বিগ বস ২০ প্রথম দিনেই মাহি বিজের ডিভোর্স মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক

‘বিগ বস ২০’-এর প্রথম দিনেই মাহি বিজ ঈশা রিখি ও মেরি কমের বিবাহবিচ্ছেদের প্রসঙ্গ তোলেন। ঈশা নিজের পরিচয়ের উপর জোর দেন, আর মেরি কম বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে কথা বলতে অস্বীকার করেন।

‘বিগ বস ২০’-এর প্রথম দিনেই ঘরের ভিতরে সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। মাহি বিজ ঈশা রিখি এবং বক্সিং চ্যাম্পিয়ন মেরি কমের বিবাহবিচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে শো-টিকে ‘ডিভোর্সি স্পেশাল’ বলে উল্লেখ করেন। এই মন্তব্যে ঈশা রিখি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং মাহিকে প্রশ্ন করেন। মেরি কমও তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেন।

সালমান খানের সঞ্চালনায় ‘বিগ বস ২০’ ৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। প্রিমিয়ারের পর থেকেই ঘরে থাকা ১৬ জন প্রতিযোগীর মধ্যে সম্পর্ক, পুরনো বিতর্ক এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথাবার্তা শুরু হয়। প্রথম দিনেই টেলিভিশন অভিনেত্রী মাহি বিজের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ঘরের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

মাহি বিজ কথোপকথনের সময় ঈশা রিখি এবং বক্সিং চ্যাম্পিয়ন মেরি কমের ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গ তোলেন। বিবাহবিচ্ছেদ ও সম্পর্ক নিয়ে তাঁর মন্তব্যের পর ঘরের ভিতরে বিতর্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

শোয়ে প্রতিযোগী কণিকা মাহি বিজকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি সিঙ্গল কি না। সেই সময় মাহি নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেন। তবে পরে ঈশা রিখির সঙ্গে কথোপকথনের সময় তিনি গসিপ ও সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু করেন।

মাহি বলেন, তিনি গসিপ পছন্দ করেন এবং বাইরে কার সঙ্গে কার সম্পর্ক চলছে, তা জানতে চান। এই কথোপকথনের মধ্যেই তিনি নিজের, ঈশা এবং এক বক্সারের প্রসঙ্গ তুলে তিনজনকেই ‘ডিভোর্সি’ বলেন এবং তাঁদের ‘সেকেন্ড ইনিংস’ চলছে বলে উল্লেখ করেন।

এরপর মাহি ঈশাকে প্রশ্ন করেন, তিনি ‘বিগ বস’-এ কেন এসেছেন। ঈশা জানান, তিনি কারও স্ত্রী বা গার্লফ্রেন্ড হিসেবে নয়, নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করার জন্য শোয়ের অংশ হয়েছেন।

কথোপকথনের সময় মাহি বলেন, ঈশা গত দুই মাস ধরে ইন্টারনেটে আলোচনায় রয়েছেন। এর জবাবে ঈশা আবারও জানান, তিনি নিজের পরিচয় নিজেই তৈরি করতে চান।

বিগ বস ২০ প্রথম দিনেই মাহি বিজের ডিভোর্স মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক

ঈশার প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায়, তিনি ব্যক্তিগত জীবনের পরিবর্তে নিজের কাজ ও ব্যক্তিগত পরিচয়কে গুরুত্ব দিতে চান। তবে মাহি বারবার সম্পর্ক ও বিবাহবিচ্ছেদের প্রসঙ্গ তোলায় কথোপকথনের পরিবেশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

পরে মাহি বিজ অলিম্পিক পদকজয়ী ও বক্সিং চ্যাম্পিয়ন মেরি কমের ব্যক্তিগত জীবন এবং বিবাহবিচ্ছেদ নিয়েও প্রশ্ন করেন। মেরি কম এই বিষয়ে আলোচনা করতে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেন।

এরপর মাহি বলেন, প্রাক্তন সঙ্গীর বিষয়ে সবসময় নেতিবাচক কথা বলা প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, কোনও সম্পর্কে ভালো স্মৃতি এবং ইতিবাচক দিকও থাকতে পারে।

তবে ঈশা রিখি মাহির বারবার বিবাহবিচ্ছেদের প্রসঙ্গে ফিরে আসা পছন্দ করেননি। তিনি মাহিকে প্রশ্ন করেন, যখন তিনি এবং মেরি এই বিষয়ে কথা বলতে চান না, তখন মাহি বিষয়টি নিয়ে এতটা উৎসাহী কেন।

মাহি বিজ এবং অভিনেতা জয় ভানুশালি ২০১১ সালে বিয়ে করেন। দু’জনে ২০১৭ সালে রাজবীর ও খুশিকে ফস্টার করেন। এরপর ২০১৯ সালে তাঁদের মেয়ে তারার জন্ম হয়।

জানুয়ারি ২০২৬-এ মাহি বিজ এবং জয় ভানুশালি ১৪ বছরের বিবাহিত জীবনের পর আলাদা হওয়ার ঘোষণা করেন। তবে তাঁরা স্পষ্ট করেছিলেন যে সন্তানদের একসঙ্গে লালন-পালন করবেন এবং একে অপরের পাশে থাকবেন।

এই কারণে ‘বিগ বস ২০’-এ মাহির নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও বিবাহবিচ্ছেদের প্রসঙ্গ তোলাও দর্শকদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

পাঞ্জাবি অভিনেত্রী ঈশা রিখির নাম র‌্যাপার বাদশাহর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। ২০২৬ সালে দু’জনের বিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ছবি প্রকাশ্যে আসার পর তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে প্রায় পাঁচ মাস পর দু’জনের আলাদা হয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে।

তাঁদের আলাদা হওয়ার কারণ দু’জনের কেউই প্রকাশ্যে স্পষ্ট করেননি। ফলে ‘বিগ বস ২০’-এর প্রথম দিনেই ঈশার ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গ ওঠায় বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে।

বক্সিং কিংবদন্তি মেরি কম এবং করুং ওনলার ২০০৫ সালে বিয়ে করেন। তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৩ সালে দু’জনে পারস্পরিক সম্মতিতে রীতিনীতি মেনে বিবাহবিচ্ছেদ করেন।

মেরি কম ২০২৫ সালে এই বিবাহবিচ্ছেদের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেন। ‘বিগ বস ২০’-এ মাহি তাঁর সম্পর্ক ও বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন করলে মেরি কম এই বিষয়ে আর আলোচনা করতে অস্বীকার করেন।

‘বিগ বস’-এ প্রতিযোগীদের ব্যক্তিগত জীবন প্রায়ই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। এবারও সিজনের শুরুতেই বিবাহবিচ্ছেদ এবং পুরনো সম্পর্কের প্রসঙ্গ সামনে আসে। মাহি বিজের মন্তব্যের পর গসিপ ও সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও ঈশা রিখি নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্নের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেন। মেরি কমও তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা থেকে দূরে থাকেন।

 

Leave a comment