বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতাদের তালিকায় জিতেন্দ্রর নাম আজও অত্যন্ত পরিচিত। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে একের পর এক সফল ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর জীবনে এমন এক সময় এসেছিল, যখন নিজের স্বপ্নের বাড়িই তাঁর কাছে হয়ে উঠেছিল দুশ্চিন্তার কারণ। মুম্বইয়ে একটি বাংলো কেনার পরই নাকি তাঁর একের পর এক ছবি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, শেষ পর্যন্ত সেই বাড়িতে থাকাই ছেড়ে দেন অভিনেতা। এরপর ভাগ্য বদলাতে নেন বড় সিদ্ধান্ত।
চওলের ছোট ঘর থেকে নিজের বাংলোর স্বপ্ন
জিতেন্দ্রর শৈশব ও সংগ্রামের সময় কেটেছে মুম্বইয়ের গিরগাঁওয়ের একটি চওলে। মধ্যবিত্ত পরিবারের সেই ছোট পরিসরের জীবন থেকে ধীরে ধীরে বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। অভিনয় জীবনে সাফল্য আসার পর তাঁর মনে একটাই বড় স্বপ্ন ছিল—মুম্বইয়ে নিজের একটি বাড়ি হবে।সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ আসে যখন তিনি জানতে পারেন, জনপ্রিয় অভিনেতা ভারত ভূষণ তাঁর পালি হিলের বাংলোটি বিক্রি করতে চাইছেন। বিষয়টি নিয়ে বাবার সঙ্গে আলোচনা করার পর জিতেন্দ্র বাড়িটি কেনার ব্যাপারে আগ্রহী হন।
মাত্র ৪.২৫ লক্ষ টাকায় কিনেছিলেন বাংলো
তৎকালীন সময়ে ২০x১০ ফুটের একটি ছোট বাড়িতে থাকা একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে বাংলো কেনা ছিল বিরাট ব্যাপার। জানা যায়, আর্থিক সমস্যার কারণে ভারত ভূষণ তাঁর পালি হিলের বাংলোটি বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। সেই সময় জিতেন্দ্র প্রায় ৪.২৫ লক্ষ টাকা দিয়ে বাংলোটি কিনে নেন।সাফল্যের সময়ে নিজের স্বপ্নের বাড়ি পাওয়ার আনন্দ নিশ্চয়ই কম ছিল না। কিন্তু এরপরই নাকি পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে।
বাড়িতে ওঠার পরই একের পর এক ছবি ফ্লপ!
জিতেন্দ্রর দাবি অনুযায়ী, বাংলোটি কেনার পর তাঁর অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমা পরপর ব্যর্থ হতে শুরু করে। একের পর এক ছবির বক্স অফিস ফল খারাপ হওয়ায় তাঁর মনে ধীরে ধীরে ধারণা তৈরি হয় যে, নতুন বাড়িটিই হয়তো তাঁর জন্য শুভ নয়।যদিও সিনেমার সাফল্য-ব্যর্থতার সঙ্গে কোনও বাড়ির সরাসরি সম্পর্কের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, তবুও সেই সময়ের পরিস্থিতিতে জিতেন্দ্র নিজেই বাংলোটিকে ‘অলুক্ষুণে’ বলে মনে করতে শুরু করেছিলেন বলে জানা যায়।
শেষ পর্যন্ত বাড়ি ছেড়ে দিলেন অভিনেতা
পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে জিতেন্দ্র সেই বাংলোয় থাকা বন্ধ করে দেন। পরে বাড়িটি সংস্কার করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। বাংলোর পুরনো বার্মা ও সেগুন কাঠের আসবাবপত্রও বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেই আসবাব থেকে পাওয়া অর্থের পরিমাণ ১১.৫ লক্ষ টাকারও বেশি ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।এরপর নিজের সম্পত্তি নিয়ে আরও বড় সিদ্ধান্ত নেন অভিনেতা।
বাংলোর জায়গায় তৈরি হল ‘গৌতম অ্যাপার্টমেন্টস’
পুরনো বাংলোকে কেন্দ্র করে নিজের ভাগ্য বদলানোর পরিবর্তে জিতেন্দ্র ওই জমিকে অন্যভাবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে সেখানে তৈরি করা হয় ‘গৌতম অ্যাপার্টমেন্টস’। চুক্তির অংশ হিসেবে প্রায় ৩,৪৫০ বর্গফুটের একটি প্লটও ছিল বলে জানা যায়।এরপর অ্যাপার্টমেন্টগুলি তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করতে শুরু করেন অভিনেতা। সেই সময় হয়তো সিদ্ধান্তটি ছিল বাস্তবসম্মত। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে মুম্বইয়ের সম্পত্তির দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় আজ সেই জমির মূল্য সম্পূর্ণ অন্য মাত্রায় পৌঁছেছে।
আজ সেই সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য ৪৫০ কোটি!
যে সম্পত্তি এক সময় জিতেন্দ্রর কাছে দুর্ভাগ্যের কারণ বলে মনে হয়েছিল, আজ সেটিই হয়ে উঠেছে বিপুল মূল্যের সম্পদ। বর্তমানে ওই জমি ও সম্পত্তির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা বলে জানা যায়।অন্যদিকে, মুম্বইয়ে বর্তমানে জিতেন্দ্র ও তাঁর পরিবার যে বিলাসবহুল বাংলোয় থাকেন, সেটির মূল্যও আনুমানিক ২০০ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
ভাগ্য বদলের সিদ্ধান্ত নাকি বড় আর্থিক ভুল?
জিতেন্দ্রর এই গল্পে একদিকে যেমন রয়েছে ভাগ্য ও বিশ্বাসের বিষয়, তেমনই রয়েছে রিয়েল এস্টেটের হিসেব। এক সময় যে বাংলোকে তিনি নিজের জন্য অশুভ বলে মনে করেছিলেন, সেই সম্পত্তির জমিই আজ বিপুল মূল্যবান। ফলে তাঁর সেই সময়ের সিদ্ধান্তকে কেউ ভাগ্য বদলের পদক্ষেপ হিসেবে দেখেন, আবার কেউ মনে করেন, সম্পত্তিটি ধরে রাখলে আজ আর্থিক লাভ আরও অনেক বেশি হতে পারত।তবে শেষ পর্যন্ত জিতেন্দ্রর জীবনযাত্রায় সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব কী হয়েছিল, তা নিয়ে আজও এই গল্প বলিউডের অন্যতম চর্চিত সম্পত্তির কাহিনি হয়ে রয়েছে।
বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা জিতেন্দ্রর জীবনে এক সময় একটি বাংলোকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। সাফল্যের পর স্বপ্নের বাড়ি কিনলেও সেখানে ওঠার পর একের পর এক ছবি ব্যর্থ হতে থাকে বলে মনে করেছিলেন অভিনেতা। শেষ পর্যন্ত বাড়িটিকে ‘অলুক্ষুণে’ মনে করে সেখান থেকে সরে যান তিনি। পরে সেই জমিতেই তৈরি হয় অ্যাপার্টমেন্ট। বর্তমানে সেই সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য ৪৫০ কোটি টাকা বলে জানা যায়।










