খড়গপুরে বিমানবন্দরের স্বপ্নে নতুন জোর! কলাইকুণ্ডা ঘিরে বড় আশ্বাস দিলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

কলাইকুণ্ডা বিমানঘাঁটিকে ঘিরে বেসামরিক বিমানবন্দর তৈরির সম্ভাবনা উজ্জ্বল। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের আশ্বাসে খড়গপুর-সহ তিন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষের মধ্যে বাড়ছে আশা।

দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা Kalaikunda Air Force Station-কে কেন্দ্র করে বেসামরিক বিমানবন্দর গড়ার দাবি ফের নতুন করে জোর পেল। খড়গপুরে এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দা ও মন্দির কমিটির প্রতিনিধিদের দাবিপত্র গ্রহণ করে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী Dilip Ghosh। ফলে বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে বলে আশাবাদী এলাকার মানুষ।

কলাইকুণ্ডাকে ঘিরে বাড়ছে প্রত্যাশা

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার Kharagpur দীর্ঘদিন ধরেই শিল্প, শিক্ষা ও রেল যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে অবস্থিত Indian Institute of Technology Kharagpur, বৃহৎ রেল পরিকাঠামো এবং শিল্পাঞ্চল প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের প্রয়োজন তৈরি করে। সেই কারণেই বিমানবন্দরের দাবি নতুন নয়। তবে এবার প্রশাসনিক স্তরে ইতিবাচক বার্তা মেলায় আশা আরও বেড়েছে।

৩০ লক্ষ মানুষের উপকারের সম্ভাবনা

মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, কলাইকুণ্ডাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার একাধিক জেলার প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ বসবাস করেন। বিমানবন্দর চালু হলে শুধু Paschim Medinipur বা Jhargram নয়, পাশাপাশি Purulia, Bankura এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যের বহু মানুষও দ্রুত বিমান পরিষেবার সুবিধা পাবেন।

জমি জটই কি প্রধান বাধা?

সূত্রের খবর, বিমানবন্দর প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৩৮.২৫ একর অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন। এই জমি অধিগ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়াই এতদিন প্রকল্পের অগ্রগতির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে Airports Authority of India এবং রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।

সংসদ থেকে প্রশাসন— একাধিক স্তরে উঠেছে দাবি

কলাইকুণ্ডা বিমানবন্দরের বিষয়টি আগে সংসদেও উত্থাপিত হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংসদ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন বহুবার কেন্দ্র ও রাজ্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলার অর্থনৈতিক বিকাশ এবং পর্যটনের সম্ভাবনা বাড়াতে বিমানবন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলতে পারে বিমানবন্দর

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দর চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা ও শিল্পক্ষেত্রে নতুন গতি আসবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে। খড়গপুর ও সংলগ্ন অঞ্চলের দীর্ঘদিনের এই দাবি বাস্তবায়িত হলে তা গোটা অঞ্চলের উন্নয়নের অন্যতম মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।

দীর্ঘদিনের দাবি এবার কি বাস্তবের পথে? কলাইকুণ্ডা সামরিক বিমানঘাঁটিকে ঘিরে বেসামরিক বিমানবন্দর তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী সুর শোনা গেল মন্ত্রী Dilip Ghosh-এর কণ্ঠে। বিমানবন্দর চালু হলে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার বিস্তীর্ণ এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a comment