দুয়ারে সরকারের পর এবার নতুন উদ্যোগ জনকল্যাণ শিবির। রাজ্যের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত, পুরসভা ও পুরনিগম এলাকায় তিন দিনব্যাপী এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। আয়ুষ্মান ভারত থেকে পিএম কিষান, আধার সংযুক্তিকরণ থেকে জনধন অ্যাকাউন্ট— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার সুবিধা মিলবে এই শিবিরে।
দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার নতুন উদ্যোগ
জনকল্যাণ শিবিরের মূল লক্ষ্য হল সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক ভোগান্তি কমানো। অনেক সময় বিভিন্ন প্রকল্পের আবেদন, নথি সংশোধন বা যাচাইয়ের জন্য একাধিক দফতরে ঘুরতে হয় নাগরিকদের। সেই সমস্যার সমাধান করতেই রাজ্যজুড়ে একযোগে আয়োজন করা হয়েছে এই বিশেষ শিবির। প্রশাসনের দাবি, এক জায়গাতেই মিলবে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের তথ্য, আবেদন ও পরিষেবার সুযোগ।
৫০টিরও বেশি প্রকল্পের সুবিধা একসঙ্গে
এই শিবিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের ৫০টিরও বেশি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত, পিএম কিষান, পিএম সূর্য ঘর, পিএম আবাস যোজনা, জনধন অ্যাকাউন্ট, কন্যাশ্রী, তপশিলি বন্ধু, শ্রমিক কল্যাণ প্রকল্প-সহ একাধিক পরিষেবা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য ও আবেদন সংক্রান্ত সহায়তা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি নতুন আবেদন জমা, নথি যাচাই এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আধার, ব্যাঙ্ক ও স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য আলাদা কাউন্টার
প্রতিটি শিবিরে বাধ্যতামূলকভাবে রাখা হয়েছে আধার কাউন্টার, ব্যাঙ্ক কাউন্টার, স্বাস্থ্য পরিষেবা ডেস্ক, অভিযোগ নিষ্পত্তি কেন্দ্র এবং হেল্প ডেস্ক। ফলে আধার এনরোলমেন্ট, আধার সিডিং বা ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধান পাওয়া সম্ভব হবে। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রকল্পের তথ্যও দেওয়া হবে বিশেষ কাউন্টারে।
প্রবীণ ও মহিলাদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার
জনকল্যাণ শিবিরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রবীণ নাগরিক, মহিলা, গর্ভবতী মহিলা এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের। তাঁদের জন্য পৃথক সারির ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে না হয়। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, এই শ্রেণির আবেদনকারীদের দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে নজরে রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের।
কঠোর নির্দেশ প্রশাসনের, অতিরিক্ত নথি চাওয়া যাবে না
সরকারি সুবিধা পেতে সাধারণ মানুষের হয়রানি রুখতেই প্রশাসনের তরফে জারি হয়েছে একাধিক নির্দেশিকা। কোনও প্রকল্পে আবেদনের জন্য অনুমোদিত তালিকার বাইরে অতিরিক্ত নথি চাওয়া যাবে না। যোগ্য আবেদনকারীকে ফিরিয়েও দেওয়া যাবে না। ফর্ম পূরণ, আবেদন জমা বা ফটোকপির মতো পরিষেবাও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গরম-বর্ষার কথা মাথায় রেখে বিশেষ ব্যবস্থা
বর্তমান আবহাওয়ার পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে প্রতিটি শিবিরে পানীয় জল, ORS, শৌচাগার, ছাউনি, স্বাস্থ্যকর্মী, অ্যাম্বুল্যান্স ও বিদ্যুৎ পরিষেবার ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার করতে CCTV নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ফুটেজ অন্তত ৩০ দিন সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ জানাতে টোল-ফ্রি হেল্পলাইন
শিবিরে জমা পড়া প্রতিটি অভিযোগ অনলাইনে নথিভুক্ত করা হবে এবং আবেদনকারীকে দেওয়া হবে ইউনিক রেফারেন্স নম্বর। এছাড়া রাজ্য স্তরে চালু হয়েছে কন্ট্রোল রুম। সাহায্যের জন্য টোল-ফ্রি নম্বর 1800-345-0117-এ যোগাযোগ করতে পারবেন সাধারণ মানুষ।
১৫ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে শুরু হয়েছে জনকল্যাণ শিবির। কেন্দ্র ও রাজ্যের ৫০টিরও বেশি প্রকল্পের আবেদন, নথি যাচাই, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা এক জায়গায় পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। প্রবীণ, মহিলা, গর্ভবতী এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য থাকছে বিশেষ সুবিধাও।











