ঝাড়খণ্ডে এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি মৌসুমী বায়ুর প্রভাব। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎসহ সক্রিয় আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে। এই সময়ে বেশ কিছু এলাকায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
রাঁচির জন্য জারি করা পূর্বাভাসে ১৮ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎসহ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা রয়েছে। এই সময় আকাশ সাধারণত মেঘলা থাকতে পারে এবং এক-দু’দফা বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
১৮, ১৯, ২০ এবং ২১ সেপ্টেম্বর রাঁচিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩০ থেকে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২ থেকে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকতে পারে।
জামশেদপুরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বরও আকাশ মেঘলা থাকা এবং বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ওই দিনের জন্য কোনও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়নি।
জামশেদপুরে ১৮ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৩ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ২৫ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে। এই সময় মেঘ, বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির তীব্রতা একরকম নাও হতে পারে। কোথাও হালকা বৃষ্টি হতে পারে, আবার কিছু এলাকায় বজ্রসহ জোরালো বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঝোড়ো হাওয়ার গতি বাড়লে গাছের ডাল ভেঙে পড়া, বিদ্যুতের তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং খোলা এলাকায় মানুষের সমস্যার আশঙ্কা থাকে। আবহাওয়া খারাপ থাকলে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
রাঁচিসহ ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে মেঘ ও বৃষ্টির পরিস্থিতি দেখা গেছে। রাঁচির স্থানীয় পূর্বাভাসে ১৭ সেপ্টেম্বরও বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা ছিল। এরপরের দিনগুলির জন্যও একই ধরনের পরিস্থিতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়ার এই পরিবর্তন সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কৃষকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সেপ্টেম্বর মাসে জমিতে থাকা বিভিন্ন ফসল বৃষ্টির পরিস্থিতির কারণে প্রভাবিত হতে পারে। স্বাভাবিক বৃষ্টি ফসলের জন্য উপকারী হতে পারে, তবে টানা বা ভারী বৃষ্টিতে জমিতে জল জমার সমস্যা তৈরি হতে পারে।
এছাড়া ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হলে প্রস্তুত ফসল এবং দুর্বল গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকদের স্থানীয় আবহাওয়ার তথ্যের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শহরাঞ্চলেও বৃষ্টির সময় সমস্যা বাড়তে পারে। জোরালো বৃষ্টিতে রাস্তায় জল জমে যান চলাচলের গতি কমতে পারে এবং নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বইলে রাস্তার ধারের গাছ, হোর্ডিং বা অস্থায়ী কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে খোলা জায়গায় অবস্থান না করার প্রয়োজন রয়েছে।
বজ্রবিদ্যুৎ শুরু হলে খোলা মাঠ, গাছের নিচে অথবা বিদ্যুতের খুঁটির আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। গ্রামীণ এলাকায় জমিতে কাজ করা মানুষদের আবহাওয়া খারাপ হলে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
বিশেষ করে আকাশে একটানা বিদ্যুৎ চমকানো এবং প্রবল বজ্রধ্বনি শোনা গেলে খোলা এলাকায় থাকা এড়িয়ে চলতে হবে।
রাঁচি ও জামশেদপুরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবহাওয়া পুরোপুরি পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা নেই। রাঁচিতে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ, ঝোড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। জামশেদপুরেও এই সময় মেঘ ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্যে বৃষ্টির এই পর্বের পেছনে মৌসুমী ব্যবস্থা এবং বায়ুমণ্ডলে থাকা আর্দ্রতার ভূমিকা থাকে। মৌসুমের শেষ পর্যায়েও বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকা থেকে আসা আর্দ্রতার কারণে ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এর ফলে একই জেলার বিভিন্ন অংশেও বৃষ্টির তীব্রতা আলাদা হতে পারে। আবহাওয়া দফতর সাধারণত স্থানীয় স্তরে জারি করা সতর্কতা ও পূর্বাভাস বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দেয়।
আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রায় খুব বেশি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। মেঘ ও বৃষ্টির কারণে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকতে পারে। রাঁচিতে ১৮ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩০-৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২-২৩ ডিগ্রির আশপাশে থাকতে পারে।
আগামী কয়েক দিন আবহাওয়ার দিকে নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে ভ্রমণকারীদের বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বের হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
দুই চাকার গাড়ির চালকদেরও বৃষ্টির সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে রাস্তায় দৃশ্যমানতা এবং গাড়ির নিয়ন্ত্রণ প্রভাবিত হতে পারে।
গ্রামীণ এলাকায় বৃষ্টির সময় নদী, নালা, পুকুর এবং জল জমে থাকা এলাকার আশপাশে যাওয়া এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। টানা বৃষ্টির পরিস্থিতিতে ছোট জলাশয়ের জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।
এছাড়া জমি বা কাঁচা রাস্তায় জল জমলে যাতায়াতও প্রভাবিত হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও এলাকার জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হলে তা মেনে চলতে হবে।
ঝাড়খণ্ডে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আজ ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। রাঁচি ও জামশেদপুরসহ রাজ্যের একাধিক এলাকার পূর্বাভাসে বৃষ্টি ও ঝড়ো পরিস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকা এবং বজ্রপাত বা ঝোড়ো হাওয়ার সময় নিরাপদ স্থানে থাকার প্রয়োজন রয়েছে।












