পারফরম্যান্সের আগে পিরিয়ড পিছোতে ওষুধ? বারবার খেলেই বাড়তে পারে বড় বিপদ, মহিলা অ্যাথলিটদের সতর্ক করলেন চিকিৎসক

খেলার আগে পিরিয়ড পিছোতে ওষুধ খেলে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে? বারবার ব্যবহার করলে বাড়তে পারে হরমোনের সমস্যা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি। জেনে নিন চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।

গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা, টুর্নামেন্ট কিংবা বড় ম্যাচের আগে অনেক মহিলা অ্যাথলিটই ঋতুস্রাবের দিন পরিবর্তনের জন্য বিশেষ ওষুধের সাহায্য নেন। কিন্তু এই অভ্যাস যদি নিয়মিত হয়ে যায়, তাহলে তা শরীরের জন্য কতটা নিরাপদ? বিশেষজ্ঞদের মতে, পিরিয়ড পিছিয়ে দেওয়ার ওষুধ কোনও সাধারণ ট্যাবলেট নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বা ঘন ঘন ব্যবহার করলে ভবিষ্যতে হরমোনজনিত সমস্যা, অনিয়মিত ঋতুচক্র এবং আরও একাধিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

কীভাবে কাজ করে পিরিয়ড পিছিয়ে দেওয়ার ওষুধ?

পিরিয়ড ডিলে করার জন্য ব্যবহৃত বেশিরভাগ ওষুধে নরেথিস্টেরন (Norethisterone) জাতীয় হরমোন থাকে। এটি শরীরে প্রোজেস্টেরনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে নির্দিষ্ট সময়ে ঋতুস্রাব শুরু হয় না। সাধারণত সম্ভাব্য পিরিয়ড শুরুর দুই থেকে তিন দিন আগে এই ওষুধ শুরু করতে হয় এবং যতদিন ঋতুস্রাব পিছিয়ে রাখতে চান, ততদিন চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী ওষুধ চালিয়ে যেতে হয়। ওষুধ বন্ধ করার কয়েক দিনের মধ্যেই সাধারণত ঋতুস্রাব শুরু হয়।

বারবার ব্যবহার করলে কী কী সমস্যা হতে পারে?

চিকিৎসকদের মতে, বারবার এই ধরনের ওষুধ সেবন করলে শরীরের স্বাভাবিক হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। এর ফলে অনিয়মিত ঋতুস্রাব, অতিরিক্ত বা কম রক্তপাত, মাথাব্যথা, মাইগ্রেন, রক্তচাপের ওঠানামা, হজমের সমস্যা, ওজন বৃদ্ধি কিংবা স্তনে অস্বস্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকিও বাড়তে পারে, যা গুরুতর শারীরিক জটিলতার কারণ হতে পারে।

মহিলা ক্রীড়াবিদদের জন্য আলাদা পরিকল্পনা জরুরি

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যেক মহিলা অ্যাথলিটের শরীর ও ঋতুচক্র এক নয়। তাই পিরিয়ড ম্যানেজমেন্টও ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন হওয়া উচিত। খেলার ধরন, অনুশীলনের মাত্রা, বয়স এবং শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে চিকিৎসক ও স্পোর্টস গাইনোকোলজিস্টরা আলাদা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাই নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ না খেয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

খাবার ও জীবনযাত্রাতেও রাখতে হবে নজর

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পিরিয়ড চলাকালীন বা প্রতিযোগিতার সময় অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার ও ক্যাফেইন কম খাওয়া ভালো। কারণ এগুলো শরীরে জল জমা, পেট ফাঁপা এবং অস্বস্তি বাড়াতে পারে। পরিবর্তে পর্যাপ্ত জল পান, প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এমন খাবার, সুষম পুষ্টি এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। প্রয়োজনে ব্যথানাশক ওষুধও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনেই গ্রহণ করা উচিত।

নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ নয়, চিকিৎসকের পরামর্শই শেষ কথা

পিরিয়ড পিছিয়ে দেওয়ার ওষুধ বিশেষ পরিস্থিতিতে কার্যকর হলেও এটি কখনওই নিয়মিত ব্যবহারের জন্য নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিযোগিতার সুবিধার কথা ভেবে শরীরের স্বাভাবিক হরমোনচক্রে বারবার হস্তক্ষেপ করলে ভবিষ্যতে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই কোনও ওষুধ শুরু করার আগে অবশ্যই স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বা স্পোর্টস মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

খেলার গুরুত্বপূর্ণ দিনে ঋতুস্রাব এড়াতে অনেক মহিলা ক্রীড়াবিদ পিরিয়ড পিছিয়ে দেওয়ার ওষুধ খান। চিকিৎসকদের মতে, বিশেষ প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে এই ওষুধ ব্যবহার করা গেলেও বারবার বা নিজের ইচ্ছামতো সেবন করলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে একাধিক শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

Leave a comment