীর্ঘদিন ধরেই গলদা ও বাগদা চিংড়ি চাষের জন্য পরিচিত। স্থানীয় ঘের ও জলাশয় থেকে প্রতিদিন টাটকা চিংড়ি সরাসরি বাজারে পৌঁছনোয় ক্রেতাদের আস্থা বেড়েছে। ফলে বাইরে থেকে মাছ আসার অপেক্ষা না করেই সহজে ভালো মানের চিংড়ি কিনে বাড়ি ফিরছেন অনেকে।
গলদার দাম ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা, বড় সাইজেই বেশি চাহিদা
বর্তমানে বাজারে গলদা চিংড়ির দাম সাইজ অনুযায়ী প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। বড় আকারের গলদার দাম তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও জামাই আপ্যায়নের জন্য সেই মাছই বেশি কিনছেন ক্রেতারা। বিক্রেতাদের দাবি, বড় গলদার স্টক দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।
মধ্যবিত্তের প্রথম পছন্দ এখন বাগদা চিংড়ি
অন্যদিকে বাগদা চিংড়ির বাজারও বেশ জমজমাট। প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হওয়ায় মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই বাগদাকেই বেছে নিচ্ছেন। তুলনামূলক কম খরচে ভালো মানের মাছ পাওয়া যাচ্ছে বলেই চাহিদা বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
জামাইষষ্ঠীর আগে বাজারে উপচে পড়া ভিড়
উৎসবের আগের দিন থেকেই বসিরহাটের বিভিন্ন মাছের বাজারে ছিল উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন, বিক্রেতাদের ব্যস্ততা এবং দরদামের চেনা ছবি ফিরে এসেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এ বছর চিংড়ির বিক্রি অনেকটাই বেশি হয়েছে। ইলিশের অভাব থাকলেও বাজারের উৎসবের আমেজে কোনও ঘাটতি পড়েনি।
জামাইষষ্ঠী মানেই বাঙালির পাতে বিশেষ মাছের আয়োজন। তবে এ বছর ইলিশের কম সরবরাহ ও চড়া দামের জেরে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের বাজারে গলদা ও বাগদা চিংড়িই হয়ে উঠেছে প্রধান আকর্ষণ। সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম বাজার, ব্যবসায়ীরাও খুশি বাড়তি বিক্রিতে।









