মুম্বই: প্রায় দুই দশক ধরে বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত মৌনি রায়। ছোটপর্দায় অভিনয়ের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর বড়পর্দাতেও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। কাজের ব্যস্ততার পাশাপাশি মুম্বইয়ে নিজের জন্য সাজিয়েছেন এক সুন্দর ৪BHK আবাসন। এই বাড়ির অন্দরসজ্জায় চোখে পড়ে আধুনিকতার সঙ্গে ব্যক্তিগত রুচির মেলবন্ধন। অতিরিক্ত জাঁকজমক নয়, বরং সীমিত আসবাব ও আলো-ছায়ার ব্যবহারে বাড়িটিকে দিয়েছেন পরিশীলিত চেহারা।
ছিমছাম অথচ বিলাসবহুল অন্দরসজ্জা
মৌনি রায়ের বাড়ির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এর সরল অথচ অভিজাত সাজ। চারটি বেডরুমের এই বাড়িতে খুব বেশি সাজসজ্জার সামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি। বরং বাছাই করা আসবাব, উপযুক্ত আলো এবং নিরপেক্ষ রঙের ব্যবহারেই তৈরি হয়েছে আধুনিক আবহ।বাড়ির প্রতিটি অংশে যেন আলাদা করে নজর না কেড়ে পুরো ঘরের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখাই ছিল মূল লক্ষ্য। ফলে বিলাসবহুল হলেও বাড়িটিকে অতিরিক্ত চাকচিক্যময় মনে হয় না।
বড় জানালা দিয়ে দেখা যায় মুম্বইয়ের স্কাইলাইন
বসার ঘরের বড় জানালাগুলি বাড়িটির অন্যতম আকর্ষণ। দিনের বেলায় এই জানালা দিয়ে প্রচুর প্রাকৃতিক আলো ঘরে ঢোকে। ফলে আলাদা করে আলো জ্বালানোর প্রয়োজন অনেকটাই কমে যায় এবং ঘরটি সারাদিন উজ্জ্বল দেখায়।সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়, এই জানালা দিয়ে মুম্বই শহরের সুন্দর দৃশ্যের পাশাপাশি বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের বাড়ির ছাদও দেখা যায়। ফলে বাড়ির ভিউও হয়ে উঠেছে এই ফ্ল্যাটের বিশেষ আকর্ষণ।
বেইজ রঙের লিভিং রুমে শান্ত পরিবেশ
বাড়ির বসার ঘরে ব্যবহার করা হয়েছে স্নিগ্ধ বেইজ টোন। ঘরের কেন্দ্রে রয়েছে আরামদায়ক সোফা। এর সঙ্গে বাছাই করা হয়েছে নজরকাড়া সেন্টার টেবিল এবং কয়েকটি শিল্পকর্ম।ঘরটিকে সাজাতে অযথা অনেক জিনিস ব্যবহার করা হয়নি। বরং কম আসবাবের মধ্যেই তৈরি হয়েছে পরিপাটি ও রুচিশীল পরিবেশ। চাইলে বাড়ির অন্দরসজ্জায় এই ধরনের নিরপেক্ষ রঙ ব্যবহার করে একই রকম শান্ত আবহ তৈরি করা যায়।
ডাইনিং স্পেসে কালো পাথরের টেবিল
লিভিং রুমের কাছেই রয়েছে ডাইনিং এলাকা। এখানেও বাড়ির মূল অন্দরসজ্জার ধারাটি বজায় রাখা হয়েছে।কালো পাথরের ডাইনিং টেবিলের উপরে ঝুলছে একটি আকর্ষণীয় ঝাড়বাতি। টেবিলের গাঢ় রঙ এবং আশপাশের তুলনামূলক হালকা টোনের মধ্যে তৈরি হয়েছে সুন্দর বৈপরীত্য। ফলে খুব বেশি সাজসজ্জা ছাড়াই ডাইনিং স্পেসটি নজর কেড়ে নেয়।
বই আর স্মৃতিতে সাজানো করিডোর
বাড়ির করিডোরেও রয়েছে মৌনির ব্যক্তিগত পছন্দের ছাপ। সেখানে রাখা হয়েছে দুটি বইয়ের তাক। তাকজুড়ে রয়েছে অভিনেত্রীর পছন্দের বই।এছাড়াও বন্ধুদের ছোট ছোট ছবি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মৌনির একটি আকর্ষণীয় প্রতিকৃতি। ফলে করিডোরটি শুধুমাত্র যাতায়াতের জায়গা না হয়ে বাড়ির একটি ব্যক্তিগত স্মৃতির অংশ হয়ে উঠেছে।
একই ঘরে পুজো ও কাজের ব্যবস্থা
মৌনির বাড়ির আরও একটি অভিনব অংশ হল মন্দির-কাম-অফিস স্পেস। জায়গাটিকে পরিকল্পনা করে দুটি ভাগে সাজানো হয়েছে।একদিকে রয়েছে পুজোর জন্য নির্দিষ্ট অংশ, যেখানে রাখা হয়েছে দেবদেবীর মূর্তি। অন্যদিকে রয়েছে সোফা, কাজের ডেস্ক এবং টেলিভিশন। অর্থাৎ একই জায়গায় প্রার্থনা ও কাজ—দুইয়ের জন্যই আলাদা পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।ছোট বা মাঝারি আকারের বাড়িতে জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে এই ধরনের স্পেস-সেভিং আইডিয়া যথেষ্ট কার্যকর হতে পারে।
নীল-সাদা রান্নাঘরে আধুনিক ছোঁয়া
বাড়ির অন্যান্য অংশের তুলনায় রান্নাঘরের রঙে রয়েছে একেবারে অন্যরকম ভাবনা। এখানে নীল ও সাদা রঙের কম্বিনেশন ব্যবহার করা হয়েছে।মডুলার ডিজাইনের সঙ্গে পরিচ্ছন্ন ফিনিশ রান্নাঘরটিকে আধুনিক করে তুলেছে। নীল-সাদার ব্যবহার রান্নাঘরে সতেজ ও উজ্জ্বল অনুভূতি তৈরি করেছে।
বাড়িতে রয়েছে আদরের দুই চারপেয়ে সঙ্গী
মৌনির বাড়ির পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে তাঁর আদরের দুই পোষ্য—আর্থার ও থিও। অতিথিরা বাড়িতে প্রবেশ করলে এই দুই চারপেয়ে সঙ্গীর উপস্থিতিই প্রথমে নজর কাড়ে।ফলে বিলাসবহুল সাজসজ্জার পাশাপাশি বাড়িটিতে রয়েছে একেবারে ঘরোয়া এবং ব্যক্তিগত অনুভূতিও।
টেলিভিশন থেকে বলিউড—দীর্ঘ কেরিয়ারে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন বাঙালি অভিনেত্রী মৌনি রায়। মুম্বইয়ে তাঁর ৪ বেডরুমের বাড়িটি যেমন বিলাসবহুল, তেমনই সাজসজ্জায় রয়েছে ছিমছাম ও ব্যক্তিগত ছোঁয়া। বড় জানালা, বেইজ রঙের বসার ঘর, কালো পাথরের ডাইনিং টেবিল থেকে নীল-সাদা মডুলার রান্নাঘর—মৌনির বাড়ির প্রতিটি কোণেই রয়েছে আলাদা নান্দনিকতা। বাড়ি থেকে মুম্বই শহরের দৃশ্যের পাশাপাশি শাহরুখ খানের বাড়ির ছাদও দেখা যায় বলে জানা গিয়েছে।









